নিহতের স্বজনদের আহাজারিতে গুমোট হয়ে ওঠে ঢামেক প্রাঙ্গণ : বেইলি রোড ট্র্যাজেডি

আগের সংবাদ

দায়ীরা পার পেয়ে যায় যেভাবে

পরের সংবাদ

জিকে সেচ প্রকল্পের পাম্প বন্ধ : বোরো আবাদ নিয়ে বিপাকে চার জেলার কৃষক

প্রকাশিত: মার্চ ৩, ২০২৪ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
আপডেট: মার্চ ৩, ২০২৪ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

নুর আলম দুলাল, কুষ্টিয় থেকে : গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জিকে) সেচ প্রকল্পের প্রধান খাল পানিশূন্য হওয়ায় জিকের পানির ওপর নির্ভরশীল কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ ও মাগুরার কয়েক লাখ কৃষক বোরো আবাদ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। তিনটি পাম্প নষ্টসহ নানা কারণে জিকে এবার সময়মতো খালে পানি দিতে পারেনি। বোরো চারা রোপণ করতে না পারায় নষ্ট হচ্ছে বীজতলা। চাষ দিয়ে জমি পাকানোর অপেক্ষায় আছেন অনেকে। দ্রুত সমস্যা না কাটলে বোরোর উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে বলে জানিয়েছেন চাষিরা।
সরজমিন কুষ্টিয়া সদরের বটতৈল এলাকায় জিকের প্রধান খাল পানিশূন্য দেখা যায়। পানির স্তর একেবারে নিচে নেমে গেছে। বটতৈল চারমাইল এলাকার কৃষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সরিষা তোলার পর মাঠে জিকের পানি আসে। ২০ থেকে ২৫ দিন আগে সরিষা তুললেও পানি আসার লক্ষণ নেই। কয়েক বিঘা জমি চাষ দিয়ে ফেলে রেখেছি, পাকাতে পারছি না। বোরো আবাদের কী হবে বুঝতে পারছি না। জেলার আরেক কৃষক মো. সাহাবুদ্দিন জানান, অন্যান্য বছর এ সময় মাঠে ধান রোপণ শেষ হয়ে যায়। এবার তারা শুরুই করতে পারেননি। দু-একজন শ্যালো মেশিনের সাহায্যে পানি তুলে চারা রোপণ করেছেন। জিকের পানি দিয়ে এক বিঘা আবাদে খরচ যেখানে বছরে ৩০০ টাকা, সেখানে শ্যালোতে প্রায় ৫ হাজার টাকা। লোকসানের ভয়ে অনেকেই আবাদ শুরু করছেন না।
ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার বাগচুয়া গ্রামের কৃষক হেকমত আলী বলেন, দুই বছর ধরে জিকের পানি পাচ্ছি না। সামর্থ্যবানরা শ্যালোর পানি ব্যবহার করছেন। বাকিরা পিছিয়ে পড়ছেন। চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার বাদেমাজু গ্রামের কৃষক আশাদুল হক বলেন, পানি দেরিতে দেয়ায় বোরো রোপণে বিলম্ব হয়েছে। হঠাৎ করে খাল পানিশূন্য, জমিতে দেখা দিয়েছে ফাটল। বিকল্প হিসেবে ডিজেলচালিত শ্যালো ইঞ্জিনের মাধ্যমে পানি দিতে গিয়ে খরচ বাড়ছে। একইভাবে ঝিনাইদহের শৈলকূপা ও মাগুরার কয়েকটি উপজেলার কৃষকরা কোনো ফসলই আবাদ করতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন। জিকে পানি ব্যবস্থাপনা ফেডারেশনের সভাপতি সাফায়েত হোসেন পল্টু বলেন, পাম্প নষ্ট হওয়ায় কৃষকরা বিপাকে পড়েছেন। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে বোরো আবাদে ব্যাঘাত ঘটবে। জিকে সূত্র জানায়, ভেড়ামারায় প্রধান পাম্প হাউস দুটির মধ্যে ২০২২ সাল থেকে একটি নষ্ট।
অন্যটি দিয়ে পানি সরবরাহ করা হচ্ছিল। জানুয়ারির শুরুতে চুয়াডাঙ্গায় পানি দিলে চাষিরা বোরো রোপণ করেন। কিন্তু কুষ্টিয়া এলাকায় জানুয়ারিতে সরিষা থাকায় কর্তৃপক্ষ ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পানি ছাড়া শুরু করে। দুদিন চলার পর পাম্পে ত্রæটি দেখা দিলে পানি সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এখন পাম্প হাউসের তিনটি যন্ত্রই বিকল। পাম্প হাউসের নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, একমাত্র পাম্পও হঠাৎ করে বিকল হয়ে গেছে। দুই বছর আগে নষ্ট পাম্পটি মেরামতে জাপানের প্রকৌশলীরা কাজ করছেন। আপাতত পানি সরবরাহ বন্ধ। আমরা দ্রুত পাম্প সচলের চেষ্টা করছি। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পানি সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। জিকের অধীনে সেচের জমি আছে ১ লাখ ৯৭ হাজার হেক্টর। এর মধ্যে বোরো ৩৫ থেকে ৪০ হাজার, আমন ৫০ থেকে ৫৫ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ হয়। পানি দিতে না পারায় বিকল্প উপায়ে ধান রোপণের অনুরোধ জানিয়েছেন জিকের মরফোলজি বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রইচ উদ্দিন।
এদিকে পাম্প অচল হওয়ার পর পানি উন্নয়ন বোর্ডের শীর্ষ কর্মকর্তারা দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। সেখানে বোরো মৌসুমে পানি সরবরাহ করা না-ও হতে পারে বলে মত দিয়েছেন প্রকৌশলীরা। এতে বোরো আবাদ বিঘœ হওয়ার পাশাপাশি চার জেলায় পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
চুয়াডাঙ্গা পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী আরিফ আহমেদ বলেন, পদ্মা নদীর পানির স্তর নিচে নেমে গেছে। ভেড়ামারায় তিনটির মধ্যে সচল একমাত্র পাম্পও হঠাৎ বিকল হয়ে গেছে। পানি সরবরাহ কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে, তা বলা সম্ভব হচ্ছে না।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়