লজিক প্রকল্প : রৌমারীতে সোলার পাম্প স্থাপন শুরু

আগের সংবাদ

চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কী প্রস্তুতি : বিভিন্ন দেশের সঙ্গে অগ্রাধিকার ও মুক্তবাণিজ্য চুক্তি হবে > ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে

পরের সংবাদ

সংসদে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর আলোচনায় বক্তারা : বঙ্গবন্ধু ছিলেন আপামর বাঙালির আশ্রয়স্থল

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৬, ২০২১ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ২৬, ২০২১ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

কাগজ প্রতিবেদক : স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের স্মারক বক্তৃতা সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সভাপতিত্বে কণ্ঠভোটে ১৪৭ বিধিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উত্থাপিত প্রস্তাবটি দুদিনের আলোচনা শেষে সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করা হয়। এ প্রস্তাবের ওপর প্রধানমন্ত্রীসহ ৫৯ জন এমপি ১০ ঘণ্টা ৫৫ মিনিট আলোচনা করেন। বক্তারা বলেন, বঙ্গবন্ধু না জন্মালে এদেশ স্বাধীন হতো না। তিনি ছিলেন আপামর বাঙালি জাতির আশ্রয়স্থল।
গতকাল প্রস্তাবটির ওপর আলোচনায় সাবেক মন্ত্রী ও বর্ষীয়ান সাংসদ আমীর হোসেন আমু বলেন, বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান সৃষ্টি হওয়ার জন্ম থেকেই বুঝতে পেরেছিলেন, এটা আমাদের বাঙালি জাতির জন্য হয়নি। তাই তিনি ধাপে ধাপে আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে বাঙালিদের জন্য অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রাম করে গেছেন। সেই থেকে তার যাত্রা শুরু।
তিনি বলেন, আমরা ছাত্ররা বঙ্গবন্ধুর শেখানো লাহোর প্রস্তাব বাস্তবায়নের দাবি নিয়ে আন্দোলন শুরু করেছিলাম। তার দেয়া ৬ দফা বাঙালির মুক্তি সনদ হিসেবে পরিগণিত হয়। এই ৬ দফার মাধ্যমে দেশের আপামর জনগণ উজ্জীবিত হয় এবং একমাত্র দাবি হিসেবে পরিগণিত হয়েছিল। তিনি ৬ দফার ভিত্তিতে শাসনতন্ত্র কায়েমের দাবি জানিয়েছিলেন।
বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের উল্লেখ করে আমির হোসেন আমু বলেন, এটা ছিল স্বাধীনতার ডাক, একটি গেরিলা যুদ্ধের রূপরেখা। বঙ্গবন্ধুই ছিলেন এদেশের বাঙালির একমাত্র আশ্রয়স্থল। কিন্তু এদেশের স্বাধীনতাবিরোধীরা তাকে সপরিবারে হত্যা করে দেশকে পিছিয়ে দেয়। বঙ্গবন্ধু কন্যার হাত ধরে দেশ আবার এগিয়ে যাচ্ছে, তিনি মাদার অব হিউম্যানিটিসহ ২৭টি পুরস্কারে ভূষিত

হয়েছেন।
বঙ্গবন্ধুর বিষয়ে সংসদে বিরোধী দলের উপনেতা জি এম কাদের বলেন, তিনি স্বাধীনতার প্রশ্নে এক বিন্দু আপস করেননি। তিনি বলেছিলেন, এদেশ থেকে দুর্নীতি দূর করতে হবে। তবে এখনো দেশে দুর্নীতি চলছে। এটা বন্ধ করতে না পারলে আমরা কাক্সিক্ষত অবস্থানে যেতে পারব না।
সংসদে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে রাষ্ট্রপতির ভাষণের বিষয়ে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি জোর দিয়ে

