লজিক প্রকল্প : রৌমারীতে সোলার পাম্প স্থাপন শুরু

আগের সংবাদ

চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কী প্রস্তুতি : বিভিন্ন দেশের সঙ্গে অগ্রাধিকার ও মুক্তবাণিজ্য চুক্তি হবে > ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে

পরের সংবাদ

চট্টগ্রামের পরিবেশকর্মীরা ক্ষুব্ধ : বারইপাড়া খাল খননের দ্বিতীয় দফা উদ্বোধন!

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৬, ২০২১ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ২৬, ২০২১ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

সমরেশ বৈদ্য, চট্টগ্রাম থেকে : নগরীর পূর্ব দিকের জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (চউক) ১৯৯৫ সালে প্রণীত মাস্টারপ্ল্যানে বহদ্দারহাট বারইপাড়া থেকে বলিরহাট হয়ে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত নতুন খাল খননের প্রকল্পটির দ্বিতীয় দফা উদ্বোধন হতে যাচ্ছে আগামীকাল। এর আগে চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনও তার আমলে একবার বেশ ঢাকঢোল পিটিয়ে এর খনন কাজের উদ্বোধন করেছিলেন। কিন্তু সেবার ওই উদ্বোধন পর্যন্তই সীমাবদ্ধ ছিল সাবেক মেয়রের তৎপরতা। এক কণা মাটিও খনন হয়নি। এবার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) পক্ষ থেকে জানানো হলো, ২৭ নভেম্বর সকালে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম নগরীর বহদ্দারহাটস্থ বারইপাড়া খাল খননকাজ উদ্বোধন করবেন।
কিন্তু প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে, নগরীর মধ্য দিয়ে যেসব খাল ও বড় নর্দমা ছিল, তার অধিকাংশই নানাভাবে বেদখল হয়ে গেছে। সেগুলো পুনরুদ্ধার করতেই হিমশিম খাচ্ছে চউকের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে এরই মধ্যে ৫ হাজার ৬১৬ কোটি ৪৯ লাখ ৯০ হাজার টাকার প্রকল্প চউকের তত্ত্বাবধানে সেনাবাহিনী বাস্তবায়ন করছে। ফলে চসিকের অধীনে নতুন করে এই খাল খনন কেন? নগর পরিকল্পনাবিদদের মধ্যেও এ প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। পাশাপাশি একই প্রশ্ন তুলছেন পরিবেশ আন্দোলন কর্মী এবং চট্টগ্রাম নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলন কমিটিও। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেয়ারও চিন্তাভাবনা করছেন বলে জানিয়েছেন তারা।
চসিক জানাচ্ছে, বারইপাড়া থেকে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত ৩২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে খাল খনন প্রকল্প ২০১৭ সালের নভেম্বরে একনেক সভায় অনুমোদন দেয়া হয়। তবে বিগত চার বছরে ভূমি অধিগ্রহণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় প্রকল্পটি ৯০৩ কোটি টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ২৫৬ কোটি

টাকায় সংশোধিত হয়ে একনেক সভায় আবার অনুমোদন দেয়া হয়। ভূমি অধিগ্রহণের জন্য চসিক এরই মধ্যে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনকে ৯১১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা দিয়েছে। জেলা প্রশাসন গত ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৬ দশমিক ৯৫ একর ভূমি চসিককে হস্তান্তর করে। আরো প্রায় ১৮ একর ভূমি চসিকের কাছে বুঝিয়ে দেয়া বাকি আছে। যদিও চসিক বলছে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের মধ্যে প্রকল্পটি শেষ করার মেয়াদ নির্ধারিত রয়েছে। এর আগে এই বারইপাড়া খাল খনন প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছিল জুন ২০২১ সাল পর্যন্ত। কিন্তু ওই সময়ের মধ্যে তা শুরুই করা যায়নি।
নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে বারইপাড়া খাল খননের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে জানতে চাওয়া হলে নগর পরিকল্পনাবিদ, চউক বোর্ড সদস্য স্থপতি আশিক ইমরান ভোরের কাগজকে বলেন, এমনিতেই নগরীর যেসব খাল ও নালা-নর্দমা রয়েছে, সেগুলোরই ঠিকমতো যতœ নেয়নি, ময়লা-আবর্জনা ঠিকমতো পরিষ্কার করা হয়নি। তাছাড়া চউক জলাবদ্ধতা নিরসনে বড় ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। তাই এ অবস্থায় আবার নতুন করে খাল খনন করার মতো একটি ঝামেলাপূর্ণ কাজ আদৌ প্রয়োজন রয়েছে কিনা সেটিও ভেবে দেখা দরকার।
চট্টগ্রাম নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক এবং পরিবেশ আন্দোলন সংগঠক আলিউর রহমান গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভোরের কাগজের কাছে এই প্রকল্প আবার উদ্বোধন করার উদ্যোগে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ১৯৬৮ সালে চউক যে জরিপ করেছিল চট্টগ্রাম নগরীতে, তাতে তাদের আওতাধীন ৭১টি খালের কথা বলা হয়েছিল। সেসব খালের অনেকগুলোর অস্তিত্ব পর্যন্ত নেই এখন। কোনো কোনো খাল সরু নর্দমায় পরিণত হয়েছে। আগে সেই ৭১টি খাল পুনরুদ্ধার হোক, এরপর অন্য খালের কথা চিন্তা করা যাবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়