×

খেলা

চ্যাম্পিয়ন্স লিগ

বরুশিয়াকে হারিয়ে রেকর্ড ১৫তম শিরোপা জিতলো রিয়াল

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৪, ০৮:০৯ এএম

 বরুশিয়াকে হারিয়ে রেকর্ড ১৫তম শিরোপা জিতলো রিয়াল

রিয়াল মাদ্রিদ

পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই দাপুটে ছিল রিয়াল মাদ্রিদ। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালেও সেই দাপট অব্যাহত রেখেছে স্প্যানিশ এই ক্লাবটি। অনেকটা অবাক করেই এবারের ফাইনালে এসেছিল বরুশিয়া ডর্টমুন্ড। তবে প্রতিপক্ষ যে রিয়াল মাদ্রিদ! ফেভারিট হিসেবেই ফাইনালে পা রাখে স্পেনের এই ক্লাবটি। ফাইনালে শুধু ফেভারিটই নয়; এ যেন এক বিধ্বংসী রিয়াল মাদ্রিদ। ১০ মিনিটেই দুটি গোল করে বসলো রিয়াল! লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে শনিবার রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে জার্মান ক্লাব বরুশিয়া ডর্টমুন্ডকে ২-০ গোলে হারিয়ে রেকর্ড ১৫বারের মতো শিরোপা জিতলো স্প্যানিশ ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ। রিয়ালের হয়ে দানি কারভাহাল ও ভিনিসিউস জুনিয়র গোল দুটি করেন। 

ইউরোপ সেরার প্রতিযোগিতাটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ নামকরনের পর মোট ৯ বার ফাইনাল খেলেছে রিয়াল মাদ্রিদ। তবে ৯বারের মধ্যে একবারও তারা ফাইনাল হারেনি। সর্বোচ্চ শিরোপা জয়ের রেকর্ডটিও তাদের দখলে অনেক আগে থেকেই। এবার সেই সংখ্যাটা আরো একটু বাড়িয়ে নিলো তারা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৭বার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জিতেছে এসি মিলান। ম্যাচের শুরুর প্রথমার্ধে বল দখলে অনেক পিছিয়ে ছিল রিয়াল। দুর্দান্ত সব আক্রমণে প্রতিপক্ষ শিবিরে কাঁপন ধরায় ডর্টমুন্ড। কিন্তু বিরতির পর সেই চাপ আর ধরে রাখতে পারেনি তারা।

পুরো ম্যাচে গোলের জন্য তাদের ১২ শটের চারটি ছিল লক্ষ্যে; যেখানে বিরতির আগে দুটি লক্ষ্যভ্রষ্ট শট নেওয়া রিয়াল মোট ১৩ শট নিয়ে ছয়টি লক্ষ্যে রেখে বাজিমাত করে। শিরোপার হাতছানিতে স্নায়ুচাপ তো থাকবেই, সঙ্গে বাড়তি সতর্কতা- দুইয়ে মিলিয়ে শুরুর বেশ কিছুটা সময় মাঝমাঠেই বল ঘোরাফেরা করে। দ্বাদশ মিনিটে গিয়ে গোলের জন্য প্রথম শট নেয় রিয়াল। তবে বক্সের বাইরে থেকে ফেদে ভালভেরদের শট লক্ষ্যের ধারেকাছেও ছিল না। দুই মিনিট পর রিয়ালের বক্সে ভীতি ছড়ান ইউলিয়ান ব্রান্ডট। তবে দারুণ পজিশন থেকে লক্ষ্যভ্রষ্ট শট নিয়ে হতাশ করেন জার্মান মিডফিল্ডার। ২১তম মিনিটে আরও বড় বাঁচা বেঁচে যায় মাদ্রিদের দলটি। সতীর্থের থ্রু বল ধরে গোলরক্ষক একা পেয়ে যান কারিম আদেইয়েমি, আগুয়ান থিবো কোর্তোয়াকে দারুণভাবে কাটানও তিনি; কিন্তু শেষ পর্যন্ত পারেননি শট নিতে। 

দ্বিতীয়ার্ধের চতুর্থ মিনিটে লক্ষ্যে প্রথম শট রাখতে পারে রিয়াল। ডি-বক্সের বাঁ কোণা থেকে টনি ক্রুসের বাঁকানো ফ্রি কিক ঝাঁপিয়ে কর্নারের বিনিময়ে ফেরান গোলরক্ষক। আর ওই কর্নারে দানি কারভাহালের হেড ক্রসবারের একটু ওপর দিয়ে বেরিয়ে যায়। রিয়ালের জার্সিতে শেষবারেরর মতো মাঠে নামা ক্রুস এবং পরীক্ষিত ও অভিজ্ঞ কারভাহালের অবদানে ৭৪তম মিনিটে এগিয়ে যায় রিয়াল। পরপর দুটি কর্নার আদায় করে নেয় তারা। জার্মান গ্রেটের দ্বিতীয় কর্নারে দুর্দান্ত কোনাকুনি হেডে ঠিকানা খুঁজে নেন স্প্যানিশ ডিফেন্ডার। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে কারভাহালের দ্বিতীয় গোল এটি। প্রথমটি ২০১৫-১৬ মৌসুমে গ্রুপ পর্বে, শাখতার দোনেৎস্কের বিপক্ষে। তিন মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া হয় রিয়ালের। বেলিংহ্যামের নিচু শট প্রতিপক্ষের একজনের পায়ে লেগে পোস্টের পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। ৮০তম মিনিটে আবারো ক্রস-জাদু; বক্সের বাইরে থেকে তার বাঁকানো ফ্রি কিক ঝাঁপিয়ে ফেরান গোলরক্ষক।

পরের দুই মিনিটে আরো দুটি অসাধারণ সেভ করে ব্যবধান বাড়তে দেননি গ্রেগর কোবেল। কামাভিঙ্গার জোরাল শট ক্রসবার ঘেঁষে ভেতরে ঢোকার শেষ মুহূর্ত রুখে দেওয়ার পর নাচো ফের্নান্দেসের হেডও ঠেকান তিনি। ৮৩তম মিনিটে আর পারেননি কোবেল। অবশ্য এর দায় মোটেও তার নয়। নিজেদের সীমানায় খুব বাজে ভুল করে বসেন ডিফেন্ডার ইয়ান মাটসেন, তার ভুল পাস ধরে বেলিংহ্যাম বক্সে ফাঁকায় খুঁজে নেন ভিনিসিউসকে। এমন উপহার পেয়ে কোনো ভুল করেননি ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড, নিখুঁত শটে দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নেন এই তারকা। ১১ বছর আগে এই মাঠেই অল জার্মান ফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে হেরেছিল ডর্টমুন্ড। সেখানেই আরও একবার দ্বিতীয়বার ইউরোপ সেরার মুকুট পরার স্বপ্ন চূর্ণ হলো তাদের।


সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App