লজিক প্রকল্প : রৌমারীতে সোলার পাম্প স্থাপন শুরু

আগের সংবাদ

চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কী প্রস্তুতি : বিভিন্ন দেশের সঙ্গে অগ্রাধিকার ও মুক্তবাণিজ্য চুক্তি হবে > ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে

পরের সংবাদ

‘নাঈমের স্বপ্নগুলো আমার কাছে থেকে গেল’

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৬, ২০২১ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ২৬, ২০২১ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

ল²ীপুর প্রতিনিধি : রাজধানীর গুলিস্তানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ময়লার গাড়ির চাপায় নিহত নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী নাঈম হাসানের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল সকালে ল²ীপুরের রামগঞ্জ পৌরসভার পূর্ব কাজীরখিল এলাকায় গ্রামের বাড়িতে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হয়।
এসময় নাঈম হাসানের বাবা শাহ আলম কান্নজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলে এখন আর নেই। তার স্বপ্নগুলো আমার কাছে থেকে গেল। আমি পল্টন থানায় মামলা করেছি। আমি ওই গাড়িচালকের উপযুক্ত বিচার চাই।
তার পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নাঈম সমাপনী পরীক্ষা, জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়ে প্রথমে ঢাকা কলেজে ভর্তি হয়। পরে সে নটর ডেম কলেজে ভর্তি হয়। সেখানে মানবিক বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিল। তার স্বপ্ন ছিল পড়ালেখা শেষ করে জজ হওয়ার। কিন্তু অদক্ষ চালকের গাড়িচাপায় তার সেই স্বপ্ন মাটির নিচে চাপা পড়েছে।
নাঈম হাসানের মামা কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষক ফারুক আহমেদ বলেন, আমার ছেলের সমতুল্য ছিল নাঈম। খুব মেধাবী ছাত্র ছিল। জজ হয়ে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করার স্বপ্ন নিয়ে সে পড়ালেখা করছিল। কিন্তু ময়লা পরিষ্কারক, যার গাড়ি চালানোর কোনো লাইসেন্স ছিল না। সে আমার ভাগ্নেকে হত্যা করেছে। আমি এ হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।
নাঈমের জেঠা আবদুল আউয়াল দেওয়ান বলেন, আমার ভাতিজা খুব ভালো ছাত্র ছিল। যারা তাকে গাড়ি চাপা দিয়ে হত্যা করেছে, আমি তাদের বিচার চাই। অদক্ষ চালকদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে দুর্ঘটনার নামে এসব হত্যাকাণ্ড রোধ করার দাবি জানাই।
জানা যায়, নাঈমের বাবা অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য। তিনি রাজধানীর নীলক্ষেত এলাকায় বইয়ের ব্যবসা করেন। ব্যবসা ও দুই ছেলের উন্নত পড়ালেখার জন্য তিনি রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের জাওলাহাটি এলাকায় নিজ বাড়িতে থাকতেন তারা। সেখানে নাঈমের প্রথম জানাজা হয়।
গত বুধবার দুপুরে গুলিস্তান মার্কেটের সামনে রাস্তা পার হওয়ার সময় দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়ির ধাক্কায় নাঈম গুরুতর আহত হয়। পরে পথচারীরা আহতাবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়