×

সারাদেশ

ঝালকাঠিতে সবজি বিক্রির টাকায় মসজিদ নির্মাণ

Icon

প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ঝালকাঠিতে সবজি বিক্রির  টাকায় মসজিদ নির্মাণ
মো. নাঈম হাসান ঈমন, ঝালকাঠি (শহর) থেকে : ঝালকাঠি শহরের বিভিন্ন জায়গায়তে ভ্যানগাড়িতে করে সবজি বেচেন হারুন অর রশীদ হাওলাদার। তার বয়স ৬৮ বছর। এই বৃদ্ধ ত্রিশ বছর সবজি বিক্রি করেছেন। সবজি বেচার টাকায় তার ছয় সদস্যের সংসার চলে। তার স্বপ্ন ছিল সবজি বেচার টাকা জমিয়ে একদিন হজ করবেন। তাই অল্প অল্প সঞ্চয় তিনি জমাতে থাকেন হজ করার জন্য। পরে তিনি চিন্তা করে দেখলেন যদি হজ করেন তাহলে তার একার সওয়াব হবে। কিন্তু যদি একটা মসজিদ নির্মাণ করেন, সেখানে এলাকার বহু মানুষ নামাজ পড়তে পারবেন। এই চিন্তা থেকে জমানো টাকা দিয়ে তিনি হজ না করে ৩ বছর আগে ৬ শতাংশ জমি কেনেন। জমি কিনতে লাগে ২ লাখ টাকা। এরপর ধীরে ধীরে ২ বছর ধরে প্রায় ৫ লাখ টাকা খরচ করে নিজেই তৈরি করলেন শাহী জামে মসজিদটি। হারুন অর রশীদ হাওলাদার ঝালকাঠি সদর উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের রামপুর এলাকার মৃত মেনাজ উদ্দিন হাওলাদারের ছেলে। হারুন অর রশীদ জানান, সবজি বেচে অল্প অল্প টাকা জমিয়ে রামপুর এলাকায় মসজিদের জন্য জমি কিনি। সেখানে একটি জামে মসজিদ নির্মাণ করেছি। ওই এলাকার আশপাশের কোনো গ্রামে মসজিদ না থাকায় সবাইকে বাউকাঠি বাজারের মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়তে হয়। বৃষ্টিপাত হলে মুসল্লিদের বাউকাঠি বাজারের মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়তে কষ্ট হয়। এর কারণে অনেকেই মসজিদে না গিয়ে বাড়িতে বসে নামাজ পড়েন। তাই চিন্তা করলাম হজে না গিয়ে সঞ্চিত টাকা দিয়ে এলাকার মানুষের জন্য মসজিদ তৈরি করি। তাতে এলাকার মানুষের নামাজ পড়ায় আর কোনো সমস্যা হবে না। তিনি আরো বলেন, শুরু থেকে এই মসজিদ নির্মাণের জন্য কোনো মানুষের সহযোগিতা নেয়া হয়নি। জমি কেনা থেকে মসজিদ নির্মাণ সবকিছুই আমার টাকায় হয়েছে। এখনো মসজিদের অনেক কাজ বাকি আছে। মসজিদের অজুখানা, খালে ঘাটলা, ফ্যান, মাইক, মসজিদের সামনে একটা বারান্দা। এছাড়া হুজুরের থাকার জন্য একটা রুম করতে হবে। যদি কেউ সহযোগিতা করে, তাহলে মসজিদের বাকি কাজগুলো করতে পারব। এবং বাচ্চাদের জন্য একটি মাদ্রাসা নির্মাণ করারও ইচ্ছে আছে। আশা রয়েছে, এসব করতে পারব বাকিটা আল্লাহ ভরসা। মসজিদের মুসল্লি জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, এই এলাকার আশপাশে কোনো মসজিদ নেই। যেটি আছে, সেখানে নামাজ পড়তে যেতে আসতে ২০ টাকা গাড়ি ভাড়া লাগে। হারুন ভাই আমাদের এখানে মসজিদ নির্মাণ করায় এলাকার মানুষের নামাজ পড়তে আর কষ্ট হবে না। গাড়ি ভাড়াও লাগবে না। মসজিদের আরেক মুসল্লি মিজানুর রহমান বলেন, হারুন ভাইর অর্থ সম্পদ নেই। তিনি একজন সামান্য সবজি বিক্রেতা হলেও অল্প অল্প করে টাকা জমিয়ে আল্লাহর ঘর মসজিদ তৈরি করছেন। এই এলাকায় অনেকেরই জমি আছে, টাকাও আছে। কিন্তু মন নেই, যেটা হারুন ভাইয়ের আছে। মানুষের অর্থ-সম্পদ থাকলেই হবে না। মনও থাকতে হবে, যেটা সবার মধ্যে নেই। আমরা তার জন্য দোয়া করি। আল্লাহ যেন তার মনের সব আশা পূরণ করেন। এ বিষয়ে ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আক্কাস আলী তালুকদার বলেন, আমার ওয়ার্ডে হিন্দু পরিবার বেশি। মুসলিম পরিবার কম। এই এলাকায় মসজিদ নেই। তাই তিনি সবজি বেচে মসজিদ তৈরি করছেন। এখনো মসজিদের অনেক কাজ বাকি। যদি কেউ সহযোগিতা করত, তাহলে মসজিদের পুরো কাজ শেষ করা সম্ভব হতো। এ বিষয়ে ৩ নম্বর নবগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মজিবুল হক বলেন, এটা তার একান্ত ব্যক্তি উদ্যোগে মসজিদ হয়েছে। এখানে পরিষদের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা সম্ভব নয়। ঝালকাঠি ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আবদুল কাইউম বলেন, সবজি বেচার টাকায় জমি কিনে মসজিদ নির্মাণ করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখেছি। তার মতো একজন সবজি বিক্রেতা হয়েও মসজিদ নির্মাণ করেছেন। এটা আসলেই একটি ভালো উদ্যোগ। এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App