×

সারাদেশ

তীব্র তাপপ্রবাহ

মাগুরা সদর হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর ভিড়

Icon

প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

দীপক চক্রবর্তী, মাগুরা থেকে : তীব্র তাপপ্রবাহে পুড়ছে মাগুরা। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো এ অঞ্চলেও প্রতিদিনই বাড়ছে তাপদাহ। বৈশাখের খরতাপে হাঁসফাঁস প্রাণিকুল। প্রতিদিনই ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে তাপপ্রবাহ। ফলে তাপদাহে পুড়ছে মাঠ-প্রকৃতিসহ প্রাণিকুল। কোথাও কোনো স্বস্তি নেই এই গরমে। তাপদাহ বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে ডায়রিয়া ও শ্বসকষ্টে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধরা। ফলে মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে বেড়েই চলছে রোগীর সংখ্যা। সরজমিন মাগুরা সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, শিশু ওয়ার্ডে রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। অনেকে সিট না পেয়ে অবস্থান নিয়েছেন মেঝেতে। শ্বাসকষ্টজনিত কারণে শিশুদের পাশাপাশি বেড়েছে বয়স্ক রোগীর সংখ্যা। এদিকে শিশু ওয়ার্ডে ঠিক মতো বিদ্যুৎ না থাকায় হাতপাখা দিয়ে চলছে বাতাসের কাজ। জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই মাগুরা ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালে শিশু ও অন্য ওয়ার্ডগুলোতে তীব্র গরমের কারণে হাসপাতালে বাড়ছে শিশু রোগীর সংখ্যা। অতিরিক্ত গরমে আক্রান্ত রোগীদের ভিড় বাড়ছে। গত এক সপ্তাহের মধ্যে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া রোগীর সংখ্যা বেশি মাত্রায় বাড়তে শুরু করছে হাসপাতালে। এর মধ্যে রোগীর চাপ সামলাতে হাসপাতালের ওয়ার্ডে ডায়রিয়ার রোগীর জন্য শয্যার ব্যবস্থা করতে রীতি মতো হিমসিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। তাই অনেকে বাধ্য হয়ে ওয়ার্ডের বাইরে মেঝেতে থাকছেন রোগীরা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য মতে, বর্তমানে ভর্তি আছে ৪৩৪ জন রোগী। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪১ জনই শিশু ভর্তি রয়েছেন। যাদের অধিকাংশই গরমজনতি কারণে ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট ও জ¦রে ভুগছে। শহররে খাঁ পাড়া থেকে আসা অনন্যা রহমান শিশু কন্যাকে হাসপাতালের শিশুওয়ার্ডে ভর্তি করছেনে। তিনি জানান, গত পাঁচ দিন ধরে তার দুইমাসের শিশুর পাতলাপায়খানা ও জ¦র। পরে হাসপাতালে এসে জানতে পারে শিশুটির নিউমোনিয়া হয়েছে। পৌরসভার কাদিরাবাদ গ্রামের আবু মিয়া জানান, তার নাতনী তিন দিন ধরে পাতলা পায়খানা ও বমি এবং জ¦র নিয়ে ভর্তি রয়েছেন। কিন্তু শয্যা না থাকায় হাসপাতালের বারান্দার মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছে। তিনি আরো জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় বাতাসের জন্য ওয়ার্ডের কোনো জানালা খুলতে না পারায় প্রচণ্ড গরমে শিশুসহ আমরা ছটফট করছি। হাতপাখা চালিয়ে গরম নিবারণ করা যাচ্ছে না। যদি এই জানালাগুলো খোলা যেত তাহলে কছিুটা স্বস্তি পেতাম। হাসপাতালের শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সাজিয়া আক্তার বলেন, ডায়রিয়া পানিবাহিত রোগ। দূষতি পানি পান করার মাধ্যমে এ রোগ হয়। সাধারণত দিনে ৩ বারের চেয়ে বেশি পাতলা পায়খানা হতে শুরু করলে তার ডায়রয়িয়া হয়েছে বলে ধরে নেয়া যায়। গরম এলেই ডায়রিয়ার সমস্যা মারাত্মক আকার ধারণ করে। বিশেষ করে শিশু-কিশোররা এই রোগে বেশি ভুক্তভোগী হয়। এ বিষয়ে ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. মোহসিন উদ্দিন জানান, প্রচণ্ডে তাপ প্রবাহে হাসপাতালে দিনদিন শিশুসহ অন্যান্য রোগী বাড়ছে। এক্ষেত্রে পানি ও তরল জাতীয় খাবার খাওয়ার পরার্মশ দেন এই চিকিৎসক।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App