×

সারাদেশ

ভেড়ামারায় পানির জন্য হাহাকার

ব্যাহত হচ্ছে সেচ কার্যক্রম, পুড়ছে ফসল

Icon

প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ব্যাহত হচ্ছে সেচ কার্যক্রম, পুড়ছে ফসল
ইসমাইল হোসেন বাবু, ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া) থেকে : ভেড়ামারায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর অস্বাভাবিকভাবে নেমে গেছে। এর ফলে খাল-বিল নদীনালাসহ কোথাও পানি নেই। গভীর নলকূপেও ঠিকমতো পানি উঠছে না। ফলে খাবার পানির জন্য চরম হাহাকার চলছে ভেড়ামারা পৌর এলাকাসহ উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে। ব্যক্তিগতভাবে স্থাপনকৃত নলকূপে পর্যাপ্ত পানি না পাওয়ায় এলাকাবাসী তাদের পানির চাহিদা মেটাতে ভিড় জমাচ্ছেন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের স্থাপনকৃত সাবমার্সিবল পাম্পযুক্ত নলকূপে। অনেকেই বাড়িতে ৩৫-৪৫ হাজার টাকা খরচ করে সাবমার্সিবল মেশিন বসাচ্ছেন। এদিকে তাপপ্রবাহের কারণে সড়ক-মহাসড়কের পিচ গলতে শুরু করেছে। এতে যানবাহন চলাচলে বিঘœ সৃষ্টি হচ্ছে। চরম সংকটে পড়েছেন কৃষক এবং খেটে-খাওয়া মানুষ। এখন কর্মহীন সময় কাটছে তাদের। জানা গেছে, ভেড়ামারা উপজেলায় ৩০ থেকে ৪০ ফুট নিচে নেমে গেছে পানির স্তর। নির্দিষ্ট স্তর থেকে ১৫-২০ ফুট নিচে নেমে যাওয়ার কারণে নলকূপ ও গভীর-অগভীর সেচযন্ত্রগুলোতে পানি উঠছে না। এ কারণে জমিতে সেচ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। তীব্র তাপপ্রবাহে পুড়ছে কৃষকের ফসল। পানির অভাবে ও চৈত্রের খরতাপে কৃষিজমি ফেটে চৌচির। পানির স্তর ভেড়ামারা শহরের পৌর এলাকায় ৩৩ ফুট, বাহাদুরপুরে ৩৪ ফুট, মোকারিমপুরে ৩৬ ফুট, চাঁদগ্রাম ও বাহিরচর ইউনিয়নে ৩৪ ফুটের নিচে নেমে গেছে। সরেজমিনে উপজেলার জুনিয়াদহ ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ নলকূপে পানি উঠছে না। ওই গ্রামের শাবানা খাতুন বলেন, গত দেড় মাস আগে পানির কোনো সমস্যা ছিল না। এক মাস হলো টিউবওয়েলের সঙ্গে মোটর বসিয়েছি, তাতেও পানি আসছে না। খাবার পানির জন্য এখন দূরের একটি মাঠের স্যালো মেশিন থেকে পানি আনতে হচ্ছে। চরদামুকদিয়ার রশিদা বেগম বলেন, এক জগ পানি তুলতে কমপক্ষে ২০ মিনিট সময় লাগছে। পানির সমস্যার কারণে খুব কষ্টে আছি। সাবমার্সিবল বসাতে ৪৫ হাজার টাকা জোগাড় করেছি গরু-ছাগল বিক্রি করে। এখন পাচ্ছি না পানির মিস্ত্রী। কল বসাতে চার্জ ৩ থেকে এখন ৭ হাজারে ঠেকেছে। পৌরসভার ফারাকপুর গ্রামের শামিমা আক্তার বলেন, আগে ২০-৩০ মিনিট মোটর চালালেই ট্যাঙ্ক পূর্ণ হয়ে যেত। ২০-২৫ দিন ধরে দুই-তিন ঘণ্টা মোটর চালালেও প্রয়োজনীয় পানি মিলছে না। ফলে নষ্ট হচ্ছে বৈদ্যুতিক মোটর। ভেড়ামারা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর বলছে, হস্তচালিত নলকূপে পানি তুলতে সর্বনিম্ন পানির স্তর প্রয়োজন হয় ২৫ ফুট। বৈরি আবহাওয়ার কারণে পানির স্তর নেমে গেছে ৩০ থেকে ৪০ ফুটে। এই কারণে নলকূপ থেকে পানি উঠছে না। পুকুর, জলাশয়ের পানি শুকিয়ে গেছে। হস্তচালিত ও মোটর পাম্পে পানি উঠবে কী করে? ভেড়ামারায় উপজেলা সহকারী পরিসংখ্যান কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, উপজেলায় শতকরা প্রায় ৯৬ জন লোক নলকূপের পানি পান করেন। কিন্তু উপজেলার প্রায় ২০ হাজার নলকূপের বেশির ভাগেই মিলছে না পানি। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ভেড়ামারা উপজেলায় সরকারি ও বেসরকারি মিলে এই উপজেলায় মোট ৪৫ হাজার নলকূপ রয়েছে। এর মধ্যে সরকারিভাবে আগের ৩ হাজার ১১০টি এবং নতুনভাবে ১৫৬টি মোট ৩ হাজার ২৬৬ নলকূপ বসানো হয়েছে। এর মধ্যে চালু রয়েছে ২ হাজার ৩১৯টি। অকেজো হয়ে আছে ৪৫০টি। দীর্ঘদিন বৃষ্টিপাত না হওয়ায় এসব এলাকায় পানির প্রাকৃতিক উৎসগুলোও ক্রমেই শূন্য হয়ে পড়ছে। খাল, বিল, জলাশয় ভরাট ও দখলের কারণে পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। বেশিরভাগ খালে পানি নেই। নদীগুলো এখন মৃতপ্রায়। এছাড়াও নিচু ও কৃষিজমি মাটি এবং বালু ফেলে ভরাট করে ফেলায় পানির স্তর অনেক নিচে নেমে গেছে। ভেড়ামারা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সাধারণত পানির স্তর ২৫ ফুট থাকলে নলকূপে পানি উঠবে। ভেড়ামারায় পানির স্তর হঠাৎ ৩০ থেকে ৪০ ফুট নিচে নেমে গেছে, যে কারণে অধিকাংশ নলকূপে পানি উঠছে না। গ্রীষ্ম মৌসুমে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App