ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী রাজকুমার রনাজন সিং বিমসটেকের ২৫ তম বার্ষিকী উপলক্ষে দুইদিনের বিমসটেক বৈঠকের উদ্বোধন করেন। পরবর্তীতে তিনি সদস্য দেশগুলোর মধ্যে খাদ্য সংকটের সমাধানের জন্য ভারতের ভুট্টা উৎপাদনের উপর জোর প্রদান করেন।
বে অফ বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশনের (বিমসটেক) উদ্বোধনী অধিবেশনের বক্তৃতায় তিনি বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী ভুট্টা চাষকে গুরুত্বের সাথে দেখছেন। ভুট্টা জলবায়ু সহনশীল একটি ফসল এবং এর পুষ্টিগুণ অনেক বেশি। ভুট্টা উৎপাদনে কম পরিমাণ জলের প্রয়োজন এবং এটি যেকোন পরিবেশেই জন্মাতে পারে। তাই খাদ্য ঘাটতি মেটাতে ভুট্টার অনেক গুরুত্ব রয়েছে।
বিমসটেকের স্বতন্ত্র আন্তর্জাতিক আইনি ব্যক্তিত্ব এবং ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব দেখে আনন্দিত হন তিনি। বিমসটেক সমন্বিতভাবে সমস্যার সমাধান করতে পারে, কাজ করতে পারে এবং এমনভাবে সহযোগিতা করতে পারে যা ভারতীয় এই অঞ্চলে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়ক। ভারত সরকার বিমসটেকের আঞ্চলিক সংস্থার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই কারণেই ২০২২ সালে শ্রীলঙ্কা সম্মেলনে বিমসটেক সচিবালয়কে নরেন্দ্র মোদি আর্থিক সংস্থান দিয়েছেন। বিমসটেক এখন বঙ্গোপসাগরের একটি কার্যকর আঞ্চলিক সংস্থা হয়ে উঠেছে।
উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তৃতাকালে বিমসটেকের মহাসচিব তেনজিন লেকফেল বলেন, কলোম্বোতে অনুষ্ঠিত পঞ্চম বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের এক বছর পর এই মাসের শুরুতে অনুষ্ঠিত ১৯ তম বিমসটেক মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের পরপরই সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ব্যাংককে ৬ষ্ঠ বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। বিমসটেকের ১৪টি সহযোগিতা ক্ষেত্রকে ৭টি উপখাতে বিভক্ত করা হয়েছে এবং প্রতিটি সদস্য দেশ এই উপখাতগুলোর দায়িত্ব গ্রহণ করবে।
বিমসটেক কনভেনশন অন ফৌজদারি বিষয়ে পারস্পরিক আইনি সহায়তা, কূটনৈতিক একাডেমিগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে সমঝোতা স্মারক, কলম্বোতে বিমসটেক প্রযুক্তি স্থানান্তর সুবিধা প্রতিষ্ঠার বিষয়ে এমওইউ এবং পরিবহন সংযোগের জন্য বিমসটেক মাস্টার প্ল্যান গ্রহণ দেখায় যে বিমসটেক সঠিক পথেই এগিয়ে যাচ্ছে।
১৯ তম মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকটিতে বিমসটেক মেরিটাইম ট্রান্সপোর্ট কো-অপারেশন চুক্তি অনুমোদিত হয়েছে, যা সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে উল্লেখযোগ্যভাবে উপকৃত করবে কারণ এটি নৌকায় বিনামূল্যে প্রবেশাধিকার দেবে এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে পণ্য ও পণ্যসম্ভারের বাণিজ্য ও পরিবহন বৃদ্ধি করবে।
আইএসসিএস ডিরেক্টর শ্রী অরিন্দম মুখার্জি বলেন, এই সম্মেলনটিতে দেশভিত্তিক প্রতিনিধিত্ব এবং দৃষ্টিভঙ্গি সহ বিমসটেকের সমস্ত স্থায়ী সমস্যা এবং চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে সবকিছু নিয়ে আলোচনা করা হবে। এই প্রোগ্রামটি কেবল কী নীতিগুলো বাস্তবায়ন করা যেতে পারে তার একটি নীলনকশা নয়, বরং অতীতে কোন কাজগুলো করা হয় নি এবং ভবিষ্যতে কোন পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করতে হবে সে বিষয়েও আলোচনা করবে।
উল্লেখ্য, বিমসটেক ১৯৯৭ সালের জুন মাসে প্রতিষ্ঠিত। তখন এটি বিস্ট-ইসি নামে পরিচিত ছিল। এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য দেশ বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা এবং থাইল্যান্ড এর নামে এ নামকরণ করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালে মিয়ানমার এতে যোগ দেয়। ২০০৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে যোগ দেয় নেপাল এবং ভুটান। বিমসটেকের সদর দপ্তর বাংলাদেশের ঢাকায়। ২০১৪ সালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সদরদপ্তর উদ্বোধন করেন। ২০২২ সালের মার্চ মাসে, কলম্বোতে পঞ্চম শীর্ষ সম্মেলনে, বিমসটেক সনদে সদস্য দেশগুলো স্বাক্ষর করে এবং পরবর্তীতে এটি গৃহীত হয়।
বর্তমানে বিমসটেক সদস্য দেশগুলোর মধ্যে প্রযুক্তিগত এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিল্প, প্রযুক্তি, মানবসম্পদ উন্নয়ন, পর্যটন, কৃষি, জ্বালানি, এবং অবকাঠামো ও পরিবহন খাতে নির্দিষ্ট সহযোগিতা প্রকল্প চিহ্নিতকরণ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে দ্রুত উন্নয়ন।
© ভোরের কাগজ 2002 – 2020
প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী । মুদ্রাকর: তারিক সুজাত
কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, তৃতীয় তলা, ৭০ শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, (নিউ সার্কুলার রোড, মালিবাগ), ঢাকা-১২১৭ ।
ফফোন: ৯৩৬০২৮৫, ৮৩৩১০৭৪ ফ্যাক্স: ৯৩৬২৭৩৪, সার্কুলেশন ও বিজ্ঞাপন : ৮৩৩১৮০৬ । ইমেইল: [email protected]