স্বপ্নজয়ের পদ্মা সেতুর নিরাপত্তায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

আগের সংবাদ

হাওর জনপদে স্বাস্থ্যসেবা ‘নেই’

পরের সংবাদ

ক্রীড়াঙ্গনে পদ্মা উৎসব

প্রকাশিত: জুন ২৬, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জুন ২৬, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

কাগজ ডেস্ক : বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় যোগাযোগ প্রকল্প পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করা হয়েছে গতকাল। এর মধ্য দিয়ে সড়কপথে পুরো বাংলাদেশের সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছে দক্ষিণাঞ্চল। ইতি ঘটেছে এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির। সত্যি হয়েছে সে অঞ্চলের মানুষের স্বপ্ন। পদ্মা সেতু এখন বাস্তব। এই সেতু নিয়ে পুরো দেশ গর্বিত। ক্রীড়াঙ্গনও কোনো অংশে পিছিয়ে নেই।
দেশের দুই শীর্ষ ক্রীড়া সংস্থা ফুটবল ফেডারেশন ও ক্রিকেট বোর্ড নিজ নিজ কার্যালয়ে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উদযাপন করেছে। এছাড়াও পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান স্থলে উপস্থিত ছিলেন ক্রীড়াঙ্গনের অনেকে। মিরপুরে ঘটা করে আয়োজিত বিসিবির এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বোর্ড কর্তা, ক্রিকেটার ও সাংবাদিকরা। কেক কেটে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উদযাপনের পর বিসিবি সভাপতি পাপন বলেছেন, এটাতে কোনো সন্দেহ নেই পদ্মা সেতু না হলে কী হতো! বিশ্বব্যাংক বন্ধ করে দিল, সবাই এটা নিয়ে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া শুরু করল। থেমেও তো যেতে পারত। তাতে হতোটা কী। এমন কত প্রকল্পই তো হয় না। এটা আমাদের জাতির জন্য লজ্জার একটা বিষয় হতো। এই পদ্মা সেতু আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে বাঙালি জাতির দাসত্বের শৃঙ্খলার শিকল ভেঙে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার স্বপ্ন।
পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে কেক কেটে উদযাপন করেছিল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন, নির্বাহী কমিটির পাঁচ সদস্য ও জাতীয় দলের নারী ফুটবলাররা। পদ্মা সেতুর মাধ্যমে দেশের ফুটবলে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছিলেন বাফুফে সভাপতি। তিনি বলেছেন, পদ্মা সেতুর মাধ্যমে ঢাকার বাইরে ভেন্যু করার সুযোগ বাড়লো। ফুটবল বিকেন্দ্রীকরণ ও প্রসারে এই সেতু বড় ভূমিকা রাখবে।
দুই টেস্ট ও তিনটি করে ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টির পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল অবস্থান করছে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে। প্রায় ১৫ হাজার কিলোমিটার দূরে থেকেও এই উৎসবে শামিল হয়েছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। বিশাল এক কেক কেটে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উদযাপন করেছিল বাংলাদেশ দল। বিসিবির অফিসিয়াল ফেসবুক পাতায় গতকাল প্রকাশিত হয় উদযাপনের ছবি। এর আগে বিশ্ব দরবারে এই সেতুর পটভূমি ও আগমনীবার্তা তুলে ধরতে চলমান টেস্ট সিরিজের নামকরণ করা হয়েছিল পদ্মা সেতুর নামে। টেস্ট সিরিজের প্রেজেন্টেড স্পন্সর বাংলাদেশি টেক জায়ান্ট ওয়ালটন। সিরিজের আনুষ্ঠানিক নাম ‘পদ্মা ব্রিজ ড্রিম ফুলফিলড ফ্রেন্ডশিপ টেস্ট সিরিজ প্রেজেন্টেড বাই ওয়ালটন।’ অফিসিয়াল লোগোতেও ঠাঁই পেয়েছে পদ্মা সেতু। এছাড়া ক্রিকেট বলের ঠিক ওপরেই উন্নয়নের সাহসী প্রতিকৃতি পদ্মা সেতুর ছবি।
