নবীন ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় : জয়ী হলে প্রত্যাশা পূরণের আশ্বাস সাবের চৌধুরীর
প্রকাশ: ২৯ ডিসেম্বর ২০২৩, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
কাগজ প্রতিবেদক : বাংলায় একটি পুরনো প্রবাদ আছে- ‘জুতো সেলাই থেকে চণ্ডীপাঠ’। নবীন ভোটাররা ঢাকা-৯ আসনে নৌকার প্রার্থী সাবের হোসেন চৌধুরীর কাছে তেমনটাই আবদার করেন।
রিকশাচালকরা অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করে তা সমাধান করা হবে কিনা, লাইব্রেরি নির্মাণ কি করা হবে, রাস্তায় যানজট নিরসন করা, ময়লা ফেলার বিন চুরি ঠেকানো, মেয়েদের জন্য খেলার মাঠ তৈরি করা, সাতার শেখার ব্যবস্থা করা, তরুণী বধুর জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি - এসব স্থানীয় আবদার তো ছিলই। একজন জানতে চাইল প্রবাসীদের ভোট দেয়ার জন্য কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে কিনা? কিংবা এসএসসি শেষ করে আর্থিক সংকটে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে না পারা শিক্ষার্থীদের অধিকারের কথা যেমন উঠে এসেছে তেমনি প্রাণীদের বেঁচে থাকার অধিকারের কথাও বাদ যায়নি। একজন আবদার করলেন, পোষা প্রাণীদের জন্য একটি হাসপাতাল তৈরি করতে হবে।
‘প্রথম ভোটারের সঙ্গে মতবিনিময়’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে গতকাল বৃহস্পতিবার সাবের হোসেন চৌধুরী এমপির কাছে এমন সব প্রশ্ন, অভিযোগ, চাওয়া-পাওয়ার কথা তুলে ধরতে হাজির হয়েছিলেন ঢাকা-৯ নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। গতকাল শেষ বিকালে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল খিলগাঁও থানা ও খিলগাঁও মডেল কলেজ ছাত্রলীগ।
খিলগাঁল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে নবীন ভোটারদের প্রশ্ন ও প্রত্যাশার জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ দূত সাবের হোসেন চৌধুরী। যদি নির্বাচিত হন অনেক চাওয়া পূরণ করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন তিনি।
তরুণদের যানবাহন চালানোর প্রশিক্ষণ দেয়ার দাবি তোলেন এই আসনের ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডের আশরাফুল ইসলাম। অন্যদিকে নাবিলা সুলতানার দাবি, কর্মহীন গৃহিণীদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাবের চৌধুরীর উত্তর, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে ৫ বছরে ১ কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রæতি আছে। এর অংশ হিসেবে ঢাকা-৯ আসনে থাকবে যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সহজ শর্তে ঋণ দিয়ে উদ্যোক্তা সৃষ্টি করা।
তরুণ ভোটার রুমিও, জুবাইর হাসান, মোহাম্মদ হাকিমুল হাসান ও নিপা আক্তার পর্যাপ্ত খেলার মাঠের দাবির কথা জানালে তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে মেয়েদের জন্য খেলার মাঠের ব্যবস্থা করা হবে। ছেলেদের খেলাধুলার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। সুইমিংপুল তৈরি করা হবে।
প্রতিটি প্রশ্নের জবাবে সাবের চৌধুরী বলেন, লাইব্রেরি ও পশু হাসপাতাল তৈরি করা হবে। গরিব শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেয়া হবে, যা এর মধ্যে চলমান রয়েছে। মুগদা হাসাপাতালে মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কাউন্সেলিং করা হবে।
তরুণ ভোটারদের উদ্দেশে সাবের চৌধুরী বলেন, স্মার্ট সমাজ, স্মার্ট অর্থনীতি, স্মার্ট সরকার এবং স্মার্ট নাগরিকের যৌথতায় তৈরি হবে স্মার্ট বাংলাদেশ। তরুণরাই স্মার্ট বাংলাদেশের মূল শক্তি। তাই তরুণদের কথা মনে রেখেই এবার আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারের স্লোগান ‘স্মার্ট বাংলাদেশ: উন্নয়ন দৃশ্যমান, বাড়বে এবার কর্মসংস্থান’। আমার সব কথা, সব কাজের মূলে রয়েছে নতুনরাই।
সাবের হোসেন চৌধুরী ছাড়া ঢাকা- ৯ আসনে আরো আটটি দলের প্রার্থী রয়েছেন। এই অনুষ্ঠানে তাদের কাছেও নতুন ভোটারদের প্রশ্ন ও প্রত্যাশা তুলে ধরতে বলেন সাবের হোসেন চৌধুরী। তখন নতুন ভোটার সিফাত বলেন, অন্য প্রার্থীদের অল্প পোস্টার ছাড়া আর কিছুই নেই। তাদের কোথায় পাব?
