লজিক প্রকল্প : রৌমারীতে সোলার পাম্প স্থাপন শুরু

আগের সংবাদ

চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কী প্রস্তুতি : বিভিন্ন দেশের সঙ্গে অগ্রাধিকার ও মুক্তবাণিজ্য চুক্তি হবে > ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে

পরের সংবাদ

দিনে ময়লার গাড়ি চলার কথা নয় : চালকরা ট্রাফিক আইন মানে না, অনেকেরই নেই ড্রাইভিং লাইসেন্স, দক্ষতার অভাব

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৬, ২০২১ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ২৬, ২০২১ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

কাগজ প্রতিবেদক : নিয়মকানুনের বালাই নেই। নেই বেশির ভাগ গাড়ির ফিটনেস। অনেকেরই নেই ড্রাইভিং লাইসেন্স। অভাব যোগ্য চালকের। ট্রাফিক নিয়ম মানা তো দূরের কথা। যদিও ঢাকায় গাড়ি চালানোর কথা রাতে। নিয়ম ভঙ্গ করে দিনেই চলছে এসব গাড়ি। চালকরা যেন বেপরোয়া। নগরীর সড়কগুলোয় তাদের বেপরোয়া ড্রাইভিং গত কয়েক বছরে কেড়ে নিয়েছে বেশ কয়েকটি প্রাণ। দুর্ঘটনায় আহত হয়ে পঙ্গু হয়েছেন আরো অনেককেই। বলা যায়, ঢাকার সড়কে দিন দিন আতঙ্কের নাম হয়ে উঠছে দুই সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়িগুলো। এর পেছনে চালকদের বেপরোয়া ড্রাইভিংই মূলত দায়ী।
সিটি করপোরেশনের নিয়মানুযায়ী, প্রতিদিন রাত ১০ থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত ঢাকায় চলাচল করবে ময়লাবাহী ভারী যানবাহনগুলো। নির্দিষ্ট জায়গা থেকে ময়লা নিয়ে ডাম্পিং স্টেশনে যাওয়ার কথা সেগুলোর। দিনে ঢাকার সড়কে ময়লা বহনকারী গাড়িগুলো চলার কথা নয়। তবে এই নিয়ম মানা হচ্ছে না খুব একটা, যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্লেষকরা। নিয়ম অমান্যকারীদের বিষয়ে সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের পরিবহন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, যানবাহনের তুলনায় প্রয়োজনীয় ও দক্ষ চালকের সংখ্যা খুবই নগণ্য। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মোট গাড়ি আছে ১৯২টি। এর বিপরীতে দক্ষ চালক আছেন মাত্র ৭৩ জন। আর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ভারী যানবাহনের সংখ্যা ১৮৩টি। এর বিপরীতে চালক আছেন মাত্র ৭৬ জন। বাকি গাড়িগুলোও প্রতিদিনই সিটি করপোরেশনের ময়লা পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত হয়। এত জনবল ঘাটতি থাকায় অনেক সময় চালকের সহকারীরা ড্রাইভিং সিটে বসে যান। তাদের নেই ড্রাইভিং লাইসেন্স। নেই কোনো গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা। তাদের বেপরোয়া ড্রাইভিংয়ের কারণে প্রায়ই ঘটছে নানা দুর্ঘটনা।
চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি রাজধানীর গেন্ডারিয়ার দয়াগঞ্জ মোড়ে ঢাকা দক্ষিণের ময়লাবাহী গাড়ির ধাক্কায় নিহত হন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) টেলিফোন বিভাগের স্টাফ খালিদ (৫০)। ১৬ মে যাত্রাবাড়ীতে একই সংস্থার ময়লাবাহী গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ হারান মোস্তফা (৪০) নামের এক রিকশাচালক। আহত হন রিকশায়

