×

সারাদেশ

অনিয়ম ঢাকতে রাতের আঁধারে তড়িঘড়ি কাজ

Icon

প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

অনিয়ম ঢাকতে রাতের  আঁধারে তড়িঘড়ি কাজ
বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধি : প্রকল্পের কাজ শেষ না করেই অর্থ উত্তোলনের খবর গণমাধ্যমে বের হওয়ার পর রাতের আঁধারে চলছে এসব প্রকল্পের কাজ। আগের অনিয়ম ঢাকতে তড়িঘড়ি করে শুরু করা এসব প্রকল্প নিয়ে আবারো ওঠেছে অনিয়মের অভিযোগ। এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত খবর বের হলে নানা মহলে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। সরকারি বিধি না মেনে ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রকল্প শুরুর আগেই অর্থ তুলে নেয়া ৩টি প্রকল্পের কাজ ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। তবে, প্রকল্প বাস্তবায়নে থাকা কমিটিকে এবারো রাখা হয়েছে প্রকল্পের বাইরে। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের কেনাকাটা থেকে শ্রমিকের মজুরি দেয়া সবই করছেন ইউএনও অফিসের উপসহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সংযুক্ত) বজলুর রশিদ। সরজমিন বাগাতিপাড়া উপজেলা চত্বরের এসব প্রকল্প ঘুরে দেখা যায়, ইউএনও অফিসের উত্তর পাশে ২ লাখ টাকা বরাদ্দে গাড়ি পার্কিং উন্নয়ন প্রকল্পস্থলে দেয়াল তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। অনিয়ম ঢাকতে গত শনিবার মধ্য রাতে শেষ করা হয় পার্কিং এলাকার মেঝে ঢালায়ের কাজ। অপরদিকে, ইউএনওর বাসভবনের প্রধান ফটকসংলগ্ন স্থানে শুরু হয়েছে ১ লাখ টাকা ব্যয়ে আনসার শেড নির্মাণ ও ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দে পুকুরের প্যালা সাইডের নির্মাণকাজ। প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা নির্মাণশ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কাজ আরো আগে শেষ করার কথা থাকলেও শেষ না হওয়ায় রাতেই মেঝে ঢালাইয়ের কাজ করা হচ্ছে। এছাড়া, দুটি প্রকল্পে ৪০ হাজার টাকা মজুরিতে উপসহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সংযুক্ত) বজলুর রশিদ তাদের এ কাজের দায়িত্ব দিয়েছেন। এসব নির্মাণকাজে প্রয়োজনীয় নির্মাণসামগ্রীও সরবরাহ করছেন বজলুর রশিদ। উপজেলা চত্বরে চলমান গাড়ি পার্কিং উন্নয়ন প্রকল্পের সভাপতি ও বাগাতিপাড়া সদর ইউপি সদস্য আব্দুল্লাহ শেখ বলেন, ‘কাজ ইউএনও অফিসই করছে। টাকা যেহেতু তাদের হাতে, প্রকল্পের কেনাকাটা তারাই করছেন। খরার জন্য হয়তো রাতে কাজ করতে পারে। ইউএনও এবং পিআইও অফিসই আমাদের অন্যান্য কাজের ছাড়পত্র দেয়, তাই তারা নিজেরা কাজ করলে হয়তো ভালোই হবে।’ কাগজে কলমে অনেক দায়িত্ব থাকলেও বাস্তবে উপজেলা চত্বরে প্রকল্প ঘুরে দেখা ছাড়া তেমন কোনো দায়িত্বে নেই বলে জানান তিনি। ইউএনও কার্যালয়ের উপসহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সংযুক্ত) বজলুর রশিদ বলেন, ‘কাজ বিকালে শুরু হয়েছিল। পানির মোটর নষ্ট হওয়ায় সেটা ঠিক করে কাজ শেষ করতে কিছুটা দেরি হয়েছে।’ প্রকল্পের সভাপতিকে বাদ দিয়ে নিজে প্রকল্পের কেনাকাটা ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পিআইও স্যারের সঙ্গে কথা বলে ইউএনও স্যার কাজ করছেন। সভাপতিদের সঙ্গে স্যার কথা বলেছেন, কিনা আমি জানি না। টিআর, কাবিখার কাজ এমপি চেয়ারম্যানরা করলে কিছুই করে না। কিন্তু, ইউএনও করলে সেটা একশত ভাগের বেশি করতে হয়।’ বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাইমেনা শারমীন বলেন, ‘রাতে কাজের বিষয়ে পরিপত্র দেখে বলতে হবে।’ এছাড়া মোবাইল ফোনে এ বিষয়ে অন্য কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি এই কর্মকর্তা।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App