×

সারাদেশ

ডুমুরিয়া : ডায়াবেটিক ধানের বাম্পার ফলন

Icon

প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া (খুলনা) থেকে : খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার খর্নিয়া ইউনিয়নের টিপনা ব্লকের বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত ‘ডায়াবেটিক ধান’ এর বাম্পার ফলন হয়েছে। উপজেলায় ৮৪৫ হেক্টর জমিতে ‘ডায়াবেটিক ধান’ চাষ করা হয়েছে। ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. ইনসাদ ইবনে আমিন জানান, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে বিগত ৬ বছরের বেশি সময় ধরে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ২০২৩ সালের ২ মার্চ বোরো মৌসুমের জন্য উচ্চ ফলনশীল স্বল্প গøাইসেমিক ইনডেক্স (জিআই) বা ‘ডায়াবেটিক ধান’, ব্রি-ধান-১০৫ সারাদেশে চাষাবাদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে ২০২৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর উপজেলার খর্ণিয়া ইউনিয়নের টিপনা ব্লকের কৃষক শেখ মনজুর রহমান সম্পূর্ণ নতুন জাতের এই ধান চাষের জন্য তার বীজতলায় ১০৫ জাতের ১০ কেজি ধান বপন করেন। অন্যান্য বোরো ধান চাষের মতো বিভিন্ন প্রকার সার দিয়ে তার এক একর ১০০ শতাংশ জমি প্রস্তুত করে গত ১৫ জানুয়ারি ৩০ দিন বয়সি সেই ধানের চারা রোপণ করেন। ৩ মাসের মধ্যে খুলনা-সাতক্ষীরা সড়কের পাশে সেই ক্ষেতে উচ্চ ফলনশীল ১০৫ জাতের ধানের বাম্পার ফলন দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন আগ্রহী কৃষক ও কৃষিবিদরা। সরজমিন ওই ধানক্ষেতে গেলে আনন্দ চিত্তে কৃষক শেখ মনজুর রহমান বলেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইনসাদ ইবনে আমিনের পরামর্শ ও তাদের দেয়া বিভিন্ন প্রকার সার-বীজ নিয়ে আমি ব্রি ১০৫ জাতের ধান চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছি। অন্যান্য জাতের বোরো ধানের মতোই চাষাবাদ করেছি। তবে এ ধানে একবার পানির সেচ বেশি দিতে হয় এবং এক সপ্তাহ পরে কাটতে হয়। তবে ঝড়েও এ ধানগাছ নুয়ে পড়ে না। তিনি সবার সামনে একটা ধানের বাইল এনে তাতে ২১০টি ধানের দানা গুনে দেখিয়ে বলেন, অন্যান্য বোরো ধানের বাইলে সাধারণত ১৫০টি দানা। অর্থাৎ এই ধানের ফলনও বেশি। এ সময় সেখানে উপস্থিত পার্শবর্তী বিল পাবলা গ্রামের চাষি শিশির কুমার মন্ডল জানান, ডায়াবেটিক ধানের ফলন যেহেতু বেশি আগামীতে আমরাও এই ধান চাষ করব। ‘ডায়াবেটিক ধান’ বা ব্রি-ধান ১০৫ এর বৈশিষ্ট প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে বলা হয়েছে, এই ধানের গুণগতমান ভালো, চালের আকৃতি মাঝারি চিকন। এর জিআইর মান ৫৫ হওয়ায়, এটাকে লো-জিআই ধান বা ডায়াবেটিক রাইস বলা যায়। অন্যান্য জাতের তুলনায় এর ফলনও বেশি। ১ থেকে ২০ অগ্রহায়নের মধ্যে এই ধানের বীজতলা তৈরি করা এবং বীজতলা তৈরির ৩৫ থেকে ৪০ দিনের মধ্যে চারা রোপণ করতে হবে। এর জীবনকাল ১৫০ দিন। ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অতিরিক্ত কর্মকর্তা ওয়ালিদ হোসেন বলেন, অন্যান্য ধানের তুলনায় ‘ডায়াবেটিক ধান’ এ গøুকোজের (মিষ্টি) পরিমাণ কিছুটা কম বলে এর ভাতে ডায়াবেটিক রোগ বিস্তার বা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। আমাদের চেষ্টায় ডুমুরিয়ায় চাষ করে খুব ভালো ফলন হয়েছে। আগামিতে এই ক্ষেতের ধান থেকেই বীজ তৈরি করে চাষিদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। আশা করছি, ডুমুরিয়া এলাকার কৃষকরা মনজুরের সাফল্য দেখে ব্রি-১০৫ ধান চাষে এগিয়ে আসলে তাদের ও দেশের উপকার হবে। ডুমুরিয়া উপজেলার এস পিপি ও পরানজয় বলেন, ডুমুরিয়া উপজেলায় ২১ হাজার ৮শ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে। তার ভেতরে ডায়াবেটিক ধানের চাষ হচ্ছে ৮৪৫ হেক্টর।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App