লজিক প্রকল্প : রৌমারীতে সোলার পাম্প স্থাপন শুরু

আগের সংবাদ

চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কী প্রস্তুতি : বিভিন্ন দেশের সঙ্গে অগ্রাধিকার ও মুক্তবাণিজ্য চুক্তি হবে > ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে

পরের সংবাদ

ভারতীয় সেনাপ্রধান : বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ভারতে সন্ত্রাসী ঘাঁটি হতে দেব না

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৬, ২০২১ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ২৬, ২০২১ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

কাগজ ডেস্ক : ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ঐতিহাসিক স্থল সীমানা চুক্তি পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে সীমান্ত বিরোধ মীমাংসার ক্ষেত্রে এমন এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, যখন ‘কিছু’ দেশ বলপ্রয়োগের মাধ্যমে সেটি নষ্ট করার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল মনোজ নারাভানে। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে কোনো সন্ত্রাসীগোষ্ঠীকে আমাদের মাটি ব্যবহার করতে দেব না। গত বুধবার নয়াদিল্লিতে সেন্টার ফর ল্যান্ড ওয়ারফেয়ার স্টাডিজ আয়োজিত ‘ভারত-বাংলাদেশ : বন্ধুত্বের ৫০ বছর’ শীর্ষক এক সেমিনারে এ মন্তব্য করেন তিনি। দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় লাদাখে চীনের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যখন ভারতের উত্তেজনা চলছে এবং এই উত্তেজনা প্রশমনে দফায় দফায় আলোচনা চললেও তা খুব বেশি ফলপ্রসূ হচ্ছে না, তখন জেনারেল মনোজ নারাভানে প্রতিবেশী বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্কের এ প্রশংসা গাইলেন। খবর দ্য হিন্দু, টাইমস অব ইন্ডিয়া।
সেমিনারে বাংলাদেশের হাইকমিশনার মুহাম্মদ ইমরান ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা পানি বণ্টনের বিষয়টি ‘আবেগপ্রবণ সমস্যা’ বলে অভিহিত করেন। একই সঙ্গে পুরোনো এই সমস্যা সমাধানে মনোযোগ দেয়ার আহ্বান জানান তিনি। জেনারেল নারাভানে বলেন, আমাদের মধ্যে এই চুক্তি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস এবং প্রতিশ্রæতির প্রতীক। চলতি বছর বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং ভারত-বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কেরও ৫০ বছর পালিত হচ্ছে। এ বিষয়ে আমি একটি বই প্রকাশ করেছি। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নেয়া মুক্তিযোদ্ধা ও সৈন্যদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার সংকলন এই বই।
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়ে বাংলাদেশের হাইকমিশনার মুহাম্মদ ইমরান বলেন, দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক সা¤প্রতিক বছরগুলোতে আরো স¤প্রসারিত হয়েছে। আমরা ৩০ বছরের চুক্তির মাধ্যমে গঙ্গার পানিবণ্টন সমস্যার সমাধান করেছি। কিন্তু আমাদের আরো কিছু অভিন্ন নদী রয়েছে, যেগুলোর দিকে মনোযোগ দেয়া দরকার। পানিবণ্টন বাংলাদেশের জন্য একটি আবেগময় সমস্যা এবং সহানুভূতির সঙ্গে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এই সমস্যার সমাধান করতে হবে। তিনি বলেন, ভারতের অনুরোধে ত্রিপুরার জনগণের স্বার্থে ফেনী নদীর পানি প্রত্যাহারে নয়াদিল্লিকে বাংলাদেশ অনুমতি দিয়েছে। অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে দুদেশের মধ্যে তিস্তা নদীর পানি বণ্টন চুক্তি ঝুলে আছে।

অতীতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে সমস্যা ছিল উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, বর্তমান শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে ঐতিহাসিক অগ্রগতি হয়েছে। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ১০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। স্বাধীনতা যুদ্ধে প্রাণ হারানো ভারতীয় সৈন্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ত্রিপুরা সীমান্তের কাছে আশুগঞ্জে স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করেছে বাংলাদেশ।
পারস্পরিক সামরিক সহযোগিতার বিষয়ে ভারতের সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল নাভারানে বলেন, বাংলাদেশ এবং ভারত একত্রে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে সবচেয়ে বেশি সৈন্য পাঠিয়েছে। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থানের ব্যাপারে তিনি বলেন, আমরা ভারতের বিরুদ্ধে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে এমন সন্ত্রাসীগোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে বাংলাদেশের প্রচেষ্টা সম্পর্কে অবগত। ভারতের ভূখণ্ডকে আমরা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কোনো সন্ত্রাসী তৎপরতার ঘাঁটি হতে দেব না। ভারত এ ধরনের প্রচেষ্টা প্রতিরোধ সর্বদা অব্যাহত রাখবে বলেও জানান তিনি।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়