সারাদেশে পূজামণ্ডপে হামলা : চাঁদপুরে সংঘর্ষে নিহত ৩

আগের সংবাদ

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের টার্গেট কী? প্রথম ম্যাচে মাহমুদউল্লাহ-সাকিবের মাঠে নামা নিয়ে দোটানা

পরের সংবাদ

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং আমাদের দায়

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৫, ২০২১ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ১৫, ২০২১ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

অনাদিকাল থেকেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ বাংলাদেশ। সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে একাকার হয়ে বসবাস করছে এদেশে। মাঝে মাঝে কিছু কুচক্রী মহল এ সম্প্রীতিতে ফাটল ধরিয়ে ফায়দা লুটতে তৎপর থাকে। এ বিষয়ে তারা কিছু কিছু ক্ষেত্রে সাময়িক সফলতা অর্জন করলেও পরবর্তীতে এদেশের আপামর জনসাধারণ তাদের মুখোশ ঠিকই উন্মোচন করে। বর্তমানে দেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গোৎসব চলছে।
বলা যায়, খুব উৎসবমুখর পরিবেশে শান্তিপূর্ণভাবেই এই উৎসবটি পালিত হচ্ছে। কিন্তু হঠাৎ কুমিল্লার একটি দুর্গামণ্ডপে মহাধর্মগ্রন্থ পবিত্র কুরআন শরিফকে অবমাননার মতো ঘটনা ঘটার বিষয়টি কেউই মেনে নিতে পারছেন না।
এ বিষয়টির পর থেকেই পূজামণ্ডপগুলোতে একটু ভীতি নেমে এসেছে। যদিও সরকার এ বিষয়ে বেশ তৎপর রয়েছে ওই ঘটনার পর থেকেই। দেশের পূজামণ্ডপগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারিসহ সবরকম আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক করে দিয়েছে। তারপরও কিছু পূজামণ্ডপে ভীতি থেকে গেছে। এখন প্রশ্ন হলো সুন্দর এবং সুষ্ঠুভাবে পালিত হতে থাকা ২০২১ সালের দুর্গোৎসবে হঠাৎ করে এমন ঘটনা ঘটাল কারা? এবং এর পেছনে রহস্যই বা কী। যুগ যুগ ধরে বাংলাদেশে পালিত হয়ে আসা দুর্গোৎসবে এমন ঘটনা আগে কখনো ঘটেছে বলে আমার মনে হয় না। খুব সম্ভবত বর্তমান সরকারের আমলে উগ্রপন্থিরা ধর্ম নিয়ে তেমন একটা তালগোল পাকিয়ে সুযোগ নিতে পারেনি, যা-ও মাঝেমধ্যে চেষ্টা করেছিল তা সরকারের উচ্চমহল থেকে কঠোর হস্তে দমন করা হয়েছিল। তারপরও এসব ধর্মান্ধ উগ্রপন্থি বসে নেই, তারা চাইছে বর্তমান স্থিতিশীল সরকারের স্থিতিশীলতা নষ্ট করে দেশ-বিদেশে তাদের ভাবমূর্তি নষ্ট করা। আর তাই তারা সনাতন ধর্মাবলম্বীদেরই টার্গেট করেছে এবং বর্তমান দুর্গোৎসবের সুযোগ নিয়ে একটি গণ্ডগোল পাকিয়ে দেশকে অস্থির করতে চাইছে। ইতোমধ্যে কুমিল্লার ঘটনাটি বোদ্ধা এবং প্রগতিশীল, ধর্মপরায়ণ মুসলিম ভাইয়েরা বুঝে গেছে, এখন প্রয়োজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এর প্রকৃত রহস্য খুঁজে বের করা এবং এমন পবিত্র ধর্মগ্রন্থের যারাই অবমাননা করেছে তাদের দ্রুত খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা। আমরা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষ ভাই ভাই, যে কোনো ধর্মীয় উৎসবে এদের মানুষ একসঙ্গে উৎসবে মেতে ওঠে, আনন্দ করে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি শ্রদ্ধার সঙ্গে বজায় রাখে।
বর্তমান দুর্গোৎসব আজ শেষ হতে যাচ্ছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যাতে তাদের এই উৎসবটি শঙ্কাহীনভাবে পালন করতে পারে সে বিষয়ে সরকার এবং এদেশের মুক্তমনা মুসলিম ভাইয়েরা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবেন সে প্রত্যাশাই রইল। অতীতেও বিভিন্ন সময় এদেশের মুক্তমনা মুসলিম ভাইয়েরা সনাতনসহ অন্য ধর্মাবলম্বীদের পাশে ছিল, বর্তমান এবং ভবিষ্যতেও তারা পাশে থাকবে এমন প্রত্যাশা সবার। বিশেষ করে এক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের গোয়েন্দা শাখা বিষয়টির প্রতি কঠোর নজরদারি রাখা উচিত, সঙ্গে সঙ্গে সরকারসহ তাদের অঙ্গ-সংগঠনগুলোর উচিত দেশের সব পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা দেয়া। আশা করছি বিষয়টি বর্তমান সরকার ভেবে দেখবে।
রতন কুমার তুরী
শিক্ষক ও লেখক।
[email protected]

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়