গুলশানের ইউনিমার্ট ভবনের আগুন নিয়ন্ত্রণে

আগের সংবাদ

ধাক্কা কাটিয়ে চাঙ্গা অর্থনীতি

পরের সংবাদ

প্রতিরক্ষার পাশাপাশি দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে হবে : সশস্ত্র বাহিনীকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রকাশিত: নভেম্বর ২২, ২০২১ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ২২, ২০২১ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

কাগজ প্রতিবেদক : প্রতিরক্ষার পাশাপাশি দেশের উন্নয়নেও অবদান রাখার জন্য সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশকে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেছেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি উন্নয়নমূলক কাজে অবদান রেখে দেশের গৌরব সমুন্নত রাখতে পারেন, আমি সেটাই কামনা করি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত সশস্ত্র বাহিনী আমাদের জাতিকে আরো এগিয়ে নি?য়ে যাবে এবং আমরা বিশ্ব দরবারে উন্নত জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে সম্মানের সঙ্গে চলব, সেটাই আমাদের মূল লক্ষ্য।
সশস্ত্র বাহিনী দিবস-২০২১ উপলক্ষে গতকাল রবিবার ঢাকা সেনানিবাসে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়নে সরকারের নেয়া পদক্ষেপ তুলে ধরে নিজের প্রত্যাশার কথা জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে পাঁচজন সেনা, দুজন নৌ এবং একজন বিমানবাহিনীর সদস্যকে ২০২০-২১ সালের শান্তিকালীন পদকে ভূষিত করেন।
সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে ‘ফোর্সেস গোল-২০৩০’ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা একটা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন, সম্প্রসারণ ও উন্নয়?নের কাজ করে যাচ্ছি। আমরা যুগোপযোগী প্রতিরক্ষা নীতিমালা-২০১৮ প্রণয়ন করেছি। গত ১৩ বছরে আমরা আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে যথেষ্ট অগ্রসর হয়েছি। সেনাবাহিনীতে অত্যাধুনিক যুদ্ধাস্ত্র, বিমান ও হেলিকপ্টার সংযোজন, নৌবাহিনীর জন্য অত্যাধুনিক করভেট, ফ্রিগেট, সাবমেরিন ও মেরিটাইম হেলিকপ্টার কেনা, বিমান বাহিনীতে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন আকাশ প্রতিরক্ষা রাডার, ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র সংযোজনের কথা বলেন তিনি।
জাতিসংঘ মিশনে সর্বোচ্চ শান্তিরক্ষী প্রদানকারী দেশ হিসেবে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর অবদান, সশস্ত্র

বাহিনীর সদস্যদের মৃত্যু হলে পরিবারের সদস্যদের জন্য ফ্ল্যাট বা গৃহনির্মাণের জন্য আর্থিক অনুদান প্রদান, জেসিও এবং অন্যান্য পদবির সদস্যদের মৃত্যু বা স্থায়ী অক্ষম হওয়ার ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ বাবদ অনুদানের পরিমাণ বাড়ানোর কথাও বলেন তিনি।
করোনা ভাইরাস মহামারি, দুর্যোগ মোকাবিলার পাশাপাশি দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সেনাবাহিনী এক্সেস কন্ট্রোল এক্সপ্রেসওয়ে, মেরিন ড্রাইভ সড়ক, দৃষ্টিনন্দন হাতিরঝিল, ফ্লাইওভার এবং সীমান্ত সড়ক নির্মাণে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছে। আমাদের নৌবাহিনী ভাসানচরে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগারিকদের জন্য আবাসন এবং অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে সুনাম অর্জন করেছে।
সশস্ত্র বাহিনী দিবস পালনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বাহিনীর সদস্যদের স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। স্বাধীনতার পর সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিক করে গড়ে তুলতে জাতির পিতার নেয়া নানা পদ?ক্ষে?পের কথাও বলেন তিনি।
এ অর্জন ব্যর্থ হতে পারে না : এ দেশের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অর্জিত স্বাধীনতা কখনো ব্যর্থ হতে পারে না মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বের বুকে মর্যাদা নিয়েই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। ১৯৭১ সালে এ দেশের মানুষ তাদের সব কিছু ঢেলে দিয়ে সমর্থন জানিয়েছে আওয়ামী লীগকে এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। এসব মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অর্জিত স্বাধীনতা কখনো ব্যর্থ হতে পারে না। কাজেই বাংলাদেশ উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে উঠবে, বাংলাদেশকে বিশ্ব মর্যাদায় আমরা আজকে নিয়ে এসেছি, এই মর্যাদা ধরে রেখে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সমন্বিত আক্রমণ শুরুর দিনটি প্রতি বছর সশস্ত্র বাহিনী দিবস হিসেবে উদযাপন করে বাংলাদেশ। সেই গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে এই সশস্ত্র বাহিনী দিবসে আমি এইটুকু চাই, আমাদের এই দেশের অগ্রযাত্রা যেন কোনো রকম ব্যাহত না হয়। বাংলাদেশ যেন সারা বিশ্বে মর্যাদা নিয়ে চলতে পারে। প্রতিটি বাঙালি পৃথিবীর যেখানে যাবে, মাথা উঁচু করে গর্ব ভরে বলতে পারবে যে, আমরা বিজয়ী জাতি, আমরা উন্নত জাতি। আমরা আমাদের নিজেদের দেশকে গড়ে তুলেছি, একটা সম্মানজনক অবস্থানে।
এর আগে সকালে ঢাকা সেনানিবাসে শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে সশস্ত্র বাহিনীর শহীদ সদস্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী। এ সময় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনীর একটি চৌকস দল তাকে গার্ড অব অনার দেয়। বিউগলে বাজানো হয় করুণ সুর। পরে শিখা অনির্বাণ প্রাঙ্গণে রাখা দর্শনার্থী বইয়ে স্বাক্ষর করেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারেক আহমেদ সিদ্দিক উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী শিখা অনির্বাণে পৌঁছলে সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম শাহীন ইকবাল, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল শেখ আবদুল হান্নান এবং সশস্ত্র বাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান তাকে স্বাগত জানান।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়