থাকা হরেন্দ্র দাস (৭০) নামের এক আরোহী। ওইদিন ঘটনার পরপরই বিক্ষুব্ধ জনতা গাড়িটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। একই মাসে কমলাপুরের টিটিপাড়ায় ট্রাকচাপায় স্বপন আহমেদ দিপু (৩৩) নামে এক ব্যাংক কর্মচারী নিহত হন।
এর আগে ২০১৯ সালের ৭ ডিসেম্বর মিরপুরেও ময়লাবাহী গাড়ির ধাক্কায় নিহত হন বীর মুক্তিযোদ্ধা ভ্রাম্যমাণ পান বিক্রেতা আবদুল খালেক হাওলাদার (৬৭)। তার আগের মাসে বংশালে নিহত হন নুরজাহান বেগম (২১) নামের এক গৃহবধূ। একই ঘটনায় আহত হন স্বামী মো. আসিফ উল্লাহও।
গত বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় গুলিস্তান গোলচত্বরে হল মার্কেটের সামনে নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী নাঈম হাসানকে ধাক্কা দেয় সিটি করপোরেশনের একটি গাড়ি। এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে দুপুরে চিকিৎসক নাঈমকে মৃত ঘোষণা করেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষোভে নামে নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থীরা। গত দুইদিন সড়কও অবরোধ করে তারা। গতকাল দক্ষিণ সিটির নগর ভবনের সামনে অবস্থান নেয়। পরে মেয়র তাপস শিক্ষার্থীদের আন্দোলন যৌক্তিক উল্লেখ করে দায়ী চালকের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের ঘোষণা দেন। এরপর শিক্ষার্থীরা নগর ভবন এলাকা ত্যাগ করে। এদিকে ওই গাড়ি চালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনা তদন্তে সিটি করপোরেশন একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করেছে।
এর মধ্যেই গতকাল বিকালে রাজধানীর পান্থপথে ঘটে আরেকটি ঘটনা। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ময়লাবাহী গাড়ির ধাক্কায় নিহত হন আহমেদ কবির নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী। এ ঘটনায় বিকালেই একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি করে ডিএনসিসি। তদন্তের পরেই দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছেন মেয়র আতিকুল ইসলাম।
এসব বিষয়ে নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন ভোরের কাগজকে বলেন, সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়ির চালকের বেপরোয়া ড্রাইভিংয়ে কয়েকজন পথচারীকে জীবন দিতে হয়েছে। আমি বলব, এই বিষয়গুলো কেন ঘটছে, তা অবশ্যই তদন্তের ব্যাপার। সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়ি চলবে রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত। নিয়ম ভেঙে তারা কেন দিনের বেলা এই গাড়িগুলো নিয়ে পরপর দুদিন দুর্ঘটনায় দুজন মানুষের প্রাণ কেড়ে নিল? এটা তো এভাবে হয় না। তারা কেন দিনে ঢাকার সড়কে এই গাড়িগুলো নামাবে? এই দুটি ঘটনার দায় সিটি করপোরেশনকে নিতে হবে। কারণ এই দুটি ঘটনাকে অন্য ঘটনাগুলোর সঙ্গে মেলালে হবে না। আমি এই ঘটনার সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং বিচার দাবি করছি।
ডিএনসিসির নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজা বলেন, এটা ঠিক। দিনে সিটি করপোরেশনের গাড়ি বের হওয়ার নিয়ম নেই। তবে ল্যান্ডফিলে ময়লাগুলো ডাম্পিং করে ফিরতে সময় লাগে। কারণ রাস্তায় যানজট থাকে। সেগুলো পেরিয়ে আসতে হয়। পান্থপথে আমাদের ময়লার গাড়িতে যে ঘটনাটি ঘটেছে, সেটি দুঃখজনক, অনাকাক্সিক্ষত। নিহতের পরিবারের প্রতি আমরা ক্ষমাপ্রার্থী। এই ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে আমরা পদক্ষেপ নিচ্ছি। তদন্ত কমিটি করেছি। রিপোর্ট পেলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে। সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি।
তিনি বলেন, ডিএনসিসির ১৯২টি গাড়ি আছে। এর বিপরীতে দক্ষ চালক আছে মাত্র ৭৩ জন। আমাদের চালক সংকট। এ অবস্থার মধ্য দিয়ে আমাদের চলতে হচ্ছে। কিন্তু গাড়িগুলো তো আমাদের প্রতিদিনই চালাতে হয়। আমরা লাইসেন্সধারী বিভিন্ন লোক দিয়ে গাড়িগুলো চালানোর ব্যবস্থা করছি। সিটি করপোরেশনের গাড়িগুলো যাতে নিয়ম মেনে একটা নির্দিষ্ট সময়ে চলাচল করতে পারে, সেজন্য আমরা চেষ্টা করছি। পান্থপথের ঘটনার পর আমরা আরো সচেতন হবো। আশা করছি, আমরা পারব।
ডিএসসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা ও মুখপাত্র মো. আবু নাছের বলেন, আমাদের ১৮৩টা ভারী যানবাহন আছে। এর মধ্যে দক্ষ চালক আছেন ৭৬ জন। চলতি বছরের জানুয়ারির ২৯ তারিখ ৫০ জন চালকের নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিলাম। তার মধ্যে মাত্র ১৯ জন চালক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আর জরুরি প্রয়োজন ছাড়া দিনের বেলায় সাধারণত ময়লাবাহী গাড়ি চলে না। তবে নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থীর ঘটনায় মেয়র আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি দায়ী চালকের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শান্তি নিশ্চিতের নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্ত কমিটি হয়েছে। রিপোর্ট পেলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়