সারাদেশে পূজামণ্ডপে হামলা : চাঁদপুরে সংঘর্ষে নিহত ৩

আগের সংবাদ

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের টার্গেট কী? প্রথম ম্যাচে মাহমুদউল্লাহ-সাকিবের মাঠে নামা নিয়ে দোটানা

পরের সংবাদ

হামলা তদন্তে কমিটি : হাজীগঞ্জে মৃতের সংখ্যা বেড়ে চার

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৫, ২০২১ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ১৫, ২০২১ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

মুনছুর আহমেদ বিপ্লব, হাজীগঞ্জ (চাঁদপুর) থেকে : কুমিল্লা শহরের একটি পূজামণ্ডপে কুরআন শরীফ অবমাননার খবরে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় সর্বশেষ চারজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ওই ঘটনায় আরো চারজন গুলিবিদ্ধসহ বহুসংখ্যক পুলিশ, সাংবাদিক ও পথচারী গুরুতর আহত হয়েছেন।
সংঘর্ষের ঘটনায় গত বুধবার রাত ১টার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোমেনা আক্তার ১৪৪ ধারা জারির ঘোষণা দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দুই প্লাটুন বিজিবিসহ অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং র‌্যাব টহলে রয়েছে।
হামলার ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে জেলা প্রশাসন থেকে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে কমিটিকে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। চাঁদপুরে আটজনসহ চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে মোট ৭৩ জনকে হামলার ঘটনায় আটকের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার হাজীগঞ্জ পরিদর্শন করেছেন- আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, চট্টগ্রামের ডিআইজি মো. আনোয়ার হোসেন, জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ, চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মিলন মাহমুদ, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ মো. নাছির উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটোয়ারি দুলাল প্রমুখ। হাজীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান গাজী মাইনুদ্দিন ও পৌরসভা মেয়র আ স ম মাহবুব-উল আলম লিপনও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে বুধবার রাত ৮টার পর হাজীগঞ্জ বাজারে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিল থেকে পূজামণ্ডপ ও পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করাকে কেন্দ্র করে হামলা, সংঘর্ষ ও গুলির ঘটনা ঘটে। এতে প্রথমে তিনজন এবং গতকাল সকালে আরো এক কিশোরসহ মোট চারজনের গুলিবিদ্ধ লাশ শনাক্ত করা হয়।
পুলিশ, স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও ব্যবসায়ীদের একাধিক সূত্র থেকে জানা যায়, কুমিল্লায় কুরআন অবমাননার খবরে হাজীগঞ্জ শহরের প্রধান সড়কে স্থানীয় তরুণদের সঙ্গে কিছু মুসল্লিরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি শহরের শ্রীশ্রী রাজা ল²ীনারায়ণ জিওর আখড়া পূজামণ্ডপ অতিক্রমকালে কে বা কারা ইট-পাটকেল ছোড়া শুরু করে। এ সময় পুলিশ প্রতিরোধের চেষ্টা করলে বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ওপর হামলা চালায় এবং পূজামণ্ডপের গেট ভাঙচুরের চেষ্টা করায় পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বাধে। এতে করে পুলিশের গুলিতে তিনজন নিহত ও চারজন গুলিবিদ্ধ হয়। হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র নিহত ও আহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
নিহতরা হলো- হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন ১১নং ওয়ার্ড রান্ধুনীমূড়া গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে হৃদয় হোসেন (১৪), একই গ্রামের তাজুল ইসলামের ছেলে আলামিন (১৮) ও আব্বাস উদ্দিনের ছেলে শামিম হোসেন (১৭) এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার সুন্দরপুর গ্রামের শামছুল হকের ছেলে মো. বাবলু (৩৫)।
গুলিবিদ্ধ আহতরা হলেন- হাজীগঞ্জ উপজেলার কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের মৈশাইদ গ্রামের মো. মনির হোসেনের ছেলে মো. সবুজ (১৬), হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন ৫নং ওয়ার্ড মকিমাবাদ গ্রামের প্রীতম (২০), কচুয়া উপজেলার রহিমানগর এলাকার জুনাশর গ্রামের মো. সিদ্দিকের ছেলে মো. হারেস (২৩) এবং অজ্ঞাত মিলন।
জানা গেছে, কুমিল্লা শহরের দীঘিরপাড়ের একটি দুর্গাপূজার মণ্ডপে হনুমান মূর্তির কোলে কুরআন শরিফ রাখার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে ওই দিন রাত ৮টার দিকে হাজীগঞ্জ-রামগঞ্জ সড়কের হাজীগঞ্জ বাজারের দিকে একটি মিছিল বের হয়।
মিছিলটি হাজীগঞ্জ পশ্চিম বাজারের শ্রীশ্রী রাজা ল²ীনারায়ণ জিওর আখড়ার দিকে পূজামণ্ডপের সামনে এলে কতিপয় মিছিলকারী পূজামণ্ডপের গেটের দিকে ইটপাটকেল ছুড়ে মারে। এতে ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ মিছিলকারীদের প্রতিরোধের চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশের ওপর চড়াও হয় মিছিলকারীরা। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ গুলি ছোড়ে। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে ১৭ পুলিশসহ আহত হয় আরো ২১ জন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, আলামিন ও বাবলু নামের দুইজনকে হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হয়। হৃদয় হোসেন হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এছাড়া গুলিবিদ্ধ চারজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়