×

সারাদেশ

তাপপ্রবাহে বেড়েছে কৃষি শ্রমিকের সংকট

পানিশূন্য তিস্তা নদী, আওতা কমেছে বোরো ধান চাষের

Icon

প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

পানিশূন্য তিস্তা নদী, আওতা কমেছে বোরো ধান চাষের
লালমনিরহাট সংবাদদাতা : খরস্রোতা তিস্তা নদী এখন পানিশূন্য হয়ে পড়েছে। এতে নদীপাড়ের এলাকায় বোরো ধান চাষের আওতা কমেছে। এছাড়া তাপপ্রবাহের কারণে কৃষি কাজে শ্রমিকের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গরমে এবার এমন সমস্যায় কৃষিতে নতুন সংকট দেখা দিয়েছে। এদিকে তিস্তার চরের বালুর উত্তাপ ছড়িয়েছে পুরো উত্তরাঞ্চলে। নদীপাড়ের জনবসতির বায়ুতে এখন শুধু ধূলিকণা। এতে শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগবালাই আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে চলছে। জানা গেছে, তিস্তা নদী বাংলাদেশে নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলার বুক চিড়ে প্রায় ১৩৫ কিলোমিটারজুড়ে প্রবাহিত। এই নদীতে ১৯৮৯ সালেও প্রতি মাসে গড়ে প্রায় আড়াই হাজা থেকে ৫ হাজার কিউসেক পানি প্রবাহ থাকত, এখন যা শূন্যের কোটায়। ১৯৮৯ সালে জেলার হাতীবান্ধার দোয়ানিতে তিস্তা ব্যারেজ নির্মাণ করা হয়। এই ব্যারেজটি ছিল মূলত দেশের বৃহত্তম পানি সেচ প্রকল্প। দেশের প্রথম কোনো বৃহত্তর রাষ্ট্রীয় প্রকল্প ছিল এটি। রংপুর, নীলফামারী ও দিনাজপুর জেলার ১২টি উপজেলার ৯১ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ দিতে সক্ষম প্রকল্পটি। কিন্তু শুরুতেই হোঁচট খায়। ৭৯ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ দিয়ে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। এরপর ধারাবাহিকভাবে প্রতি বছর সেচের আওতা কমিয়ে আনতে বাধ্য হয়েছে তিস্তা ব্যারেজ সেচ প্রকল্প। সেচ কার্যক্রম কমিয়ে আনার পেছনে একটাই কারণ, তিস্তা নদীতে পানিপ্রবাহ দিন দিন কমেছে। এ বছর মাত্র ১২ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ দেয়া গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, তিস্তা নদীর উজান থেকে পানির প্রবাহ কম আসায়, সেচযোগ্য জমির আওতা কমানো হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া ডিভিশনের কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তার দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালে ৭০ হাজার হেক্টর জমিতে তিস্তা সেচ প্রকল্প থেকে সেচ দেয়া হয়। পরের বছর সেচ দেয়া হয় ২৫ হাজার হেক্টরের কম জমিতে। ২০১৫ সালে ৯ হাজার ৮৬০ হেক্টর, ২০১৬ সালে ১১ হাজার ৪৫০ হেক্টর, ২০১৭ সালের ৩০ মার্চ পর্যন্ত ২০ হাজার ২২০ হেক্টর জমিতে সেচ দেয়া হয়েছে। এদিকে একটি সূত্র দাবি করেছে, কয়েক বছর ধরে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও উন্নয়ন কাজ চলছে তিস্তা প্রকল্পে। প্রায় কয়েক হাজার কোটি টাকা খরচ করে ব্যারেজকে কার্যকর করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ব্যারেজ কার্যকরের নামে চলছে হরিলুট। দুর্নীতি হয়েছে হাজার কোটি টাকার। সেচ প্রকল্প এলাকায় খাল, নালা সংস্কার করার কয়েক মাস যেতে না যেতেই গত বর্ষায় ভেঙে গেছে। কৃষকের শতকোটি টাকার ফসল বর্ষা মৌসুমে জলে ভেসে গেছে। কৃষক রমজান আলী (৫৫) বলেন, তিস্তা ব্যারেজের খাল, নালা সংস্কারের কাজ অত্যন্ত নিম্নমানের হয়ে থাকে। দায়সারা গোছের কাজ। এভাবে প্রতি বছর হাজার কোটি টাকা লোপাট হয়ে আসছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সূত্রে জানা গেছে, তিস্তা সেচ প্রকল্প সচল রাখতে শুষ্ক মৌসুমে ১০ হাজার কিউসেক পানি প্রবাহ প্রয়োজন। কিন্তু ১০ হাজার কিউসেক পানি উজান হতে পাওয়া যাচ্ছে না। শুষ্ক মৌসুমে ৫০০ কিউসেক পানি প্রবাহ উজান থেকে আসে না। তাদের দাবি ১০ হাজার কিউসেক পানি পেলে তিস্তা ব্যারেজ সেচ প্রকল্প তার লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারত। কয়েক বছর ধরে তিস্তা নদীতে শুষ্ক মৌসুমের প্রথম তিন মাস পানি প্রবাহ ছিল সর্বনিম্ন ৯০০ কিউসেক থেকে সর্বোচ্চ তিন হাজার কিউসেক। গত দুই বছর ধরে ৫০০ কিউসেক থেকে সর্বনিম্ন এক হাজার একশত কিউসেক পানি প্রবাহ থাকে। ২০২৩ সালে এপ্রিল মাসের শুরুতে অস্বাভাবিক হারে পানি আসতে থাকে। ৪ এপ্রিল পর্যন্ত তা ৬০ হাজার কিউসেক পর্যন্ত অতিক্রম করে ছিল। চলতি বছর এখনো তিস্তা নদীতে কোনো পানি প্রবাহ আসেনি। পশ্চিমবঙ্গে ও বাংলাদেশে খরা চলছে, তাই এ বছর মে মাসে তিস্তা নদীর উজানি ঢল আসেনি। মহিষখোচা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোছাদ্দেক হোসেন চৌধুরী বলেন, বর্ষায় নদীতে থাকে অস্বাভাবিক পানি। শুষ্ক মৌসুমে কোনো পানি থাকে না, যার ফলে তিস্তা নদী তার নাব্য হারিয়ে ফেলেছে। বন্যা নদীভাঙন বর্ষা মৌসুমে তিস্তা পাড়ের মানুষের নিত্যসঙ্গী। লালমনিরহাট কৃষি বিভাগের উপপরিচালক ডা. মো. সাইখুল আরিফিন বলেন, তিস্তা নদীর পাড়ে বা চরে পানি সমস্যা কিছুটা রয়েছে। তবে সার্বিকভাবে জেলার কৃষি পরিস্থিতি ভালো। তাপদাহের কারণে ফসল পরিচর্চা কিছুটা বিঘিœত হয়েছে। তাতে উৎপাদন সামান্য কমতে পারে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App