গুলিস্তানে বাস উল্টে ২ কাবাডি খেলোয়াড় আহত

আগের সংবাদ

মণ্ডপে হামলার নেপথ্যে কারা

পরের সংবাদ

ভোগ্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ কার হাতে?

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৭, ২০২১ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ১৭, ২০২১ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

অতি মুনাফালোভী পাইকারি ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে ভোক্তাদের জিম্মি করে পণ্যের দাম বাড়ানোর ঘটনা নতুন নয়। গতকাল বিভিন্ন খবরের কাগজে দেখা যায় চাল, তেল, ডাল, চিনি, পেঁয়াজ, মুরগি, ডিমসহ অত্যাবশ্যকীয় সব পণ্যের দাম হু হু করে বাড়ছে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেও স্বস্তির খবর দিতে পারছে না সরকার। উল্টো সয়াবিন তেল ও চিনির দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা করছেন ব্যবসায়ীরা। বাজারে খোলা সয়াবিন তেলের দাম ১৫০ টাকা ছুঁই ছুঁই। পেঁয়াজ আমদানিতে ৫ শতাংশ শুল্ক ছাড় দিয়েছে সরকার। বাজারে এখনো বিক্রি হচ্ছে ৭০-৭৫ টাকা কেজি। আটার দামও দুই কেজির প্যাকেটে ৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৭৫ টাকায়। মসুর ডালের (দানাভেদে) কেজি এখন ৯০-১৩০ টাকা। গুঁড়া দুধের দামও কেজিতে ১০-২০ টাকা বেড়েছে। গরিবের প্রোটিনের প্রধান উৎস ব্রয়লার মুরগির দামেও এখন আগুন। বাজারে বেশিরভাগ সবজির দাম ৫০ টাকার ওপরে। এক ডজন ডিম কিনতে গুনতে হচ্ছে ১১০-১১৫ টাকা। এভাবে ভোগ্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে শুধু নিম্নবিত্ত নয়, সমাজের মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের নাভিশ্বাস চরমে উঠেছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে এখন নজর দেয়া উচিত। জানা গেছে, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কয়েকবার বৈঠক করে ভোজ্যতেলের দাম নির্ধারণ করে সরকার। প্রতিবারই ব্যবসায়ীরা সরকারকে আশ্বস্ত করেন দাম বাড়বে না। তারা হাঁকডাক দিয়ে ভোক্তার উদ্দেশে বলেন, সরকারের নির্ধারিত দামেই তেল বিক্রি হবে। কিন্তু বাজারে চিত্র পাল্টায় না। ব্যবসায়ীরা যতবার বলেছেন দাম বাড়বে না, ঠিক ততবার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ৪-৫ টাকা বেশিতে ভোজ্যতেল বিক্রি করেছে। আগস্টের শুরু থেকে দাম বাড়তে থাকায় ৯ সেপ্টেম্বর ভোক্তার স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে চিনির দাম নতুন করে নির্ধারণ করে দেয় সরকার। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বসে দাম বেঁধে দেয়া হয়। কয়েকটি কোম্পানির প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। সেদিন খোলাবাজারে প্রতি কেজি চিনি ৭৪ টাকা এবং প্যাকেট ৭৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। অথচ খোলা চিনি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ এবং প্যাকেট ৮৫ টাকা। ব্যবসা-বাণিজ্য তথা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতি ক্ষেত্রেই সিন্ডিকেটের আস্ফালন লক্ষণীয়। তবে এটা নতুন কিছু নয়, সাংবার্ষিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রতিটি পণ্য তো বটেই, সেবা খাতেও সিন্ডিকেটের হস্তক্ষেপ প্রকট। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা এ চক্রটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে। এরা ইচ্ছামতো বাজার নিয়ন্ত্রণ করে অনায়াসে অন্যায্যভাবে বিপুল মুনাফা লুটে নিচ্ছে। আমরা মনে করি, বাজার পরিস্থিতি পাল্টানোর জন্য সবার আগে প্রয়োজন বিক্রেতাদের অসৎ, লোভী ও প্রতারণামূলক মানসিকতার পরিবর্তন। এই পরিবর্তন কবে ঘটবে তার জন্য অপেক্ষা করে নিষ্ক্রিয় বসে থাকলে চলবে না। এর জন্য রাষ্ট্র-সমাজের সচেতন দায়িত্বশীল মহলকে ভূমিকা রাখতে হবে। সর্বোপরি আমরা বলতে চাই, ভোগ্যপণ্যের বাজার অস্থির হয়ে ওঠা এবং পাইকারি দামের সঙ্গে খুচরা দামের তফাতসহ সার্বিক বিষয়গুলো আমলে নিন।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়