সাবের হোসেন চৌধুরী : গাছ লাগালেও জীববৈচিত্র্য লাগানো যায় না
প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৩, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
কাগজ প্রতিবদেক : পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী বলেছেন, বিশ হাজার গাছ কেটে বলা হয় অন্য জায়গায় বিশ হাজার গাছ লাগিয়ে দেয়া হয়েছে। কিন্ত বিশ হাজার গাছ কাটার ফলে যে জীববৈচিত্র্য - পশু, পাখি, উপকারী জীব, প্রাণী, উদ্ভিদ ধ্বংস হয়ে যায় তা লাগানো যায় না। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করতে হবে। তবে বিলুপ্ত হওয়া উদ্ভিদ প্রজাতির লাল তালিকা প্রণয়ণ হচ্ছে। জীববৈচিত্র্যের লীলাভূমি সুন্দরবন রক্ষায় সরকারি অর্থায়নে একাধিক প্রকল্প চলমান রয়েছে।
‘বাস্তবায়ন করি অঙ্গীকার, জীববৈচিত্র্য হবে পুনরুদ্ধার’ প্রতিপাদ্যে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে গতকাল সোমবার বন অধিদপ্তর আয়োজিত আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবসের আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহার, মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ, অতিরিক্ত সচিব ইকবাল আব্দুল্লাহ হারুন, অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. আবদুল হামিদ প্রমুখ।
প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. ছালেহ আহমদ খান, বন অধিদপ্তরের উপপ্রধান বন সংরক্ষক মো. জাহিদুল কবির।
জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশ জাতিসংঘের ‘কনভেনশন অন বায়োলজিক্যাল ডাইভার্সিটি’তে স্বাক্ষর করেছে। সরকার জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, বন্যপ্রাণীর অবাধে বিচরণ ও প্রজননের জন্য ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ২৫টি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, ২০টি জাতীয় উদ্যান, ২টি বিশেষ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এলাকা, ২টি মেরিন প্রটেক্টেড এরিয়া, ১টি উদ্ভিদ উদ্যান, ৩টি ইকোপার্ক এবং ২টি শকুন নিরাপদ এলাকা ঘোষণা করেছে। বঙ্গোপসাগরের সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডের ১ লাখ ৭৩ হাজার ৮০০ হেক্টর এলাকা এবং সেন্টমার্টিন দ্বীপসংলগ্ন ১ হাজার ৭৪৩ বর্গকিলোমিটার এলাকাকে মেরিন প্রটেকটেড এরিয়া ঘোষণা করেছে। যার ফলে এখন আইনের মাধ্যমে এই বিশাল সামুদ্রিক এলাকার জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। সিলেট অঞ্চলে অবস্থিত জলাভূমির বন রাতারগুল ও নওগাঁর আলতাদিঘীকে বিশেষ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া দেশে ২টি রামসার সাইট ও ৬টি ফ্লাইওয়ে সাইট রয়েছে।
বনমন্ত্রী বলেন, জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গবেষণার জন্য অর্থায়ন করা হচ্ছে। দেশে প্রথমবারের মতো বিরল ও বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদ প্রজাতির লাল তালিকা প্রণয়নের কার্যক্রম প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। জীববৈচিত্র্যের লীলাভূমি সুন্দরবন রক্ষায় সরকারি অর্থায়নে একাধিক প্রকল্প চলমান রয়েছে। এছাড়া স্মার্ট প্যাট্রোলিংয়ের ফলে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য এখন অধিক সুরক্ষিত। সুন্দরবনের ৫২ শতাংশ এলাকা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, সব নীতি প্রণয়ণে পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও প্রকৃতিক সম্পদ ঘিরে সরকারের কর্মকাণ্ড হওয়ার কথা। এ সংক্রান্ত ২০১৭ সালের আইনে লেখা আছে জীববৈচিত্র্য রক্ষায় একটা তহবিল গঠন করা হবে। কিন্তু পাঁচ বছর হয়ে গেলে, এখনো তহবিল হয়নি। বলা হচ্ছে, তথ্য বা পরিসংখ্যানের বড় ঘাটতি আছে। অনেকে এই বিষয় সম্পর্কে জানে না। যদি নাই জানি, কি উদ্ধার করব? জলবায়ুর জন্য তিনজন উপসচিব আছে। পরিবেশের জন্য তিনজন উপসচিব আছে। তবে জীববৈচিত্র্যের জন্য মাত্র একজন উপসচিব।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের বন উজাড়ের হার ২ দশমিক ৬ শতাংশ। বলা হচ্ছে, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য ২০ হাজার গাছ থাকলে আরেক জায়গায় ২০ হাজার গাছ লাগিয়ে দেয়া হবে। কিন্তু গাছ লাগালেন। গাছের সঙ্গে যে জীববৈচিত্র্য থাকে, গাছ কাটলে তো সেটি আর লাগানো যায় না। এই ধরনের চিন্তার পরিবর্তন করতে হবে। ২ দশমিক ৪ শতাংশ যদি বন উজাড় হয়, তাহলে পুনরুদ্ধার করার আর কিছু থাকবে না। তাই আগে সংরক্ষণ করতে হবে।
উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার চৌধুরী বলেন, দিবস পালন করি। সেই দিবসে উদ্দেশ্য এক শতাংশ বাস্তবায়ন নেই। সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ ধরা হয়। রাষ্ট্রীয় কাজে গাছ কাটা। সেই গাছের সঙ্গে অনেক জীব মরে যায়। অসহায় হয়ে যায়। বিলুপ্ত হয়ে যায়। তাই পরিবেশের কথা আগে ভাবতে হবে।
এদিকে, প্লাস্টিক দূষণ রোধে জনসচেতনতা গড়তে প্লাস্টিক ফ্রি ক্যাম্পাস প্রকল্প উদ্বোধন করা হয়। গতকাল এনভায়রনমেন্ট এন্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (এসডো) উদ্যোগে ফার্মগেটের জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টারে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী।
