×

সারাদেশ

মাসের ব্যবধানে তিনগুণ বেশি তরমুজের দাম

Icon

প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ প্রতিবেদক : দেশজুড়ে চলা তাপপ্রবাহের সুযোগে তরমুজের দাম বিভিন্ন অজুহাতে বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তারা আবার আগের মতো অতিরিক্ত দামে তরমুজ বিক্রি করছেন। তারা রোজার আগের সময়ের মতো রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় প্রতি কেজি তরমুজ বিক্রি করছেন ৬০ থেকে ১২০ টাকায়। রমজানের শুরুতে উচ্চ মূল্যের কারণে তরমুজ ‘বয়কট’ করেন সাধারণ ক্রেতারা। তখন বৃষ্টি হওয়ায় তাপমাত্রাও কমে আসে। জনপ্রিয় এই ফলের চাহিদাও কমে। অন্যদিকে বাংলাদেশ এগ্রি ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাফা) উদ্যোগে ‘কৃষকের পণ্য, কৃষকের দামে’ সেøাগান নিয়ে রাজধানীর পাঁচ স্থানে ন্যায্য মূল্যে বিক্রি শুরু করে। ফলে রমজানে কমে যায় তরমুজের দাম। রমজান মাসজুড়ে নিয়ন্ত্রণে ছিল দাম। তবে মাস পেরোতেই আবারো তিনগুণ বেশি দামে কিনতে হচ্ছে শরীরে পানির ঘাটতি দূর করা এই ফলটি। কিন্তু তরমুজ ‘বয়কট’ করার এক মাস না পেরোতেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র তাপপ্রবাহ। চলমান এই তাপপ্রবাহের সুযোগেই তরমুজের দাম বিভিন্ন অজুহাতে বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বিক্রেতারা বলছেন, তীব্র গরমে তরমুজের চাহিদা বেড়ে গেছে। তরমুজ মার্চের শেষ থেকে শুরু করে মে মাস পর্যন্ত থাকে। এটাই তরমুজের সিজন। এখন সিজনের শেষের দিকে। তাই সরবরাহও কমে যাওয়ায় দাম বেড়ে গেছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। গতকাল বুধবার রাজধানীর মৌচাক, পুরানা পল্টন, বাইতুল মোকাররম মসজিদের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দোকানে পিস হিসেবে তরমুজ বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। মাঝারি আকারের তরমুজের দাম জিজ্ঞেস করলে তারা দাম হাকায় ৪০০ টাকা। ওজন দিয়ে দেখতে চাইলে দেখা যায় ওই তরমুজের ওজন ৫ কেজি থেকে সামান্য বেশি। এক্ষেত্রে কেজি হয় ৮০ টাকা। তবে বিক্রেতারা জানান, তারা কেজি হিসেবে নয়, বিক্রি করেন পিস হিসেবে। মৌচাক মোড়ে ভ্রাম্যমাণ তরমুজ বিক্রেতা সাগর ভোরের কাগজকে বলেন, রমজানের চেয়ে তিনগুণ বেশি দামে তরমুজ কিনতে হচ্ছে। রোজায় যে তরমুজ (পিস) বিক্রি করেছি ১৫০ টাকায়, সেটা এখন বিক্রি করতে হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকায়। পাইকারি বাজার থেকেও আমাদের তিনগুণ বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। অতিরিক্ত দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে তিনি জানান, রোজায় বয়কট ও বৃষ্টির কারণে অনেক তরমুজ পচে গেছে। এখন মৌসুমও শেষ। তাই সরবরাহ কমে গেছে। অন্যদিকে গরমের কারণে চাহিদা বাড়ায় দাম বেড়ে গেছে। অন্যান্য ফলের দোকানে গিয়েও দেখা যায় একই চিত্র। তারাও মাঝারি আকারের তরমুজ বিক্রি করছেন ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায়। তরমুজের দাম কেন হঠাৎ বেড়ে গেল জানতে চাইলে এক বিক্রেতা বলেন, তরমুজের সিজন শেষের দিকে। তাই দাম এখন বেশি। এই এলাকার সব দোকানে তরমুজ পিস হিসেবে বিক্রি হলেও এক দোকানে গিয়ে দেখা যায় তারা কেজি দরে বিক্রি করছেন। কত করে কেজি জানতে চাইলে তারা জানান, প্রতি কেজি ১২০ টাকা। তার দোকানে থাকা তরমুজের ওজন সব ৫ কেজির ওপরে। এক্ষেত্রে ৫ কেজি ওজনের একটি তরমুজের দাম পড়ে ৬০০ টাকা। এক মাসও হয়নি তরমুজ বিক্রেতারা ৩০ টাকা কেজি দরে তরমুজ বিক্রি করেছেন। এখন হঠাৎ করে কেন এর দাম তিনগুণ হয়ে গেল- এই প্রশ্ন করলে তরমুজের বিক্রেতা শান্তিনগর মোড়ের মতিন বলেন, সিজন শেষের দিকে তাই দাম বেশি। আর সবসময় কি দাম কম থাকবে নাকি? কাস্টমাররা যেমন বন্ধ করছিল কেনা, এখন সেটা পোষায়ে নিতে হবে না! শাহজাহান নামের এক বিক্রেতার কাছে তরমুজের দাম জানতে চাইলে তিনি বলেন, বরিশালের তরমুজ ৬০ টাকা কেজি, আর খুলনার তরমুজ ৭০ টাকা কেজি। কিছুদিন আগে দাম কম ছিল। এখন কেন হঠাৎ বেড়ে গেল- এমনটা জানতে চাইলে তিনি বলেন, দাম কেন বেড়েছে তা আমার জানা নেই। কেনা বেশি পড়েছে বলেই বেশি দামে বিক্রি করি। এদিকে পল্টন এলাকায় ভ্যানে করে তরমুজ কেটে টুকরো করে প্রতি প্লেট ২০ টাকা করে বিক্রি করতে দেখা যায়। এখান থেকে তরমুজ কিনে খান পথচারী আহসান হাবিব। তিনি বলেন, ২০ টাকা করে প্লেট তরমুজ কিনেছিলাম। তার অর্ধেকই ছিল পচা। তারপর আরেক প্লেট কিনেছি সেটাও পচা ছিল। বিক্রেতা বলেছে ভালো হবে। দুই প্লেটই পচা ছিল। পরে তাকে দাম দিয়ে চলে এসেছি। গরমের মধ্যে আর কথা বাড়াতে চাইনি। রাজধানীর এসব বাজারে অনেক ক্রেতাকেই দেখা যায় দাম জিজ্ঞেস করে চলে যাচ্ছেন। পল্টন মোড়ে মাঝারি একটি তরমুজ কিনেন সাইদুল হক নিশান। তিনি জানান, ৪৫০ টাকা দিয়ে একটি তরমুজ কিনেন। ফিক্সড প্রাইজে কিনতে হয়েছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App