ব্যবসা চলছে ৫৮ মৃত্যুকূপে ঝুঁকি সত্ত্বেও মিলছে বৈধতা : রাজউক-সিটি করপোরেশন মার্কেটের করুণ হাল
প্রকাশ: ০৩ মার্চ ২০২৪, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
রুমানা জামান : হঠাৎ আগুন লাগলে তা মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ার মতো অনুকূল পরিবেশ থাকা মার্কেটের অভাব নেই রাজধানীতে। সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও ব্যক্তিগত মালিকানাধীন অসংখ্য মার্কেট রয়েছে এর মধ্যে। মার্কেটগুলোর ভেতরে ভয়ংকর গুমোট, জঞ্জালে মোড়ানো ঘিঞ্জি অবস্থা ও নকশাবহির্ভূত অসংখ্য অবৈধ দোকানপাটে ঠাসা। আগুন লাগলে দ্রুত ছড়িয়ে পড়াসহ মার্কেট থেকে সহজে বের হওয়ার বিকল্প পথ নেই। দ্রুত অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থা থাকলেও তা নিতান্তই সীমিত। এসব মার্কেটে শৃঙ্খলা ফেরানোর ব্যাপারে দায়িত্বশীল সংস্থা বা ব্যক্তিদেরও এ নিয়ে তেমন ভাবাবেগ নেই। ফলে চুড়িহাট্টা, সিদ্দিকবাজার, বঙ্গবাজার, বেইলি রোডের মতো একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটেই চলছে।
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মালিকানাধীন ৫৮ মার্কেট ‘ঝুঁকিপূর্ণ’। এর মধ্যে অতি ঝুঁকিপূর্ণ ৯টি, মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ ১৪টি এবং ঝুঁকিপূর্ণ ৩৫টি। তবু সংস্থা দুটি নড়বড়ে মার্কেটে দোকান খোলা রেখে ব্যবসার সুযোগ করে দিয়েছে। ব্যবসায়ী ও কর্মচারীদের কাছ থেকে করপোরেশন নিয়মিত ভাড়াও আদায় করছে। ঝুঁকিপূর্ণ এসব মার্কেট ভবন ধসে যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনার শঙ্কা থাকলেও এ নিয়ে উদ্বেগ নেই দুই সিটির। শুধু কী তাই! ঝুঁকি জেনেও করপোরেশনের তরফ থেকে মার্কেটগুলো চালু রাখতে দেয়া হয় বৈধতা। ব্যবসায়ীদের দেয়া হয় ট্রেড লাইসেন্স, পুরনো লাইসেন্স নবায়নও চলে দেদারসে। এমনকি, চিহ্নিত মার্কেট ভবনগুলোতে শুধু ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ নোটিস সাঁটিয়ে দায়িত্ব সারে করপোরেশন।
তথ্যমতে, দুই সিটির ঝুঁকিপূর্ণ ৫৮টি মার্কেটের মধ্যে অন্তত ৫০টি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায়। ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত এমনকি ‘পরিত্যক্ত’ ঘোষিত মার্কেটগুলোতে বছরের পর বছর ধরে জীবন ও সম্পদের ঝুঁকি নিয়ে চলছে ব্যবসা। গত বছরের এপ্রিলে রাজধানীতে টানা দুই সপ্তাহ অভিযান চালিয়ে ৫৮টি সুপার মার্কেট, শপিংমল ও মার্কেটকে ‘অগ্নিঝুঁকিপূর্ণ’ ঘোষণা দেয় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স।
ফায়ার সার্ভিসের জরিপ বলছে, অতি ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেটের তালিকায় রয়েছে নিউমার্কেট এলাকার গাউছিয়া মার্কেট, ফুলবাড়িয়া বরিশাল প্লাজা, রাজধানী ও নিউ রাজধানী সুপার মার্কেট, লালবাগ এলাকায় আলাউদ্দিন মার্কেট, চকবাজার এলাকায় শাকিল আনোয়ার টাওয়ার ও শহীদুল্লাহ মার্কেট এবং সদরঘাট এলাকায় শরীফ মার্কেট ও মায়া কাটারা মার্কেট।
মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেটের তালিকায় রয়েছে জুরাইনের আলম সুপার মার্কেট, খিলগাঁও রেলগেট বাজারের উত্তরা মার্কেট, ডেমরা সারুলিয়ার সালেহা শপিং কমপ্লেক্স ও মনু মোল্লা শপিং কমপ্লেক্স, দোহার জয়পাড়া বাজারের লন্ডন প্লাজা শপিংমল, ওয়ারীর এ কে ফেমাস টাওয়ার ও রোজভ্যালি শপিংমল, নিউমার্কেট এলাকার মেহের প্লাজা, প্রিয়াঙ্গন সুপার মার্কেট, নিউ চিশতিয়া মার্কেট, চিশতিয়া মার্কেট, মিরপুর রোডের নেহার ভবন, এলিফ্যান্ট রোডের ইস্টার্ন মল্লিকা শপিং কমপ্লেক্স ও ইসমাইল ম্যানশন সুপার মার্কেট, সুবাস্তু অ্যারোমা শপিংমল।
ঝুঁঁকিপূর্ণ মার্কেটের তালিকায় রয়েছে জুরাইনের বুড়িগঙ্গা সেতু মার্কেট, খিলগাঁও তালতলা সিটি করপোরেশন সুপার মার্কেট, খিলগাঁও সিটি করপোরেশন কাঁচাবাজার মার্কেট, তিলপাপাড়া মিনার মসজিদ মার্কেট, ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার এলাকার হাজি হোসেন প্লাজা, ডেমরা সারুলিয়ার ইসলাম প্লাজা, ডেমরা কোনাপাড়ার নিউ মার্কেট, দোহার জয়পাড়ার আয়েশা শপিং কমপ্লেক্স ও এ হাকিম কমপ্লেক্স, নবাবগঞ্জ বাঘাবাড়ীর শরীফ কমপ্লেক্স, কাফরুলের বাচ্চু মিয়া কমপ্লেক্স ও ড্রিমওয়্যার, মিরপুর-১ নম্বর এভিনিউ এলাকার এশিয়ান শপিং কমপ্লেক্স, মুক্তিযোদ্ধা সুপার মার্কেট, ফেয়ার প্লাজা, তেজগাঁও শিল্প এলাকার শেপাল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড, সিভিল ইঞ্জিনিয়ার লিমিটেড, বেগুনবাড়ীর নাসা মেইনল্যান্ড, পুরান ঢাকার দীন মোহাম্মদ রোডের জাকারিয়া ম্যানশন, লালবাগের হাজি আব্দুল মালেক ম্যানশন, ওয়ারীর ইপিলিয়ন হোল্ডিং লিমিটেড, মিরপুর রোডের গেøাব শপিং সেন্টার, নিউ মার্কেট এলাকার চন্দ্রিমা সুপার মার্কেট ও চাঁদনী চক মার্কেট, নিউ সুপার মার্কেট, নূরজাহান সুপার মার্কেট, হযরত বাকুশাহ হকার্স মার্কেট, ইসলামিয়া বই
মার্কেট, গুলিস্তানের ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেট-১, সিদ্দিকবাজারের হান্নান ম্যানশন, ফুলবাড়িয়ার সিটি প্লাজা, ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেট-২, নগর প্লাজা, সিদ্দিকবাজারের রোজ মেরিনাস মার্কেট ও দুকু টাওয়ারের সাতটি ভবন।
সিটি করপোরেশনের মার্কেটের করুণ হাল : বাবুবাজারে ডিএসসিসির মালিকানাধীন নওয়াব ইউসুফ মার্কেটটি ঝুঁঁকিপূর্ণের তালিকায় থাকা মার্কেটগুলোর একটি। মার্কেট ভবনের বাইরের চেহারাই বলে দেয় ভেতরের অবস্থা কী ভয়ংকর! মার্কেটটির ৭৩০টি দোকানের মধ্যে শখানেক নকশাবহির্ভূত। সিঁড়ি-উন্মুক্ত স্থান যা ছিল সব স্থানেই শুধু দোকান আর দোকান। ভবনের নিচতলায় হার্ডওয়্যার, পলিথিন, লোহালক্কড়ের দোকান, দ্বিতীয় তলায় ব্যাগ, কার্টনের কারখানা, গার্মেন্ট আর মাঝখানে কাঁচাবাজার। পাইকারি ও খুচরা এ মার্কেটে দিনে লাখো মানুষের যাতায়াত।
নওয়াব ইউসুফ মার্কেট বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী বলেন, মার্কেট যে ঝুঁকিপূর্ণ আমরা তা জানি না। আমাদের কোনো চিঠি দেয়া হয়নি। সিটি করপোরেশন প্রতি বছরই ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করছে, ভাড়াও নিচ্ছে। ডিএসসিসির মুখপাত্র আবু নাছের ভোরের কাগজকে বলেন, মার্কেটটি নতুন করে তৈরির জন্য দরপত্র আহ্বানের কাজ চূড়ান্ত হয়েছে।
