নাসির-তামিমার বিয়েকাণ্ডে মামলা : অভিযোগ গঠনের আদেশ ৯ ফেব্রুয়ারি

আগের সংবাদ

ক্লিনিক্যাল গাইডলাইন চূড়ান্ত : যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন তথ্য, আইসোলেশনের সময়সীমা ৫ দিনের বেশি চান বিশেষজ্ঞরা

পরের সংবাদ

অনশনে অনড় শিক্ষার্থীরা : খাবার ও বিদ্যুৎ সংযোগ পেলেন শাবি ভিসি

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৬, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ২৬, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

ফারুক আহমদ, সিলেট ব্যুরো ও নাজমুল হুদা, শাবি প্রতিনিধি : টানা ৬ দিন পেরিয়ে গেছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে অনশন। অনশনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১৯ জন সিলেটের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদিকে অনশনকারী শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা সহায়তা বন্ধ করে দেয়ার পরও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অনশনে অনড় রয়েছেন। চলমান আন্দোলনে অর্থ সহায়তা দেয়ার অভিযোগে গতকাল পর্যন্ত পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দাবি আদায় ও উপাচার্য পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে শপথবাক্য পাঠ করেন শিক্ষার্থীরা। সর্বশেষ গতকাল রাত সোয়া ৯টায় এক সংবাদ সম্মেলনে অনশন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। এদিকে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
গতকাল সন্ধ্যা সোয়া ৬টা থেকে অনশনকারীদের পানি পান করিয়ে অনশন ভাঙানোর চেষ্টা চালান আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের একাংশ। তবে কয়েকজন অনশনকারী পানি পান করতে চাচ্ছেন না। এ সময় অনশন ভাঙতে সবাই তাদের অনুরোধ করেন। বর্তমানে ৯ জন শিক্ষার্থী অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের আলোচনার পর রাত সোয়া ৯টায় সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ভিসি পদত্যাগ না করা পর্যন্ত অনশন অব্যাহত থাকবে।
টানা ষষ্ঠ দিনের মতো গতকাল অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। অনশনরত শিক্ষার্থীদের সবাই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। সবাইকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও স্যালাইন দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩ জন শিক্ষার্থীর অবস্থা খুবই গুরুতর ও আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক ডা. মো. মুস্তাকিম।
আন্দোলনকারীদের মেডিকেল সাপোর্ট বন্ধ : করোনা ঝুঁকির কথা জানিয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) থেকে মেডিকেল টিম প্রত্যাহার করেছে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ছাত্রলীগ। ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দলটি গত সোমবার গভীর রাত থেকে নিজেদের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। গত বৃহস্পতিবার থেকে তারা শাবির অনশনরত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছিলেন।
মেডিকেল টিমের সমন্বয়ক ওসমানী মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসান বলেন, ‘অনশনকারীদের অনেকেরই করোনার উপসর্গ আছে। কিন্তু তারা টেস্ট করাতে রাজি হচ্ছেন না। সেভাবে স্বাস্থ্যবিধিও মানছেন না। এতে আমরা ঝুঁকিতে পড়ছি। আমাদের অনেককেই আবার হাসপাতালে ফিরতে হয়। ফলে অন্যরাও ঝুঁকিতে পড়ছেন।
‘গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় আমরা যেসব অনশনকারীকে হাসপাতালে পাঠাই, তারা হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র না নিয়েই আবার ক্যাম্পাসে চলে যান। ফলে তাদের জীবন যেমন সংকটে পড়ছে, তেমনি আমরাও সমস্যায় পড়ছি।’
ছাত্রলীগের মেডিকেল টিম প্রত্যাহার করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আর কারো কাছ থেকে কোনো চিকিৎসা সহায়তা পাচ্ছেন না। গত ২১ জানুয়ারি শিক্ষার্থীদের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল টিম গেলে তারা তাদের প্রত্যাখ্যান করেন। গতকাল প্রক্টর আলমগীর কবির বলেন, আমরা বারবার শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল টিমের পক্ষ থেকে চিকিৎসাসেবা দিতে চেয়েছি। তবে তারা সেটা প্রত্যাখ্যান করেছেন। এখন শিক্ষার্থীদের যে শারীরিক অবস্থা তাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিম দিয়ে চিকিৎসা দেয়া সম্ভব নয়। আমরা তাদের অনশন ভেঙে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।
২৯ ঘণ্টা পর বিদ্যুৎ সংযোগ পেলেন শাবি ভিসি : অবশেষে কর্মচারীদের সহায়তায় বিদ্যুৎ সংযোগ পেলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। উপাচার্যের বাসভবনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ বিদ্যুৎ সংযোগ চালুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গত সোমবার রাত ১২টা ১০ মিনিটে উপাচার্যের বাসভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করে দিয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। কারণ উপাচার্যের বাসভবনের পার্শ্ববর্তী অর্ধশতাধিক কর্মচারীর বাসা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী এসোসিয়েশনের নেতাদের অনুরোধে তারা এই সংযোগ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী মোহামিনুল বাশার রাজ।
