পরিকল্পনামন্ত্রী : দেশে রাজনীতিবিদের চেয়ে আমলাতন্ত্রের দাপট বেশি

আগের সংবাদ

শ্যামল দত্ত’র প্রত্যয় : চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই এগিয়ে যাবে ভোরের কাগজ

পরের সংবাদ

ডেডলক ভাঙতে আশাবাদী মুমিনুল

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ১, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

কাগজ প্রতিবেদক : নিউজিল্যান্ডের মাটিতে দুই দশকের বেশি সময় ধরে সিরিজ খেলে আসছে বাংলাদেশ। কিন্তু তিন সংস্করণ মিলে ৩২ ম্যাচ খেলে একটিতেও জয়ের দেখা পায়নি টাইগাররা। খালেদ মাসুদ থেকে শুরু করে সবশেষ মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ কেউই অধিনায়ক হিসেবে দলকে কোনো সংস্করণে সাফল্য এনে দিতে পারেননি। তবে এবার ডেডলক ভাঙতে আশাবাদী টাইগার টেস্ট দলের অধিনায়ক মুমিনুল হক। অতীতের ব্যর্থতা ভুলে দলকে সামনে এগিয়ে নিতে চান বলে সংবাদমাধ্যমকে জানান তিনি। বে ওভালে আজ ভোর ৪টায় দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে কিউইদের বিপক্ষে টাইগারদের ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়।
সাদা পোশাকে ৯ ম্যাচে বিবর্ণ অবস্থা লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের। এবার নতুন চ্যালেঞ্জ। যে চ্যালেঞ্জ নেয়ার আগে ‘ভয়ংকর’ অতীতে চোখ রাখতে চাইছেন না অধিনায়ক মুমিনুল হক। চ্যাম্পিয়নশিপের ২ ম্যাচ সিরিজের প্রথম ম্যাচে আজ নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে টাইগাররা। তার আগে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে মুমিনুল বলেন, ‘আগের রেকর্ড অতীত হয়ে গেছে, এটা নিয়ে ঘাটাঘাটি করে কোনো লাভ হবে না। ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা-ভাবনা না করাই ভালো। সব সময় আশাব্যাঞ্জক ও ইতিবাচক চিন্তা করা উচিত।’ মুমিনুল মনে করেন, ১-২ জনের পরিবর্তে এবার জ্বলে উঠতে হবে দল হিসেবে। তিন বিভাগে ভালো করলে নিউজিল্যান্ডে ‘ডেডলক’ ভাঙা অসম্ভব নয়। মুমিনুলের বার্তা, ‘আমরা যতগুলো টেস্ট জিতেছি তা দলগত পারফরম্যান্সের কারণে। সবাই ভালো না করলে ভালো ফলাফল করা কঠিন। তখন ব্যক্তিগত অর্জন হবে ও দলীয় ফলাফল হবে না। আমাদের খেলার যে প্যাটার্ন, তাতে দল হয়ে খেলা খুব জরুরি। তিন ডিপার্টমেন্টেই যেন ভালো করতে পারি।’ এ সময় মুমিনুল আরো বলেন, ‘নিউজিল্যান্ডে অবশ্যই অনেক বেশি চ্যালেঞ্জ থাকবে। আগে থেকেই যদি নেতিবাচক চিন্তা করেন তাহলে ভালো ফলাফল আসবে না। যত চ্যালেঞ্জ থাকুক, আশাবাদী থাকা গুরুত্বপূর্ণ।’ ফলাফল পক্ষে না এলেও নিউজিল্যান্ড বেশ কিছু দাপুটে পারফরম্যান্স আছে বাংলাদেশ দলের অনেক ক্রিকেটারের। এই সিরিজের আগে টেস্ট দলের অধিনায়ক বলেন, ‘নতুন বছর নিয়ে রোমাঞ্চিত। আগে কী হয়েছে এসব নিয়ে চিন্তা না করে সামনের বছর কীভাবে ভালো করে শুরু করা যায় এটা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করছি। শুরুটা ভালো হলে বাকিটাও ভালো যায়।’ বিগত কয়েক বছরে রঙিন পোশাকে বাংলাদেশ দলের পারফরম্যান্স বেশ রঙিন। তবে লাল বলের ক্রিকেট রাঙানো যাচ্ছে না। ২০২১ সালে খেলা ৭ টেস্টের পাঁচটিতেই হার। জয় মাত্র ১ ম্যাচে। ২০২২ সাল নিয়ে ভাবনার কথা জানতে চাইলে অধিনায়ক বললেন, ছোট ছোট লক্ষ্য তৈরি করে এগিয়ে যাওয়াই দলের লক্ষ্য। মুমিনুল বলেন, ‘আপাতত পুরো ২০২২ সাল নিয়ে এত চিন্তা করছি না। এই সিরিজে কতটা ভালো খেলতে পারি এটা নিয়েই চিন্তা করছি। এক বছর টেস্টে কেমন করবেন এসব ভাবা খুব কঠিন। সামনে কঠিন সব কন্ডিশনে খেলব। ছোট ছোট লক্ষ্য তৈরি করে এগিয়ে যাওয়াই ভালো। বাংলাদেশকে ভালো অবস্থানে নিতে চাই। ভুলগুলো থেকে বের হয়ে ভালো খেলতে চাই।’
টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ২টি ম্যাচ খেলতে চলতি বছর দ্বিতীয়বারের মতো নিউজিল্যান্ডে গেল জাতীয় দল। এর আগে বছরের ফেব্রুয়ারি-মার্চে বাংলাদেশ সীমিত ওভারের ম্যাচ খেলতে সেখানে গিয়েছিল। ৩টি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলেছিল। এবার শুধু ২টি টেস্ট খেলবে দুদল। এর আগে ডিসেম্বরে পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই টেস্ট হেরে ঘরের মাঠে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে আবার শেষ টেস্টটি বৃষ্টির কারণে মাত্র আড়াই দিনের মতো খেলা হওয়ার পরও ইনিংস ও ৮ রানে হেরেছে মুমিনুলের দল। এমন পারফরম্যান্সের পর কঠিন নিউজিল্যান্ড সফর, ঘুরে দাঁড়ানো বড় চ্যালেঞ্জই হবে।
এদিকে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে এখনো সাফল্যের দেখা পায়নি টাইগাররা। তিন সংস্করণ মিলে কিউইদের বিপক্ষে তাদের ঘরের মাঠে ৩২টি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ দল। তার মধ্যে একটিতেও পায়নি জয়ের দেখা। অন্য যে কোনো সংস্করণের চেয়ে বাংলাদেশ দল ওয়ানডে ম্যাচে দুর্দান্ত। বড় বড় দলগুলোও বাংলাদেশকে এই সংস্করণে কঠিন প্রতিপক্ষ মানে। কিন্তু নিউজিল্যান্ডের মাটিতে বাংলাদেশ ১৬টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলে ফেললেও একটিতেও জিততে পারেনি। আর টি-টোয়েন্টি ম্যাচ, যেখানে ছোট হোক বা বড় যে কোনো দলই মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে জয় তুলে নিতে পারেন। অথচ বাংলাদেশ দল নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৭টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে একটিতেও পাত্তা পায়নি। তবে চলতি সিরিজে এই দুই সংস্করণ নিয়ে ভাবছেন না টাইগাররা। কারণ তাদের ভাবনাজুড়ে এখন টেস্ট সিরিজ। কিন্তু এই সাদা পোশাকে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ব্যর্থ মুশফিকরা। ৯টি আন্তর্জাতিক টেস্টে তাদের বিপক্ষে মোকাবিলা করে জয়ের বদলে কোনো একটি ম্যাচে ড্রও করতে পারেনি টাইগাররা। এই ৯ টেস্টের আবার ৫টিতেই ইনিংস হারের লজ্জা আছে সাকিব-তামিমদের। দুই ম্যাচে আবার হেরেছেন ৯ উইকেটের ব্যবধানে। সবশেষ ২০১৯ সালে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলেছিল বাংলাদেশ দল। দুই ম্যাচেই তারা ইনিংস ব্যবধানে হেরেছিল।
এদিকে সাকিব আল হাসান ছাড়া কিউইদের মুখোমুখি টাইগাররা। এই অলরাউন্ডারের অনুপস্থিতি দলের জন্য বড় ক্ষতি হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশ দলের হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গো। টেস্টে সাকিবের ক্যারিয়ার সেরা ব্যাটিং এই নিউজিল্যান্ডের মাটিতে। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে ওয়েলিংটনে তিনি ২১৭ রানের একটি অনবদ্য ইনিংস খেলেন। কিউইদের বিপক্ষে ৬৩.৫৮ গড়ে সাকিবের রান সংখ্যা ৭৬৩। ব্ল্যাক ক্যাপসদের বিপক্ষে ৮ ম্যাচে সাকিবের উইকেট সংখ্যা ২৬। টাইগার অলরাউন্ডারকে নিয়ে ডমিঙ্গো বলেন, ‘সাকিবের অনুপস্থিতি অবশ্যই ক্ষতির। সে বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডারদের একজন, খুব সুন্দরভাবে দলটাকে ভারসাম্যপূর্ণ করে তোলে। টপ সিক্সে ব্যাট করতে পারে, বল হাতে উইকেট এনে দেয়। তাই তার অনুপস্থিতি অবশ্যই ক্ষতি। তবে তার অনুপস্থিতিকে তরুণরা কাজে লাগাতে পারে।’
এদিকে বে ওভালে একাদশ সাজানোর বিষয়ে ডমিঙ্গো বলেন, ‘এখনো উইকেট দেখিনি। উইকেট দেখার পর একাদশ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেব। তবে আশা করছি ভালো উইকেটই পাব। তবে হয়তো পেস ও স্পিন দুটোকে গুরুত্ব দিয়েই একাদশ সাজাব। চতুর্থ ও পঞ্চম দিনে উইকেটে কিছুটা স্পিন ধরবে।
বাংলাদেশ ঐতিহাসিকভাবে স্পিন নির্ভর। তবে আমাদের দলে ভালো পেসার আছে। হয়তো ৩ পেসারের ওপর ভরসা রাখব। উইকেট দেখে নির্বাচকদের সঙ্গে আলোচনা করব। তবে ভারসাম্যপূর্ণ বোলিং আক্রমণ হবে। ৩ পেসার ও ১ স্পিনার থাকতে পারে।’

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়