পদ্মা সেতুর জন্য ভিডিওবার্তায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন বাংলাদেশের টেস্ট দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। তিনি বলেছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অসংখ্য অসংখ্য ধন্যবাদ, বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের পক্ষ থেকে। কারণ আমার কাছে মনে হয়, এটা দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নের জন্য সবচেয়ে বড় অবদান। এটা পুরো বাঙালি জাতির একটা স্বপ্ন ছিল, যেটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জন্য সম্ভব হয়েছে। সে কারণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। আর আশা করি এই পদ্মা সেতু বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরো সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি পদ্মা সেতুর কর্মীদেরও ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন তামিম। এক ভিডিওবার্তায় তিনি জানিয়েছিলেন নিজের অনুভূতি, আমার মনে হয় বাংলাদেশের জন্য বিশাল বড় একটা অর্জন।
একটা সময় এমন ছিল যখন আমরা নিশ্চিত ছিলাম না যে পদ্মা সেতু হবে কি হবে না। কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। ওনার নিবেদনের কারণে, ওনার চেষ্টার কারণে আজকে আমরা পদ্মা সেতু পেয়েছি। সঙ্গে এটাও বলব, পদ্মা সেতুর প্রকল্পের সঙ্গে যারাই যুক্ত ছিল, তাদেরকেও অসংখ্য অসংখ্য ধন্যবাদ। বিশেষ করে যারা কর্মী ছিলেন, আপনাদের একটা কথাই বলতে চাই যে আপনারা এমন একটা কাজ করেছেন, যেটা বাঙালি জাতি আজীবন মনে রাখবে।
আমার ও বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
এদিকে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনে উচ্ছ¦সিত সাবেক খেলোয়াড়ও। এই সেতুর মাধ্যমে নিজ জেলা গোপালগঞ্জের ক্রীড়াঙ্গন নিয়ে স্বপ্ন দেখেছেন দুই জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারপ্রাপ্ত ক্রীড়াবিদ রকিবুল হাসান এবং ইলিয়াস হোসেন। পঞ্চাশ বছরের বেশি সময় ক্রিকেট ও দেশের ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে জড়িত রকিবুল হাসান। জাতীয় পর্যায়ে নিজ জেলা গোপালগঞ্জ থেকে খুব কম খেলোয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছে। কিন্তু পদ্মা সেতুর ফলে এই অঞ্চলের ক্রীড়াঙ্গন এগিয়ে যাবে বলে তার বিশ্বাস। তিনি বলেছেন, ক্রিকেটে আমি ও ফুটবলে ইলিয়াস এর বাইরে আসলে বলার মতো কোনো নাম নেই গোপালগঞ্জে। এর পেছনে অনেক কারণ থাকতে পারে। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত খারাপ কারণ। পদ্মা সেতুর মাধ্যমে গোপালগঞ্জে ক্রীড়াঙ্গনে নতুন হাওয়া লাগবে এর মাধ্যমে অবশ্যই ভালো ক্রীড়াবিদ উঠে আসবে। ইলিয়াস হোসেন দেশের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব মোহামেডান ও জাতীয় দলে অধিনায়কত্ব করেছিলেন। পদ্মা সেতুর মাধ্যমে পরবর্তী ইলিয়াস মিলবে বলে বিশ্বাস ১৯৮৯ সাফ গেমসের অধিনায়কের। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, আমাদের জেলায় যোগাযোগ একটা বড় প্রতিবন্ধকতা ছিল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক চেষ্টায় এই পদ্মা সেতু হয়েছে। এর সুফল অর্থনীতি, চিকিৎসাসহ সব খাতের মতো ক্রীড়া খাতেও আসবে। এই গোপালগঞ্জ থেকে আগামীর ইলিয়াস আসবে শিগগিরই। সাবেক ফুটবলার ও ফেডারেশনের একজন সদস্য হিসেবে নতুন ইলিয়াস তুলে আনার দায়িত্ব আমারও।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়