×

সারাদেশ

শাল্লা

আ.লীগের কোন্দলের সুযোগ নিচ্ছেন বিএনপি নেতা

Icon

প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

জয়ন্ত সেন, শাল্লা (সুনামগঞ্জ) থেকে : শাল্লায় প্রথম ধাপের ৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনীতির মারপ্যাঁচে পড়েছেন আওয়ামী লীগের ত্যাগী প্রার্থীরা। যদিও এ বছর হলফনামায় আওয়ামী লীগ-বিএনপি সব প্রার্থী স্বতন্ত্র হিসেবেই পরিচিত। উপজেলা আওয়ামী লীগের কোন্দলের সুযোগ নিতেই উপজেলা বিএনপির সভাপতি গনেন্দ্র চন্দ্র সরকার স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অমান্য করে। অন্যদিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ দ্ব›েদ্ব দলীয় আদর্শ, শৃঙ্খলার বাইরে গিয়ে ভোটের মাঠে বিএনপির বহিষ্কৃত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এমনই স্পষ্ট কথা বললেন উপজেলা কৃষক লীগের আহ্বায়ক রণজিৎ কুমার দাস। তিনি নিজেও কাজ করছেন সদ্য উপজেলা বিএনপির সভাপতি থেকে বহিষ্কৃত নেতা গনেন্দ্র চন্দ্র সরকারের আনারস প্রতীকের পক্ষে কাজ করছেন বলে জানালেন। তিনি বলেন আওয়ামী লীগের বেশির ভাগ নেতাকর্মীই আনারসের পক্ষে। আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকও আনারসের পক্ষে। তিনি আরও বলেন, গনেন্দ্র চন্দ্র সরকার সতন্ত্র প্রার্থী। এখানে আওয়ামী লীগ-বিএনপি নেই। দলের সিদ্ধান্তকে অমান্য করে শাল্লা উপজেলা বিএনপির সভাপতি গনেন্দ্র চন্দ্র সরকার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় গত ২৬ এপ্রিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপির) সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে তাকে শাল্লা উপজেলা বিএনপির সভাপতির পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। তবুও নির্বাচনী মাঠে আনারস প্রতীকে লড়াই করতে মরিয়া বিএনপির বহিষ্কৃত সভাপতি গনেন্দ্র চন্দ্র সরকার। তার বিপরীতে সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি অ্যাডভোকেট অবনী মোহন দাস ঘোড়া প্রতীক নিয়ে রয়েছেন নির্বাচনী লড়াইয়ের মাঠে। কিন্তু আওয়ামী লীগের এই সাবেক সহসভাপতি অবনী মোহন দাসের ঘোড়া প্রতীকের পক্ষে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে দেখা যায়নি। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক বিকাশ রঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, বিএনপির বহিষ্কৃত সভাপতি গনেন্দ্র চন্দ্র সরকারের পক্ষে কৃষক লীগ কেন কাজ করবে। বিষয়টি নিয়ে আমরা শীঘ্রই বসব। কেউ দলীয় আদর্শ, শৃঙ্খলা পরিপন্থি কাজ করলে উপজেলা কমিটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিবে। উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক অরিন্দম চৌধুরী বলেন, শুনেছি শাসখাই বাজারে বিএনপির বহিষ্কৃত সভাপতি গনেন্দ্র চন্দ্র সরকারের আনারস প্রতীকের পক্ষে একটি চায়ের দোকান উদ্বোধন করেছেন কৃষক লীগের আহ্বায়ক রণজিৎ কুমার দাস। বিষয়টি আমাদের জন্য লজ্জার। আর আওয়ামী লীগের বেশির ভাগ নেতাকর্মী বিএনপির প্রার্থী গনেন্দ্র চন্দ্র সরকারের পক্ষে এই কথা বলার সাহস কোথা থেকে পেলেন তিনি। এটা দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের শামিল। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক এমদাদুল হক বলেন যারা আগুন সন্ত্রাস নিয়ে খেলে সেই দলের একজন প্রার্থীর পক্ষে উপজেলা আওয়ামী লীগ কখনো কাজ করতে পারে না। যদি কেউ বলে তাহলে বুঝতে হবে তিনি আওয়ামী লীগের কেউ নন। এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ (আল আমিন) বলেন, এটি সঠিক নয়। আমরা দিপু রঞ্জন দাশের সঙ্গে। কৃষকলীগের দায়িত্বশীল কেউ এ কথা বলতে পারেন না। বিএনপি জাতীয় নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় আমি ফেলই করলাম। এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ জেলা কৃষক লীগের আহ্বায়ক আব্দুল কাদির মিয়া বলেন, এখানে তো দলীয় কোনো পোস্ট নেই, নৌকার কোনো প্রার্থী নেই। আর বিএনপি তো নির্বাচনেই আসে নাই। এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল হুদা মুকুট বলেন, উপজেলা কৃষক লীগের আহ্বায়ক অবশ্যই এ কথা বলতেই পারেন না। তার উচিত ছিল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া। উল্লেখ্য, ৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে শাল্লায় চেয়ারম্যান প্রার্থী রয়েছেন ৪ জন। তাদের মধ্যে সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট অবনী মোহন দাস ঘোড়া প্রতীক, উপজেলা বিএনপির সদ্য বহিষ্কৃত সভাপতি ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান গনেন্দ্র চন্দ্র সরকার আনারস, অ্যাডভোকেট দিপু রঞ্জন দাশ মোটরসাইকেল ও এস.এম শামীম দোয়াত কলম প্রতীকে ভোটের মাঠে প্রচারণা করছেন। উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে ভোটার রয়েছে ৯১ হাজার ৩২৭ জন। এর মধ্যে ৪৬ হাজার ৯৭৯ জন পুরুষ ভোটার, নারী ভোটার ৪৬ হাজার ১৪৮ জন। ৮ মে প্রথম ধাপে ভোট অনুষ্ঠিত হবে উপজেলায়।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App