বলেছেন, দেশের সব রাজনৈতিক দলকে দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের উন্নয়নে কাজ করতে হবে। দেশ থেকে প্রতিহিংসার রাজনীতি দূর করতে হবে। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
দেশের গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি নির্বাচন ব্যবস্থাকে অবাধ ও সুষ্ঠু করার দাবি জানান। সুশাসন নিশ্চিত করা এবং অবিচার-অনাচার, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করার দাবি জানান তিনি। জি এম কাদের জাপার সাবেক প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আমলের উন্নয়নের উল্লেখ করেন। বিচার বিভাগকে আরো স্বাধীনতা দেয়ার আহ্বান জানিয়ে সংবিধানে যেসব বিষয় সাংঘর্ষিক আছে, তা সংশোধনের দাবি জানান তিনি।
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, বিএনপির সুশাসন মানে বঙ্গবন্ধুর আইনের শাসনকে, গণতন্ত্রকে অন্ধকারের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করে সেনাশাসন- অগণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা চালু করা। গণতন্ত্র হরণ, আলবদর, রাজাকারদের হাতে পতাকা তুলে দেয়া। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের ইনডেমনিটি আইনের মাধ্যমে বিদেশে রাষ্ট্রদূত করে পুরস্কৃত করা। জিয়ার আমলে বিনা বিচারে ক্যান্টনমেন্টে প্রতি রাতে শত শত নিরাপরাধ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। তাদের মুখে এখন গণতন্ত্রের কথা মানায় না।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়া সাজাপ্রাপ্ত আসামি হয়েও বাসায় থেকে তিন তিনবার হাসপাতালে গিয়েছেন। তাকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য পাঠাতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান বিএনপির হারুনুর রশীদের। কেন, এদেশে কি চিকিৎসা হয় না? আমরা বিদেশ থেকে ডাক্তার এনে চিকিৎসার কথা বলেছি। তারা একই কথা বলেই চলেছেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে ইনডেমনিটি আইন বাতিল করে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করেছেন, জেলহত্যা, জাতীয় চার নেতা হত্যার বিচার করেছেন। তিনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছেন। প্রচণ্ড রিস্ক নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণতন্ত্র ও আইনের শাসন ফিরিয়ে আনেন। আমি মনে করি, সুযোগ্য নেতৃত্বে তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এমন একটি বাংলাদেশ উপহার দিয়ে যাবেন, যা হবে একটা সুন্দর ও ধনী দেশ।
মতিয়া চৌধুরী বলেন, ১৯৮১ সালে শেখ হাসিনা এ দেশে এসেছিলেন আলোকবর্তিকা হিসেবে। তিনি এখনো আছেন এদেশের আপামর জনগণের সঙ্গে। এই করোনার সময় যখন সবাই ভেবেছিলেন সব কিছু স্তব্ধ হয়ে যাবে, সব কিছু শেষ হয়ে যাবে, তখন প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্র মানুষের হাতে মোবাইলে টাকা পাঠিয়েছেন। তিনি অত্যন্ত সুদক্ষভাবে এ ক্রান্তিকাল কাটাতে সফল হয়েছেন।
খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে তিনি বলেন, ওনাদের (বিএনপি) এদেশের কোনো কিছু পছন্দ হয় না। দেশের অর্থ লুট করে তাদের বিদেশ যেতে হবে, এটাই তাদের ইচ্ছে। তিনি বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় আহত (নিহত) আইভি রহমানকে দেখতে বিএনপি সরকার তার ছেলেমেয়েদেরকেও দেখতে দেয়নি। অথচ খালেদা জিয়াকে জেলে না রেখে বাসায় থেকে তার কুলাঙ্গার ছেলের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দিচ্ছেন, চিকিৎসার সুযোগ দিচ্ছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে দেশের পদ্মা সেতু, পায়রা বন্দর, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ নানা উন্নয়নের কথা তুলে ধরে চিফ হুইপ নূর ই আলম চৌধুরী বলেন, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে প্রধানমন্ত্রী অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। দেশ অচিরেই উন্নত দেশে রূপান্তরিত হবে।
এছাড়া স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ১৪৭ ধারার রাষ্ট্রপতির দেয়া ভাষণের ওপর আরো বক্তব্য রাখেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, সাবেক প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মুস্তাফিজুর রহমান, সাবেক চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক, সাবেকমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, বিমান প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী, ডা. প্রাণগোপাল দত্ত, বিএনপির হারুনুর রশীদসহ ৫৯ জন এমপি। পরে সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে স্বাধীনতা সুবর্ণজয়ন্তীতে দেয়া রাষ্ট্রপতির ভাষণটি গৃহীত হয়।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়