লজিক প্রকল্প : রৌমারীতে সোলার পাম্প স্থাপন শুরু

আগের সংবাদ

চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কী প্রস্তুতি : বিভিন্ন দেশের সঙ্গে অগ্রাধিকার ও মুক্তবাণিজ্য চুক্তি হবে > ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে

পরের সংবাদ

সংসদে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী : সংকটে-সংগ্রামে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৬, ২০২১ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ২৬, ২০২১ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

কাগজ প্রতিবেদক : তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, সংকটে-সংগ্রামে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ অদম্যগতিতে এগিয়ে চলছে। তিনি সব প্রতিকূলতাকে পেছনে ফেলে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নপূরণের পথে এগিয়ে যাচ্ছেন। পৃথিবীর সামনে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করতে পেরেছে বাংলাদেশ। বিশ্বের উন্নত দেশগুলো বিষয়টি এখন অকপটে স্বীকার করছে।
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বিশেষ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সংসদে সভাপতিত্ব করছিলেন। রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অন্যদের মধ্যে অংশ নেন সরকারদলীয় সাংসদ শাজাহান খান, বিরোধীদলীয় সাংসদ ফখরুল ইমাম প্রমুখ।
ড. হাছান মাহমুদ বলেন, পাকিস্তানের স্বাধীনতার পরপরই বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতার কথা চিন্তা করেছিলেন। তিনি জানতেন, কখন কোন বিষয়টি জনগণের সামনে আনতে হবে। বঙ্গবন্ধু কেবল বাংলাদেশ রচনাই করেননি- দেশকে উন্নত, সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে রূপান্তরের জন্য কাজ করেছিলেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে পুনর্গঠন করে যখন এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন ঠিক তখনই তাকে হত্যা করা হয়। বঙ্গবন্ধুকে যখন হত্যা করা হয় তখন দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৯ দশমিক ৫৯ শতাংশ। আজ পর্যন্ত এই জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারিনি আমরা। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা না করলে ওই প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে স্বাধীনতার ১০-১৫ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ হতো উন্নত রাষ্ট্র।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার আগে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের মাথাপিছু আয় পশ্চিম পাকিস্তানের প্রায় অর্ধেক ছিল। বঙ্গবন্ধুর শাসনামলে ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় পাকিস্তানকে ছাড়িয়ে যায়। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি, মানব উন্নয়নসহ সব সূচকে আজ বাংলাদেশ পাকিস্তানকে পেছনে ফেলেছে। এটাই বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ রচনার সার্থকতা। আজ পাকিস্তান আমাদের দিকে তাকিয়ে হা-হুতাশ করছে।
প্রধানমন্ত্রী আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে

দেশের উন্নয়নের প্রশংসা করতে গিয়ে তাকে ‘আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টির (জাপা) সাংসদ ফখরুল ইমাম। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বিশেষ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছরে আমরা একটি আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ পেয়েছি। আর সেই প্রদীপ হলো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, লৌহ কঠিন হাতে দুর্নীতির লাগাম ধরতে হবে। জনসংখ্যার বাড়ার হার কমানো, বেকারত্ব সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসতে হবে। করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলা করতে হবে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানো, উগ্রবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা মোকাবিলা করা, দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়-ক্ষমতার মধ্যে আনা, গণতন্ত্রের চাকা অব্যাহত রাখা, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া ইত্যাদি মোকাবিলা করতে হবে।
তিনি বলেন, আমাদের মুক্তিযুদ্ধের পেছনের সব উদ্দেশ্য রাতারাতি পূরণ হয়ে যাবে, এমন ভাবার কোনো কারণ নেই। তবে দেশপ্রেম, সততা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ পরিচালিত হলে অল্প সময়ের মধ্যে আমরা সব অর্জন করতে পারব।
তিনি বলেন, উন্নত দেশ হতে হলে, মানুষের উন্নতির ব্যবস্থার দরকার। এক জরিপে দেখা যায়, দেশের ২ কোটি ৩৪ লাখ মানুষ এখনো অনুন্নত ও অস্বাস্থ্যকর পায়খানা ব্যবহার করে। দেড় শতাংশ মানুষ খোলা জায়গায় মল ত্যাগ করে। এসব বিষয়ে সামনের দিনগুলোতে বাংলাদেশকে কিছু বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে।
’৭১ এ গণহত্যার জন্য পাকিস্তানকে ক্ষমা চাওয়া উচিত : স্বাধীনতা সুবর্ণজয়ন্তীর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি সাবেক নৌমন্ত্রী ও সরকারদলীয় সাংসদ শাজাহান খান বলেন, ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যার জন্য পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর কিংবা পাকিস্তার সরকার আজও ক্ষমা চায়নি। রাজাকার, আল বদররা আজও ক্ষমা চায়নি। সেই জামায়াত জিয়াউর রহমান আর খালেদা জিয়ার বদান্যতায় এখনো রাজনীতি করে। গণহত্যা ও আমার দেশের দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম নষ্ট করার জন্য পাকিস্তানকে ক্ষমা চাওয়া উচিত।
তিনি বলেন, আজকে বাংলাদেশ বিশ্বের বিস্ময়। নিজস্ব টাকায় পদ্মা সেতু করছি। মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেলসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ চলছে। যারা সর্বদা চক্রান্ত করছে, সেই বিএনপি-জামায়াত নেতারা দেশের উন্নয়ন না দেখে অন্ধভাবে ষড়যন্ত্র করছে। জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নস্যাৎ করতে চেয়েছিল। কিন্তু সফল হয়নি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ এগিয়ে যাচ্ছে এবং এগিয়ে যাবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়