পরিকল্পনামন্ত্রী : দেশে রাজনীতিবিদের চেয়ে আমলাতন্ত্রের দাপট বেশি

আগের সংবাদ

শ্যামল দত্ত’র প্রত্যয় : চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই এগিয়ে যাবে ভোরের কাগজ

পরের সংবাদ

এ পর্যন্ত ৪০ জন পাচার : কিডনি ও লিভার পাচার চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ১, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম অফিস : চট্টগ্রাম থেকে মানুষের কিডনি ও লিভার পাচারকারী একটি আন্তর্জাতিক চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। গতকাল শুক্রবার নগরীর পতেঙ্গায় র‌্যাব-৭ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি জানানো হয়। দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় সংঘবদ্ধ চক্রটি কিডনি বিক্রির জন্য এ পর্যন্ত ৪০ জনকে দেশের বাইরে পাচার করেছে বলে জানায় র‌্যাব। আর্থিক সমস্যায় পড়া লোকজনদের টার্গেট করে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে কিডনি ও লিভার সংগ্রহ করত চক্রটি। প্রতিটি কিডনি ডোনারের সঙ্গে ৪ থেকে সাড়ে ৪ লাখ টাকায় মৌখিক চুক্তি হলেও চক্রটি কিডনি বিক্রির জন্য ভারতীয় এজেন্টদের কাছ থেকে নিত ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা।
র‌্যাব-৭ অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এ ইউসুফ বলেন, গ্রেপ্তারদের মধ্যে রনি আন্তর্জাতিক কিডনি ও লিভার পাচারকারী দলের সদস্য। বাংলাদেশে এই সিন্ডিকেটের মূল হোতা ডালিম। ভারতে অবস্থান করা পাচারকারী চক্রের শাহিন নামে এক ব্যক্তি বাংলাদেশে রনি ও আমলসহ অন্যদের মাধ্যমে কিডনি ও লিভারের ডোনার সংগ্রহ করে থাকে। ডোনার সংগ্রহ করে তাদের ভারতে পাচারের ব্যবস্থা করে চক্রটির লোকজন।
এ কর্মকর্তা জানান, সম্প্রতি সাইফুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে সাড়ে ৪ লাখ টাকায় কিডনি ডোনেট করার প্রলোভন দেখিয়ে ভারতে পাচারের চেষ্টা করা হয়। গত ৩০ ডিসেম্বর বিকালে নগরীর খুলশীর ইন্ডিয়ান ভিসা অফিসের সামনে সাইফুলের পাসর্পোটে ভিসা লাগানোর কাজে থাকা অবস্থায় সংঘবদ্ধ পাচারকারী দলের এই সদস্যদের হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনাস্থল হতে একজন ভিকটিম ও বিভিন্ন ডকুমেন্ট জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছে- মুন্সীগঞ্জ জেলার বাসুদিয়া গ্রামের মতিউর রহমানের ছেলে মোহাম্মদ আলী ডালিম (৩৫), কিশোরগঞ্জ সদরের আখড়াবাজার এলাকার প্রয়াত হাবিবুর রহমানের ছেলে আতিকুর রহমান রনি (৩৬) ও মাদারীপুর জেলার শিবচর থানার সম্বুক এলাকার প্রয়াত মুজিবুর রহমানের ছেলে আলম হোসেন (৩৮)। জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা নিজেদের সংঘবদ্ধ পাচারকারী দলের সদস্য বলে স্বীকার করে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, গ্রেপ্তারকৃত ডালিমের নেতৃত্বে এই চক্রের সদস্যরা প্রথমে কিডনি ডোনেট সেন্টারসহ বিভিন্ন নামে ফেসবুক পেজ ওপেন করে থাকে। ওই পেজে বিভিন্ন পোস্টের মাধ্যমে ডোনারদের নানাভাবে কিডনি ও লিভার ডোনেশনের ব্যাপারে প্রলোভন দেখানো হয়। ডোনার পাওয়ার পর ওই চক্রের সদস্যরাই তাদের পাসপোর্ট ও ভিসা লাগানোর ব্যবস্থা করে দেয়। এরপর ঢাকার ল্যাবএইড হাসপাতালে তাদের রক্ত, কিডনি ও লিভার পরীক্ষা করানো হয়। রিপোর্ট ঠিক থাকলে ডোনারদের তারা ভারতে পাচার করে।
সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৭ জনসংযোগ কর্মকর্তা নিয়াজ মোহাম্মদ চপল বলেন, কিডনির ডোনারদের মোটা অঙ্কের অর্থের লোভ দেখিয়ে ভারতে পাঠানো হয়। এজন্য তাদের পাসপোর্ট তৈরি করে দেয়াসহ সব ব্যবস্থা করে চক্রটির লোকজন। কিডনি নিয়ে চক্রটির বেশ কয়েকটি ফেসবুক গ্রুপ সক্রিয়। দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় চক্রটি কিডনি বিক্রির জন্য এ পর্যন্ত ৪০ জনকে ভারতে পাঠিয়েছে। কিডনি/লিভার প্রদানের পর ডোনাররা পরবর্তী সময়ে অসুস্থ হয়ে গেলেও পাচারকারী দলটি তাদের ন্যূনতম সাহায্য-সহযোগিতা করত না। কিডনি প্রদানের পর কেউ কেউ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন এমনও নজির রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে খুলশী থানায় মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনের নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি বলেন, বিশেষ করে করোনা মহামারির কারণে এত দিন যারা প্রবাসে ছিলেন তাদের অনেকেই বর্তমানে দেশে ফিরে এসেছেন। এর আগে প্রবাসীদের অনেকেই বিদেশে যাওয়ার আগে বিভিন্ন জনের কাছে ধারদেনা করে গেছেন। দেশে ফিরে আর্থিক সমস্যায় পড়া এ ধরনের লোকদেরই মূলত তারা টার্গেট করে। পাশাপাশি দরিদ্র লোকদেরও টার্গেট করে তারা।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়