তিনি জানান, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় অর্ধশতাধিক কর্মচারীর বাসা রয়েছে। ওখানে তাদের অনেকেই অসুস্থ রয়েছে। বিষয়টি আমাদের জানিয়ে কর্মচারী এসোসিয়েশনের নেতারা অনুরোধ করেন। মানবিক বিষয়টি বিবেচনায় আমরা সংযোগটি চালু করে দিয়েছি।
অবশেষে খাবার পেলেন শাবি ভিসি : এদিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অবশেষে গতকাল উপাচার্যের খাবার যেতে দিলেন। তবে শিক্ষকের একটি প্রতিনিধিদলকে ভিসির সঙ্গে দেখা করতে না দিয়ে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। ভিসির কাছে খাবার পৌঁছানো হয় পুলিশের মাধ্যমে।
গতকাল দুপুর সোয়া ১টার দিকে শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. তুলসি কুমার দাসের নেতৃত্বে শিক্ষকদের একটি প্রতিনিধিদল উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে দেখা করতে আসলে প্রথমে শিক্ষার্থীরা তাদের আটকে দেন। পরে দীর্ঘ আলোচনা শেষে শিক্ষার্থীরা খাবার দিতে সম্মত হন। এ সময় শিক্ষার্থীরা খাবারের ব্যাগ খুলে ভেতরে থাকা জিনিস যাচাই করেন।
এর আগে গত সোমবার সন্ধ্যায় প্রক্টোরিয়াল বডির সদস্যদের উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করতে দেননি শিক্ষার্থীরা। এমনকি খাবার পৌঁছে দেয়ার কথা বললে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের খাবার নিজে পৌঁছে দেবেন বলেও জানান। তবে প্রক্টোরিয়াল বডির সদস্যরা খাবারগুলো শিক্ষার্থীদের হাতে দেননি।
গতকাল খাবার নিয়ে এসে ফেরার সময় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. তুলসি কুমার দাস বলেন, উপাচার্য অবরুদ্ধ থাকায় অনেকটা অসুস্থ। তাকে দেখতে এসেছিলাম। আসার সময় কিছু খাবারও এনেছিলাম। কিন্তু শিক্ষার্থীরা যেতে দেননি। তবে খাবারগুলো পুলিশ দিয়ে শিক্ষার্থীরা পাঠিয়েছেন।
অনশন অব্যাহত রাখার ঘোষণা শিক্ষার্থীদের : শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা গতকাল রাত সোয়া ৯টায় এক সংবাদ সম্মেলনে অনশন কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। টানা ১৪৮ ঘণ্টা অনশনরত সহপাঠীদের শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন দেখে এর আগে গতকাল বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে শাবির গোলচত্বরে জড়ো হন আন্দোলনকারীরা। আলাপ-আলোচনা শেষে তারা সিদ্ধান্ত নেন, একজন নির্মম-নির্দয় ও নির্লজ্জ উপাচার্য শিক্ষার্থীদের জীবনের জন্য যার সামান্যতম দয়া বা মায়া নেই, সেই ভিসির জন্য তারা তাদের সহপাঠীদের চোখের সামনে মরতে দিতে পারেন না।
এমন চিন্তা-ভাবনা থেকে তারা সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় অনশনরতদের কাছে যান এবং তাদের অনশন ভাঙার অনুরোধ করেন। তার আগে তারা প্রকাশ্যে ভিসি ফরিদ পদত্যাগ না করা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচিসহ অন্যান্য আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার শপথ নেন।
এর জবাবে অনশনরত তিন শিক্ষার্থী জানান, ভিসি পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তারা কোনো অবস্থাতেই অনশন ভাঙবেন না। এখন ক্ষুধা বা অন্য কোনো অনুভূতি কাজ করছে না তাদের। আর তাই তারা অনশন ভাঙবেন না। এ পর্যায়ে আন্দোলনরত অন্য শিক্ষার্থীরা, একযোগে তাদের খাবার গ্রহণের অনুরোধ করলেও তারা সাঁড়া দেননি। বারবার সহপাঠীদের অনুরোধ আর আন্দোলন অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রæতি দেয়া হতে থাকলে এ পর্যায়ে অনশনকারীরা কিছুটা নমনীয় মনোভাব প্রদর্শন করেন।
তারা আন্দোলনকারী সহযোদ্ধাদের কাছে এক ঘণ্টা সময় চান নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা ও চিন্তা-ভাবনার জন্য। সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে অনশনরতদের ১ ঘণ্টা সময় দিয়ে আন্দোলনকারীরা গোলচত্বরের দিকে চলে যান।
এ বিষয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম বলেন, আমাদের যৌক্তিক দাবি না মেনে নেয়ার জন্য নানাভাবে ষড়যন্ত্র চলছে। আমরা চাই ব্যর্থ উপাচার্যের পদত্যাগ। তিনি আমাদের অভিভাবকতুল্য হলেও কোনো সহযোগিতা পাইনি। বরং আমাদের পুলিশ দিয়ে মারধর করেছে। এ আন্দোলনে বহিরাগতদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাব। রাত সোয়া ৯টায় এক সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের নেতা শাহরিয়ার জানান, এই ভিসি তালেবানি কায়দায় ক্যাম্পাসে তার শাসন অব্যাহত রেখেছেন। ভিসি পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
সিলেট মহানগর উপপুলিশ কমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী বলেন, উপাচার্যের বাসভবনসহ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পুলিশ নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়