পুলিশের লাথিতে আসামির বাবার মৃত্যু!
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ মার্চ ২০২৬, ০৩:০৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
নওগাঁর মহাদেবপুরে পুলিশের অভিযানের সময় আসামির বাবা আব্দুল হামিদ ধলা (৬৬) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, পুলিশের লাথিতে তিনি মারা গেছেন। তবে পুলিশ বলছে, তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
বুধবার (৪ মার্চ) রাতে উপজেলার হাতুড় ইউনিয়নের মালাহার উত্তরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মহাদেবপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আসাদুজ্জামান ও সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আছির উদ্দিন সঙ্গীয় ফোর্সসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়ে আব্দুল হামিদের ছেলে এমরান হোসেনকে গ্রেপ্তার করতে রাতে উত্তরপাড়া গ্রামে যান। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে এমরান পালিয়ে যান। তাকে না পেয়ে পুলিশ তার বাবা আব্দুল হামিদকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
এ সময় আব্দুল হামিদের মা হালিমা বেওয়া (৮৫) ছেলেকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য পুলিশের পা ধরলেও পুলিশ তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আব্দুল হামিদের নাতি রিপন (১২) জানায়, রাতে পাঁচজন পুলিশ এসে তার দাদাকে জোর করে ধরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ তাকে লাথি মারলে তিনি মাটিতে পড়ে যান। পরে উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও আবার পড়ে যান এবং সেখানেই মারা যান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, আব্দুল হামিদের নামে কোনো মামলা বা অভিযোগ নেই। ছেলে এমরান হোসেনকে পালাতে সাহায্য করার অভিযোগে পুলিশ তাকে আটক করার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশের লাথিতে তিনি পড়ে যান এবং মৃত্যুবরণ করেন। পরিস্থিতি খারাপ দেখে পুলিশ আরেক ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি এসলামকে গ্রেপ্তার না করেই সেখান থেকে চলে যায়।
আরো পড়ুন : নোয়াখালীতে ইমামকে মারধর করলো বিএনপি নেতাকর্মীরা
গ্রামের বাসিন্দা মৃত ধলা বক্সের ছেলে এসলাম জানান, রাত ১টার দিকে কয়েকজন পুলিশ তার বাড়িতে ঢুকে তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট আছে বলে গ্রেপ্তার করতে চায়। তবে আইডি কার্ডের সঙ্গে নামের বানান না মেলায় তাকে আদালত থেকে জামিন নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
অন্যদিকে মহাদেবপুর থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পুলিশ আসামি ধরতে গিয়েছিল ঠিকই, তবে নামে মিল না থাকায় এসলামকে ছেড়ে দেওয়া হয়। অন্য আসামি ইমরান হোসেনকে না পেয়ে তার বাবা আব্দুল হামিদকে এসলামের বাড়ি দেখানোর জন্য ডাকা হয়েছিল। সেখানেই তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। পুলিশ তাকে কোনো আঘাত করেনি।
নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, আব্দুল হামিদ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তবে পুলিশের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
