×

সারাদেশ

ঠাকুরগাঁওয়ে লিচুবাগানে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত চাষিরা

Icon

প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি : জেলায় ছোট-বড় মিলে প্রায় ২৮৬টি লিচু বাগান রয়েছে। লিচু গাছের প্রতিটি ডাল থেকে সুঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়ছে বাগানের চারপাশে। মুকুলের সুগন্ধে ঝাঁকে ঝাঁকে মৌমাছি পাখা মেলে বাগানের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে বেড়াচ্ছে। এমনটাই দেখা যাচ্ছে লিচুবাগানগুলোতে। ঝাঁকে ঝাঁকে মৌমাছির আনাগোনায় খুলনা, রাজশাহী, সাতক্ষীরা, নাটোরসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ছুটে এসেছেন অর্ধশতাধিক মৌচাষি। গাছের ফাঁকে ফাঁকে বসানো মৌবাক্স থেকে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। এদিকে বাগান থেকেই সুস্বাদু মধু কিনছেন স্থানীয় ও দূর-দূরান্তের ব্যবসায়ীরা। চলতি মৌসুমে গাছের মুকুল ভালো হওয়ার আশায় মধু সংগ্রহে খুশি মৌচাষিরা। বড়বাড়ি এলাকায় মধু সংগ্রহ করছেন মধুচাষি আবু রায়হান। এ সময় তার সঙ্গে কথা হলে জানান, প্রায় ২ মাস ধরে লিচুগাছের ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করছি। আমরা এখানে ৬ জন কাজ করছি। সপ্তাহে এক দিন মধু কাটি আমরা। প্রতি সপ্তাহে ২শ থেকে ৩শ কেজি মধু সংগ্রহ করি। বাজারমূল্য ভালো। আশপাশের মানুষসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকাররা এখান থেকে মধু সংগ্রহ করে নিয়ে যায়। এই মৌমাছিগুলো আমার পোষা। রাজশাহী থেকে আসা মৌচাষি নাদির ইসলাম বলেন, সিজন আসলে মৌমাছি নিয়ে আমরা এ জেলায় আসি। কারণ এ জেলায় অনেক লিচুবাগান রয়েছে। ফুল থেকে আমরা মধু উৎপাদন করি। মানুষ এখান থেকে মধু কিনে নিয়ে যায়। এখানকার মধু খুবই পরিচিত এবং খুবই ভালো। এতে কোনো ভেজাল নেই। বড়বাড়ি গ্রামের লিচুবাগান মালিক কাউছার ইসলাম বলেন, মৌমাছির পরাগায়নের কারণে লিচুর ভালো ফলন হয়। এতে সব লিচু গাছে ফল আসে। পাশাপাশি আমরা মধু পাই। মৌচাষিরা যদি প্রতি বছর আসেন, তাহলে আমাদের জন্য খুব ভালো হবে। সেই সঙ্গে আবহাওয়া ভালো থাকলে আমাদের ব্যবসাবাণিজ্য ভালো হবে। পাশাপাশি আমরা লাভবানও হব। মধু সংগ্রহের শ্রমিক জয়নুল হক বলেন, লিচুবাগানে মধু সংগ্রহ করলে গাছের পরাগায়ন ভালো হয় এবং লিচুর ফলন ভালো হয়। আমরা ৬ জন এখানে নিয়মিত কাজে করে মধু সংগ্রহ করি। আমাদের বেতন ভালো। শহরের আশ্রমপাড়া থেকে মধু কিনতে আসা লাবু রহমান বলেন, মধুচাষিরা এখানে মধু সংগ্রহের পাশাপাশি বিক্রিও করছেন। আমরা বাজারে যে মধু কিনি, সেগুলোয় কেমিক্যাল বা ভেজাল থাকে। তবে এখানকার মধু খাঁটি। নিজে দেখে মধু কিনলাম, বেশ ভালো এবং খাঁটি মধু। এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, গাছে মৌমাছির অবাধ বিচরণে পরাগায়নে ভালো ফলন হয়। এ পরাগায়নের মাধ্যমে আমাদের লিচুর ফলন যেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে, তেমনি মধু উৎপাদনের মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে মধুচাষিও লাভবান হচ্ছেন। আমরা আমাদের বিভাগ থেকে মৌচাষের ওপর প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকি। আমরা অনেক চাষিকেই প্রশিক্ষিত করেছি যাতে তারা যথাযথভাবে কাজ করতে পারে। মৌচাষিদের মাধ্যমে প্রায় ৩শ মেট্রিক টন মধু সংগ্রহ হবে। এ জেলায় ছোট-বড় মিলে প্রায় ২৮৬টি লিচুবাগান রয়েছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App