×

সারাদেশ

উপকূলবাসীর ভয়াল স্মৃতি জাগানিয়া দিন আজ

৫৩৪ সাইক্লোন সেল্টারের শতাধিক অবৈধ দখলে

Icon

প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

সৈয়দুল কাদের, কক্সবাজার থেকে : কক্সবাজার উপকূলীয় মানুষ ভুলে যাননি ২৯ এপিলের প্রলঙ্ককারী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ¡াসের কথা। আজ সোমবার ভয়াবহ সেই দিন। এপ্রিল মাস শুরু হলেই শোকের ছায়া এসে জমা হয় স্বজন হারানো উপকূলবাসী মানুষের মধ্যে। অনেক পরিবারে কান্নার রোল পড়ে যায়। উপকূল এলাকা এখনো ঝুঁকিপূর্ণ। জেলায় ৫৩৪টি সাইক্লোন সেল্টারের মধ্যে শতাধিক প্রভাবশালীদের অবৈধ দখলে রয়েছে। অন্য সাইক্লোন সেল্টারগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। গত ১৪ বছরে কক্সবাজারের উপকূল এলাকায় অন্তত ৭৫টি সাইক্লোন সেল্টার-কাম-বিদ্যালয় নির্মিত হলেও তা পর্যাপ্ত নয় বলে মনে করেন উপকূলে বসবাসরত মানুষ। এছাড়া অবৈধ দখলে থাকা সাইক্লোন সেল্টারগুলো দখলমুক্ত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হয়নি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ । ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের প্রলঙ্ককারী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ¡াস ভুলে যাননি উপকূলীয় লোকজন। ভয়াল ঘূর্ণিঝড়ের পর উপকূল এলাকায় সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার উদ্যোগে ৫৩৪টি সাইক্লোন সেল্টার নির্মাণ করা হয়। কিন্তু এগুলোর মধ্যে বর্তমানে শতাধিক সাইক্লোন সেল্টার অবৈধ দখলে রাখা হয়েছে। বাকিগুলোও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় ব্যবহার করতে ভয় পান উপকূলের মানুষ। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় প্রভাবশালীরা সাইক্লোন সেল্টার দখল করে কেউ বানিয়েছেন গোয়াল ঘর, কেউ বসতবাড়ি। উপকূলীয় এলকার কয়েকটি ইউনিয়নে জোয়ার-ভাটা লেগেই থাকে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ইউনিয়ন মাতারবাড়ি। এ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস এম আবু হায়দার বলেন, ৯১ সালের প্রলঙ্ককারী জলোচ্ছ¡াসের স্মৃতি মনে পড়ে। এতে ধলঘাটা-মাতারবাড়ির অধিকাংশ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রায় ৯০ ভাগ পরিবারের কেউ না কেউ মারা যান। মৃতের সঠিক কোনো হিসাব না থাকলেও স্থানীয়দের হিসাবে প্রায় ৭ হাজার ছাড়িয়ে যাবে। এপ্রিল মাস শুরু হলে উপকূলীয় মানুষ শোকাকুল হয়ে পড়েন। ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ¡াস ৩৩ বছর আগে হলেও তাতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ এখনো ক্ষতি পুষিয়ে আনতে পারেনি। তিনি আরো বলেন, ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী সময়ে যেসব সাইক্লোন সেল্টার তৈরি করা হয়, তার অনেকগুলো বেদখলে এবং বাকিগুলো ব্যবহার উপযোগী নয়। সুতরিয়া বাজারের ও সরাইতলার সাইক্লোন সেল্টার নেই। ঘূর্র্ণিঝড়-জলোচ্ছ¡াসে মা, বাবা, চাচা ও দাদি হারনো ধলঘাটার সিকদার পাড়ার শওকত আলী বলেন, ভয়াল ঘূর্ণিঝড়ে আমার পরিবারের জন মারা যান। এতে আমাদের বদুয়ার পাড়ায় ১৬৫ জনের মধ্যে ১২৫ জন মারা যান। একটি পরিবার ছাড়া অন্য সব পরিবারের একাধিক সদস্যের মৃত্যু হয়। আমরা স্বজন হারানোর কষ্ট নিয়ে বেঁচে আছি। কুতুবদিয়ার আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম সিকদার বলেন, ৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের স্মৃতি এখনো কাঁটা ঘাঁয়ের মতো দগদগ করছে। ঘূর্ণিঝড়ে বসতবাড়ি ও পরিবার-পরিজন হারিয়ে অনেকেই আর কুতুবদিয়ায় ফিরে আসেনি। ঘুর্ণিঝড়ের থাবায় কুতুবদিয়ার মানচিত্র পর্যন্ত বদলে গেছে। মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিকি মারমা বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় এলাকায় সাইক্লোন সেল্টার আছে কি না যাচাই করা হবে। কেউ অবৈধ দখল করে থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আশেক উল্লাহ রফিক এমপি বলেন, ঘটে যাওয়া ভয়াল ঘূর্ণিঝড়ের দিনটি উপকূলবাসীর জন্য শোকাবহ একটি দিন। সেদিন প্রায় ৫০ হাজার মানুষ মারা যায়। স্বজন হারানো মানুষগুলোর প্রতি জানাই গভীর সমবেদনা। আশা করি অচিরেই মহেশখালী ও কুতুবদিয়া পুরোপুরি সুরক্ষিত হবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App