×

সারাদেশ

ধানের ফলন ভালো হলেও দাম নিয়ে শঙ্কায় কৃষক

Icon

প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ধানের ফলন ভালো হলেও  দাম নিয়ে শঙ্কায় কৃষক
আব্দুল মজিদ মল্লিক, আত্রাই (নওগাঁ) থেকে : আত্রাইয়ে শুরু হয়েছে বোরো ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ। এবার ফলনও ভালো হচ্ছে। তবে ন্যায্য দামে বিক্রি করা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকেরা। তারা বলছেন, শুরুতে দাম ভালো থাকলেও পুরোদমে কাটা-মাড়াইয়ের সময় দাম কমে যায়। ফলে লোকসানে পড়তে হয় তাদের। এদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কথা মাথায় রেখে জমির ৮০ শতাংশ ধান পেকে গেলেই কেটে ঘরে তোলার আহ্বান জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। ২০ বিঘা জমিতে ধান রোপণ করেছেন উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের কৃষক শুটুক মিয়া। কিছু জমিতে তিনি প্রতি বিঘায় ২৩-২৫ মণ হারে ফলন পেয়েছেন। এরই মধ্যে প্রতি মণ ১ হাজার ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। উপজেলা কৃষি বিভাগ বলছে, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলায় ১৮ হাজার ৭১০ হেক্টর জমিতে ধান রোপণ করেন কৃষক। এর মধ্যে হাইব্রিড ও উফশী জাতের ধানও রয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৯৬ হাজার ৬৫ টন। এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ধানে তেমন রোগ-বালাইয়ের আক্রমণ দেখা যায়নি। ফলনও ভালো হচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে। এর মধ্যে আগাম জাতের জিরাশাইল ধান কাটা শুরু হয়েছে প্রায়। প্রতি বিঘা জমিতে ২২ থেকে ২৫ মণ ধান হচ্ছে জানিয়ে কৃষকরা বলছেন, অঞ্চল ও মাটিভেদে এক বিঘা জমিতে রোপণ থেকে শুরু করে কাটা-মাড়াই পর্যন্ত ১৫ হাজার থেকে ১৮ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। তবে বর্গাচাষিদের ক্ষেত্রে খরচ হয়েছে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। ডিজেল, রাসায়নিক সার, বিদ্যুৎ বিল, কীটনাশক এবং শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় ধান আবাদে এবার খরচ বেশি হয়েছে। মস্কিপুরে ৮০ বিঘা জমিতে ধানের আবাদ করেছেন কৃষক রিপন। তিনি বলেন, ৫৪ জন শ্রমিক দিয়ে কাটা-মাড়াই শুরু করেছেন। ফলন আশানুরূপ হবে বলে আশা তার। নওদুলি গ্রামের কৃষক জাহের আলীর ৭ বিঘা জমির মধ্যে চার বিঘা বার্ষিক ১২ হাজার টাকায় বর্গা নিয়েছেন। পাঁচ-সাত দিনের মধ্যে ধান কাটা শুরু করবেন। তার অভিযোগ, ধান কাটার শুরুতে যে দাম থাকে, ভরা মৌসুমে সে তুলনায় প্রতি মণে ৩শ থেকে ৪শ টাকা কমে যায়। ফলে লোকসানে পড়তে হয়। ইসলামগাঁথি গ্রামের কৃষক আলাউদ্দীন ১৪ বিঘা জমিতে ধান রোপণ করেছেন। তিনি বলেন, অধিকাংশ কৃষক সার, কীটনাশক ও সেচ বাকিতে নেন। ধার-দেনা করে ধান রোপণ করেন। তারা ধান কেটে ঘরে রাখতে পারেন না। ভরা মৌসুমে দাম কম থাকলেও দেনা শোধ করার জন্য বিক্রি করতে বাধ্য হন। ফলে লোকসানে পড়েন। বর্তমানে যে দামে বিক্রি হচ্ছে, তাতে কৃষক লাভবান হবেন। তবে দাম কমলে লোকসানে পড়বেন। এজন্য বাজার তদারকির দাবি তার। আত্রাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রসেনজিৎ তালুকদার বলেন, দুর্যোগের কথা মাথায় রেখে জমির ৮০ শতাংশ ধান পেকে গেলেই কেটে ঘরে তোলার অনুরোধ করা হয়েছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App