×

সারাদেশ

জ্বালানি সুবিচার চায় ক্যাব

‘অসাধু ব্যবসা সুরক্ষায় বিদ্যুৎ জ্বালানির মূল্য বাড়ানো হচ্ছে’

Icon

প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ প্রতিবেদক : অসাধু ব্যবসা সুরক্ষার জন্য দেশে বিদ্যুৎ-জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি করা হচ্ছে বলে দাবি করেছে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। ভোক্তা অধিকার সুরক্ষায় বিদ্যুৎ-জ্বালানির মূল্য না বাড়িয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধ করে ঘাটতি পূরণের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। ক্যাব বলেছে, বিদ্যুৎ-জ্বালানির মূল্য বাড়ানো এবং অস্বচ্ছতা, অনিয়ম, দুর্নীতি এক সঙ্গে চলতে পারে না। দাম বাড়িয়ে জ্বালানি সুবিচার সম্ভব নয়। অপচয় ও অনিয়ম কমালে বিদ্যুৎ ও তেলের দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হবে না। বিদ্যুৎ নিয়ে বিদেশিদের সঙ্গে চুক্তিগুলো অস্বচ্ছ। এগুলো নিয়ে সংসদে আলোচনা হওয়া উচিত। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির মিলনায়তনে কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (ক্যাব) আয়োজিত ‘অসাধু বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবসা সুরক্ষায় মূল্যবৃদ্ধি নয়, জ্বালানি সুবিচার চাই’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরে সংগঠনটি। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার না বাড়িয়ে আমদানি নির্ভর জ্বালানির ওপর নির্ভর করছে সরকার। ভর্তুকি তুলে নেয়া একমাত্র সমাধান নয়। দুর্নীতির কারণে জ¦ালানি খাতে যে ব্যয় বেড়েছে, তার সমাধানের জন্য জ্বালানির দাম সরকার বাড়িয়েছে। জ্বালানি খাতের চুরি, দুর্নীতি ও অপচয়ের দায় জনগণ কেন নেবে? প্রতিযোগিতাহীন বাজার তৈরি করে জ্বালানি খাত লুণ্ঠন করা হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ জ্বালানির দাম না বাড়িয়ে জ্বালানি সুবিচার নিশ্চিতে ১৩ দফা প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়। ক্যাব সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, ভর্তুকি তুলে নেয়া হোক তা আমরাও চাই। কিন্তু জ্বালানি খাতে সুবিচার অব্যাহত রাখতে হবে। ভর্তুকি কমাতে শুধু মূল্য বাড়ালেই হবে না। বিদ্যুৎ খাতের অপচয়, অসচ্ছতা, অনিয়ম, দুর্নীতি দূর করা হলে মূল্যবৃদ্ধির কোনো প্রয়োজন হবে না। ভর্তুকি এমনিতেই কমে আসবে। শুধু মূল্য বাড়িয়ে জ্বালানি সুবিচার নিশ্চিত অসম্ভব, সেদিকে সরকারকে লক্ষ্য রাখতে হবে। ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. শামসুল আলম ক্যাবের ১৩ দফা প্রস্তাবনা তুলে ধরে বলেন, সরকার এখন ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণের জন্য দিশেহারা হয়ে আইএমএফ এর পেছনে দৌড়াচ্ছে। সেখানে জনগণের স্বার্থ ও কল্যাণ তথা জ্বালানি নিরাপত্তা সুরক্ষা নিশ্চিত করা এখন আর সরকারের কাছে ততটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। তাই ভোক্তারা চরম উদ্বেগের মধ্যে আছে। এই অবস্থায় জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা হারানোর ভয়ে ভীত হয়ে আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই, অসাধু বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবসায় লাগাম টানুন, মূল্যবৃদ্ধি থেকে সরে আসুন, মানুষকে অভয় দিন। ক্যাবের দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- বিদ্যুৎ জ্বালানি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত উন্নয়নে প্রতিযোগিতাহীন যেকোনো ধরনের বিনিয়োগ আইন দ্বারা নিষিদ্ধ হতে হবে। গ্যাস উন্নয়ন তহবিল, বিদ্যুৎ উন্নয়ন তহবিল ও জ্বালানি নিরাপত্তা তহবিলের অর্থ যথাক্রমে বাপেক্সের গ্যাস অনুসন্ধান, পিডিবির বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জ্বালানি আমদানিতে ঋণ নয়, ভোক্তার ইকুইটি বিনিয়োগ হিসেবে গণ্য হতে হবে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতভুক্ত সরকারি ও যৌথ মালিকানাধীন সব কোম্পানির পরিচালনা বোর্ড থেকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উভয় বিভাগের সব আমলাদের প্রত্যাহার করতে হবে। মুনাফা ব্যতীত কস্ট বেসিসে ৫০ শতাংশের বেশি বিদ্যুৎ ও গ্যাস উৎপাদন সরকারের একক মালিকানায় হতে হবে। সরকার ব্যক্তি খাতের সঙ্গে যৌথ মালিকানায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবসা-বাণিজ্যে জড়িত হবে না এবং সরকারি মালিকানাধীন কোনো কোম্পানির শেয়ার ব্যক্তি খাতে হস্তান্তর করবে না; এটা আইন দিয়ে নিশ্চিত করতে হবে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উন্নয়নে সম্পাদিত সব চুক্তি বিধিবদ্ধ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পাদনের লক্ষ্যে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় অনুমোদিত মডেল চুক্তিমতে হতে হবে, তাহলে আদানির বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তির মত জনস্বার্থবিরোধী চুক্তি প্রতিরোধ করা যাবে। জ্বালানি নিরাপত্তা সুরক্ষার লক্ষ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্য হার বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের জন্য এনার্জি প্রাইস স্ট্যাবিলিস্ট ফান্ড গঠন করতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ইজাজ আহমেদ, অর্থনীতিবিদ এম এম আকাশ, বেসরকারি সংগঠন এলআইডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা উপস্থিত ছিলেন।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App