লজিক প্রকল্প : রৌমারীতে সোলার পাম্প স্থাপন শুরু

আগের সংবাদ

চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কী প্রস্তুতি : বিভিন্ন দেশের সঙ্গে অগ্রাধিকার ও মুক্তবাণিজ্য চুক্তি হবে > ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে

পরের সংবাদ

বিষয় মুনতাসীর মামুন : ১২টি গ্রন্থের প্রকাশনা উৎসব

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৬, ২০২১ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ২৬, ২০২১ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশের অন্যতম জনবুদ্ধিজীবী মুনতাসীর মামুন শুধু ইতিহাস বা সাহিত্য চর্চাই করেননি, রাজপথে গণতান্ত্রিক আন্দোলনেও থেকেছেন। সংগঠন করেছেন, যা চিন্তা করেছেন তা কর্মে প্রয়োগ করতে চেয়েছেন। গত ৪৬ বছরের শিক্ষকতায় অজস্র ছাত্রছাত্রীকে অনুপ্রাণিত করেছেন প্রগতিশীল চিন্তায়। বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ, গবেষক, শিল্পসংগ্রাহক, বাংলাদেশের সামাজিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিনি খ্যাতিমান ও জনপ্রিয়। উনিশ শতকের পূর্ববঙ্গ, ঢাকা, মুক্তিযুদ্ধ, সিভিল সমাজ, সমকালীন সমাজ ও রাজনীতি, অনুবাদ, ভ্রমণ তার চিন্তার ক্ষেত্র। যদিও ছোটগল্প ও কিশোরসাহিত্য রচনার মধ্য দিয়ে তার সাহিত্যজীবনের উন্মেষ ঘটেছিল। দেশে-বিদেশে প্রকাশিত তার গ্রন্থসংখ্যা প্রায় সাড়ে তিনশোর অধিক।
বাংলাদেশের সিভিল সোসাইটি আন্দোলনের অন্যতম মুখপাত্র হিসেবে তিনি গত পঞ্চাশ বছর ধরে নানা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিস্তারে তার অবদান ও কীর্তি হিমালয়সম। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের দাবিতে তার রয়েছে দীর্ঘ লড়াইয়ের ইতিহাস। মৌলবাদের বিরুদ্ধে ও সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা দেয়ার ক্ষেত্রে তার কলম অগ্রসেনানীর ভূমিকা পালন করেছে। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে রাজনৈতিক ভাষ্য তৈরি করছেন। বিএনপি-জামায়াত আমলে জেল খেটেছেন এসব কারণে। চার বার মৌলবাদী সন্ত্রাসীদের আক্রমণের শিকারও হয়েছিলেন তিনি। বাংলাদেশকে জনরাষ্ট্রে পরিণত করার সংগ্রামী ভূমিকায় পরিণত হয়েছেন জনবুদ্ধিজীবীতে।
গত ২৪ মে তিনি ৭০ বছরে পদার্পণ করেছেন। তার ছাত্রছাত্রী সুহৃদরা এক বছর আগে থেকে চিন্তা করেছিলেন ২৪ মে তারা এক আনন্দ উৎসব ও মুনতাসীর মামুনের জীবন ও কর্মের ওপর এক ডজন বই প্রকাশ করবেন। কিন্তু গত বছরই তিনি কোভিডে আক্রান্ত হন। তার মা ও বড় চাচা বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীরের মৃত্যু হয়। গত বছর থেকে এ বছর পর্যন্ত শুধু তার নয়, বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রথিতযশা অনেকেই মৃত্যুবরণ করেছেন। সমষ্টিগত বিষাদ এখন চতুর্দিকে। ২৪ মে তারিখের অনুষ্ঠান স্থগিত রাখা হয়েছিল। তবে তার সংস্পর্শে যারা এসেছেন এবং লিখছিলেন এই বিষাদাক্রান্ত সময়ে তারা নিজ কর্ম থেকে বিচ্যুত হননি। মুনতাসীর মামুন শিখিয়েছেন কর্মেই মুক্তি। ‘বিষয় মুনতাসীর মামুন’ নামে প্রকল্পের অধীনে তার সম্পর্কে বইগুলো লেখা এবং প্রকাশিত হয়েছে। যদিও অনেকে বলছেন এতগুলো বই সম্পর্কে গবেষণা সত্ত্বেও তার কর্মের কিছু অংশ বাদ পড়েছে।
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তোলা, সিভিল সমাজ প্রতিষ্ঠা, প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা সব ক্ষেত্রে মুনতাসীর মামুন ভূমিকা পালন করলেও তাকে বার বার মুরতাদ ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু সিভিল সমাজ তাকে দিয়েছে অফুরন্ত ভালোবাসা। তিনি যখন কোভিড আক্রান্ত তখন প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সারাদেশের মানুষ তার জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাই, সিভিল সমাজের পক্ষ থেকেই মুনতাসীর মামুনের জন্মদিনে এই উদ্যোগ ‘বিষয় মুনতাসীর মামুন।’ আগামী ২৮ নভেম্বর জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনাতনে ১২টি গবেষণা গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হবে। গ্রন্থসমূহ : ‘বঙ্গবন্ধুর জীবনীর বহুমাত্রিক পাঠ : মুনতাসীর মামুনের বঙ্গবন্ধু চর্চা’ ড. মো. মাহবুবর রহমান; ‘সিভিল সমাজ ও রাষ্ট্র দর্শন : মুনতাসীর মামুন-এর বাংলাদেশ চর্চা’- ড. মুর্শিদা বিন্তে রহমান; ‘রাষ্ট্র ও প্রজন্মের উত্তরাধিকার : মুনতাসীর মামুনের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস চর্চা’- ড. আহম্মেদ শরীফ; ‘মুনতাসীর মামুন কীভাবে আমাদের হলেন’- ড. চৌধুরী শহীদ কাদের; ‘পূর্ববঙ্গের জাগরণ : মুনতাসীর মামুনের পূর্ববঙ্গ চর্চা’ মামুন সিদ্দিকী; ‘ঐতিহাসিকের মানসজগৎ : মুনতাসীর মামুনের সাক্ষাৎকারগুচ্ছ’ মামুন সিদ্দিকী; ‘আন্দোলন, সংগঠন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিকাশে মুনতাসীর মামুন’ তপন পালিত; ‘বহুমাত্রিক মুনতাসীর মামুন’ ড. মো. মাহবুবর রহমান; ‘মেঘবতীর খোঁজে মুনতাসীর মামুন’ সোনালী ইসলাম; ‘মুনতাসীর মামুন গ্রন্থপঞ্জি’ ড. মুর্শিদা বিন্তে রহমান; ‘মুনতাসীর মামুনের স্থানীয় ইতিহাস চর্চা’ ড. মো. মাহবুবর রহমান; ‘ঢাকার ইতিহাস চর্চা ও মুনতাসীর মামুন’ রেহানা পারভীন।
আলোচ্য গ্রন্থগুলো পাঠের মাধ্যমে পাঠক মুনতাসীর মামুনের লেখালেখি, সংগঠন প্রতিষ্ঠা ও আন্দোলন-সংগ্রাম সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে উপকৃত হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছি।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়