×

সারাদেশ

আলোচনা সভায় বক্তারা

প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলায় গণমাধ্যম সুরক্ষার বিকল্প নেই

Icon

প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ প্রতিবেদক : গণতন্ত্র নিশ্চিত করতে গেলে গণমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিতের কোনো বিকল্প নেই। বিশেষত, চলমান জলবায়ু সংকট ও প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলায় গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সুরক্ষা নিশ্চিতের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস-২০২৪ উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার ইউনেস্কো (ঢাকা অফিস ও রিজিওনাল অফিস-নিউ দিল্লি), ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এবং আর্টিকেল নাইনটিন-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত প্যানেল আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘বর্তমান বৈশ্বিক পরিবেশগত সংকটের প্রেক্ষাপটে মুক্ত গণমাধ্যম এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্য ও স¤প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত। আর্টিকেল নাইনটিন-এর আঞ্চলিক পরিচালক (বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়া) শেখ মনজুর-ই-আলম সভার সঞ্চালনা করেন। আলোচনায় আরো অংশ নেন ঢাকায় নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত অ্যালেক্সান্দ্রা বার্গ ফন লিন্ডে, বাংলাদেশে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি ও অফিস প্রধান সুজান ভাইজ। আলোচনা সভায় টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশ মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয়ের সম্মুখীন। কারণ, ক্রমবর্ধমান দস্যুতার মাধ্যমে ভূমি, নদী, খাল, জলাশয় দখল করা হয়েছে। সরকারের চোখের সামনে এসব করা হয়েছে। অন্যদিকে নগরায়ন ও শিল্পায়নের নামে পরিবেশ ধ্বংস করাকে স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত করা হয়েছে। আইন প্রয়োগকারী ও বিচার প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি গোষ্ঠী ওই আগ্রাসনে লাভবান ও সুরক্ষাকারী। ইফতেখারুজ্জামান বলেন, উন্নয়নের নামে পরিবেশ বিনষ্টের ঘটনাকে স্বাভাবিক রূপ দেয়ার চেষ্টা চলছে। ২০২২-২৪ পরিবেশ দূষণ প্রতিবেদন প্রকাশের কারণে ২৩টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার জেরে ৪৩ জন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। ২০১৬ সালে কয়লা প্রজেক্টে কমপক্ষে ১২ জন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। যাদের জমি দখল হয়েছে, সে ধরনের লোক প্রতিবাদ করে নিহত হয়েছেন। এটাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে স্বাভাবিকতার কাছাকাছি নিয়ে যাচ্ছে। সুজান ভাইজ বলেন, নির্ভরযোগ্য তথ্যই নয়, পেছনের ঘটনা বুঝতে হবে এবং এটা গুরুত্বপূর্ণ গণমাধ্যমকর্মীর জন্য। তিনি বলেন, কীভাবে পরিবেশ ও জলবায়ু নিয়ে কাজ করা গণমাধ্যমকে সহযোগিতা করতে পারি, সেটা বিবেচ্য। আমরা লজিস্টিক ও গবেষণাধর্মী সহযোগিতা করতে পারি। এক্ষেত্রে একটি গাইডলাইন হতে পারে। পরিবেশ বিজ্ঞানী ও গণমাধ্যম কর্মীদের মধ্যে ডায়ালগ হতে পারে। অ্যালেক্সান্দ্রা বার্গ ফন লিন্ডে বলেন, একাডেমি, পরিবেশ বিজ্ঞানী ও গণমাধ্যম কর্মীদের মধ্যে একটি ডায়ালগ হতে পারে, যা গণতান্ত্রিক প্ল্যাটফর্মকে শক্তিশালী করবে। স্থানীয় পর্যায়ে থেকে মিডিয়ার পরিবেশ নিয়ে কাজ করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, সাংবাদিকতা শুধু বাংলাদেশ নয়, ভারতেও চ্যালেঞ্জিং। সাংবাদিকরা বিপদে পড়লে কেউ পাশে থাকে না। শুধু লাইসেন্স দিয়ে সরকারকে বসে থাকলে চলবে না, মনিটরিং করতে হবে। এজন্য একটা সংস্থা তৈরি করতে হবে। টেলিভিশনের জন্য স¤প্রচার কমিশন গঠন করার দাবি জানান ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টারের চেয়ারম্যান রেজাউল হক রাজা। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও স¤প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত বলেন, সরকারের সমালোচনা করা সমস্যা নয়। সত্য তথ্যের ওপর ভিত্তি করে যে কোনো সমালোচনা করলে সেটা সরকার স্বাগত জানায়। যখন পরিকল্পিতভাবে অপতথ্যের প্রচার করা হয়, দেশের উন্নয়ন থামানোর জন্য সাংবাদিকতার অপব্যবহার করা হয়, অপতথ্য প্রচারের জন্য পরিবেশ ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়, সেটিই সমস্যা তৈরি করে। এক্ষেত্রে অপতথ্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সাংবাদিকতা বন্ধে সরকার, পেশাদার গণমাধ্যম এবং সুশীল সমাজ একসঙ্গে অংশীদার হয়ে কাজ করতে পারে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App