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মালিকানাধীন বেশ কয়েকটি মার্কেটের পরিবেশ একই রকম। অবৈধ দোকানপাট বসিয়ে মার্কেটগুলোর ভেতরের পরিবেশ এমন করা হয়েছে যা আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার জন্য যথেষ্ট। ডিএসসিসি বলছে, তারা ফুলবাড়িয়ার সুন্দরবন মার্কেট, নগর প্লাজা, সিটি প্লাজাসহ কয়েকটি মার্কেট থেকে দুই হাজারের মতো অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করেছে। এরপরও অনেক অবৈধ দোকানপাট রয়েছে। বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ হকার্স মার্কেট অবৈধভাবে দোতলা করা হয়েছে। সেখানে অবৈধ দোকান রয়েছে ২৫০টি।
ডিএসসিসির তালিকায় দেখা গেছে, নর্থ সাউথ রোড সাইড মার্কেটে চারটি অবৈধ দোকান তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া দ্বিতীয়তলায় রয়েছে একটি রাজনৈতিক দলের ইউনিট পর্যায়ের অফিস। আর সিঁড়ির পাশে একটি গোডাউন। কাপ্তানবাজার কমপ্লেক্সে ৪৫১টি, কাপ্তানবাজার কমপ্লেক্স-২ এ ৪৪৭টি, আহসান মঞ্জিল নবাববাড়ি সুপার মার্কেটে ৩৮টি, ল²ীবাজার মার্কেটে ৩৫টি, সূত্রাপুর কমিউনিটি সেন্টারে ৪৭টি, নিউ সুপার মার্কেটে (দক্ষিণ) ২০টি, নিউ সুপার মার্কেট ডি ব্লকে (উত্তর) ৪১টি, নীলক্ষেত রোড সাইড মার্কেটে ১১২টিসহ প্রায় সব মার্কেটেই রয়েছে অবৈধ দোকান। চন্দ্রিমা সুপার মার্কেটে বাতাস যাতায়াতের কোনো জায়গাই এখন নেই।
ডিএসসিসির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খায়রুল বাকের জানান, ফায়ার সার্ভিস গত বছর ঝুঁকিপূর্ণ মাকের্ট চিহ্নিত করেছে। তবে ফায়ার সার্ভিস থেকে অগ্নিঝুঁকিসংক্রান্ত কোনো তালিকা পাননি তারা। এ কারণে কার্যক্রমও শুরু হয়নি।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মালিকানাধীন একাধিক মার্কেটের অবস্থা করুণ। ডিএনসিসির কারওয়ান বাজার ও গুলশান-১ মার্কেট যেন মৃত্যুকূপ। গুলশান মার্কেটে একবার অগ্নিকাণ্ডের পরও অবস্থার তেমন পরিবর্তন হয়নি। ঝুঁকিপূর্ণ ৯টি মার্কেট অপসারণের উদ্যোগ নিয়েও সফল হতে পারেনি ডিএনসিসি।
ডিএনসিসি-১ নম্বর কাঁচাবাজার মার্কেট ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে ব্যবসায়ীদের সরিয়ে দিতে বেশ তোড়জোড় চালিয়েছে কপোরেশন। বেশ কয়েকবার বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পরও ব্যবসায়ীরা গায়ের জোরে মাকের্টে ব্যবসা চালু রেখেছে।
সরজমিন ডিএনসিসি কাঁচাবাজারে দেখা যায়, তিনতলা মার্কেট ভবনের জরাজীর্ণ অবস্থা। পুরো মার্কেটে ৪০০ দোকান রয়েছে। কিন্তু ভবনের সিলিংয়ের কংক্রিট খসে পড়ে রড বের হয়ে গেছে। মার্কেটের সিঁড়ি পথও খুব সরু। এই মার্কেটটি ফায়ার সার্ভিসের তালিকা অনুযায়ী খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। গুলশান-২ ডিএনসিসি কাচাবাজারের কোনো প্রকার অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই। তবে গত বছরের ১৩ জুলাই ঝুঁকিপূর্ণ ‘গুলশান শপিং সেন্টার’ সিলগালা করেছে ডিএনসিসি। পরে চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি ভবনটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।
ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে ডিএনসিসির মেয়র আতিকুল ইসলাম ভোরের কাগজকে বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেটগুলো নিয়ে তিনটি বিষয় হতে পারে- রেট্রোফিটিং করা, সেগুলো ভেঙে নতুন মার্কেট করা এবং তাদের স্থানান্তর করা। সবগুলো উপায় নিয়ে আমরা কাজ করছি। অবশ্যই কোনো না কোনোভাবে এই কাজগুলো করব। কারণ মার্কেট অনিরাপদ রাখা যাবে না, এটা আমরা বুঝে গেছি। ‘পরিত্যক্ত’ সব মার্কেট ভেঙে ফেলতে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মীর খায়রুল আলম বলেন, আমরা পর্যায়ক্রমে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো অপসারণের চেষ্টা করছি। কিন্তু কিছু মার্কেটে মামলা থাকায় জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।
রাজউকের মালিকানাধীন মার্কেটের অবস্থা আরো নাজুক : রাজউক উত্তরা শপিং কমপ্লেক্সের মালিক রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) কর্মচারী বহুমুখী সমবায় সমিতি। নকশা অনুযায়ী, মার্কেটে ৩৪৬টি দোকান থাকার কথা। কিন্তু দেখা গেছে, বেজমেন্টের পার্কিংস্থলেই অবৈধ দোকান আছে ৭১টি। পুরো পার্কিং স্পেসে দোকান আর দোকান। বদ্ধ জায়গায় পাওয়ার স্টেশন স্থাপন করায় সেখানে বাতাস ঢুকতেও পারে না, বের হতেও পারে না। দুই সিঁড়ির পাশে থাকা এক-আধটু ফাঁকা জায়গাতেও বসানো হয়েছে দোকান। বেশির ভাগ দোকানেই চলছে তৈরি পোশাক শিল্পের ব্যবসা।
মার্কেটের তত্ত্বাবধায়ক সুমন বিশ্বাস বলেন, মার্কেটে নকশাবহির্ভূত দোকানের সংখ্যা বলে শেষ করা যাবে না। কোনোভাবে আগুন লাগলে মানুষের বের হওয়ার সুযোগ নেই। রাজউক কর্মচারী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক শফি উল্লাহ বাবু বলেন, সমিতির বিগত কমিটির লোকজন খালি জায়গাগুলোতে দোকান বানিয়ে স্ট্যাম্পে লিখে বরাদ্দ দিয়ে মার্কেটের এমন অবস্থা করেছেন। আমরা আদালতের আশ্রয় নিয়েছি। আদালত রায় দিলেই সব অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করব।
জানতে চাইলে স্থপতি ও নগর বিশেষজ্ঞ ইকবাল হাবিব বলেন, সিটি করপোরেশনের ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেটে একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। বেইলি রোডের অগ্নিকাণ্ডের দায় কোনোভাবেই সিটি করপোরেশন এড়াতে পারে না। কপোরেশনের মার্কেটগুলো একবার ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে ভাড়া আদায় বন্ধ করে তারা আবার তা চালু করে। এ অবস্থা চললে আগামীতে পরিস্থিতি আরো ভয়ংকর হয়ে উঠবে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক আকতার মাহমুদ বলেন, ‘কোনো বড় দুর্ঘটনার পর বা ভূমিকম্পের পর ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নিয়ে তোড়জোড় শুরু হয়। রাজউক থেকে ভবনের নানা সার্ভে হয়। কিছুদিন পরই সব কার্যক্রম থেমে যায়। সিটি করপোরেশন নিজস্ব উদ্যোগে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করার পর কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে এর দায় সিটি করপোরেশনকেই নিতে হবে। যে কোনো বড় দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুতই ভবনগুলো খালি করে ভেঙে ফেলতে হবে। না হলে যে কোনো সময় বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।
