×

রমজান

রোজাদারকে ইফতার করানো আল্লাহর প্রিয় ইবাদত

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৪৩ এএম

রোজাদারকে ইফতার করানো আল্লাহর প্রিয় ইবাদত

ছবি : সংগৃহীত

রমজান রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস। এ মাসে প্রতিটি নেক আমলের সওয়াব বহুগুণে বৃদ্ধি করা হয়। শুধু নিজের ইবাদতে সীমাবদ্ধ না থেকে অন্যের ইবাদতে সহযোগিতা করাও এ মাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। বিশেষ করে রোজাদারকে ইফতার করানো এমন একটি আমল, যা সামান্য খরচে অসীম সওয়াবের দ্বার খুলে দেয়।

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে সৎকর্ম ও তাকওয়ার কাজে সহযোগিতার নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ার কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করো।’ — কুরআনুল কারিম, সুরা আল-মায়িদা, আয়াত ২।

আরো পড়ুন: আজ ৬ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়

আরো পড়ুন: নারীর নামে ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলে প্রতারণা, আরবি শিক্ষক গ্রেপ্তার

রোজাদারকে ইফতার করানো এই সহযোগিতারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। একজন ব্যক্তি সারা দিন ক্ষুধা ও তৃষ্ণা সহ্য করে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য রোজা রাখেন। তার সেই ইবাদত পূর্ণ করতে সামান্য খাবার দিয়ে সহায়তা করা মানে তার ইবাদতের সওয়াবে অংশীদার হওয়া।

মুহাম্মদ (সা.) এ আমলের বিশেষ ফজিলত বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে, সে তার সমপরিমাণ সওয়াব লাভ করবে; অথচ রোজাদারের সওয়াব থেকে কোনো অংশ কমানো হবে না।’ — জামি আত-তিরমিজি, হাদিস ৮০৭; সুনান ইবনে মাজাহ, হাদিস ১৭৪৬।

এ হাদিস আমাদের জন্য এক মহাসুসংবাদ। একটি খেজুর, এক গ্লাস পানি বা সামান্য খাবার দিয়েও একজন মুমিন রোজার সমপরিমাণ সওয়াব অর্জন করতে পারেন। অর্থাৎ সামর্থ্য কম হলেও এ আমল থেকে বঞ্চিত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

এখানে স্পষ্ট যে, ইফতার করানো শুধু দান নয়; এটি আল্লাহর কাছে প্রিয় এক বিশেষ ইবাদত। এর মাধ্যমে মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও উদারতার চর্চা হয়।

মহান আল্লাহ নেককারদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করে বলেন, ‘তারা আল্লাহর ভালোবাসায় অভাবগ্রস্ত, এতিম ও বন্দিকে আহার করায়।’ — কুরআনুল কারিম, সুরা আল-ইনসান, আয়াত ৮।

রমজানে দরিদ্র ও অভাবী রোজাদারদের ইফতার করানো এ আয়াতের বাস্তব প্রয়োগ। এতে একদিকে ক্ষুধার্ত মানুষের কষ্ট লাঘব হয়, অন্যদিকে দাতার অন্তরে তাকওয়া ও মানবিকতা বৃদ্ধি পায়।

রোজাদারকে ইফতার করানোর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—এটি সমাজে ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্যের পরিবেশ সৃষ্টি করে। মসজিদে, মহল্লায় বা পরিবারের মধ্যে একসঙ্গে ইফতার করলে পারস্পরিক ভালোবাসা বাড়ে, ধনী-গরিবের ব্যবধান কমে এবং ইসলামের সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের সৌন্দর্য প্রকাশ পায়।

তবে এ ক্ষেত্রে কিছু বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি। ইফতার আয়োজন যেন প্রদর্শন, অপচয় বা প্রতিযোগিতার মাধ্যমে না হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই।’ — কুরআনুল কারিম, সুরা আল-ইসরা, আয়াত ২৭।

অতএব আড়ম্বর নয়, আন্তরিকতা ও ইখলাসই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য। অল্প হলেও ভালোবাসা ও আল্লাহর সন্তুষ্টির নিয়তে ইফতার করানোই প্রকৃত সওয়াবের কারণ।

রমজান আমাদের শেখায়—নিজের ইবাদতের পাশাপাশি অন্যের ইবাদতে সহায়তা করাও বড় নেক আমল। একটি খেজুর, এক গ্লাস পানি বা সামান্য খাবার দিয়েও আমরা অফুরন্ত সওয়াবের অধিকারী হতে পারি। তাই আসুন, এ বরকতময় মাসে রোজাদারদের ইফতার করানোর অভ্যাস গড়ে তুলি এবং দান, সহমর্মিতা ও তাকওয়ার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করি।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

খালেদা জিয়ার নামে খালের নামকরণ করলেন এমপি

খালেদা জিয়ার নামে খালের নামকরণ করলেন এমপি

দ্বিতীয় ওয়ানডেতে সালমানের রানআউট বিতর্ক নিয়ে ব্যাখ্যা দিলো এমসিসি

দ্বিতীয় ওয়ানডেতে সালমানের রানআউট বিতর্ক নিয়ে ব্যাখ্যা দিলো এমসিসি

বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে খাবার বিতরণ করেছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতারা

বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে খাবার বিতরণ করেছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতারা

মার্কিন সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ সংস্থা প্রধানের পদত্যাগ

ইরান ইস্যুতে মতবিরোধ মার্কিন সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ সংস্থা প্রধানের পদত্যাগ

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App