সারাদেশে পূজামণ্ডপে হামলা : চাঁদপুরে সংঘর্ষে নিহত ৩

আগের সংবাদ

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের টার্গেট কী? প্রথম ম্যাচে মাহমুদউল্লাহ-সাকিবের মাঠে নামা নিয়ে দোটানা

পরের সংবাদ

বিরল ছড়াশিল্পী রফিকুল হক

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৫, ২০২১ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ১৫, ২০২১ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

রফিকুল হক দাদুভাই (১৯৩৭-২০২১)। দুই নামের এক মানুষ। কিন্তু কত তার পরিচয়! তিনি ছড়াশিল্পী, সাংবাদিক, সম্পাদক, শিশু সংগঠক, গীতিকার, নাট্যকার, বেতার টিভির অনুষ্ঠান উপস্থাপক। আজীবন তিনি সৃজনশীল লেখালেখি করেছেন রফিকুল হক নামে। সাংগঠনিক পোশাকি নাম দাদুভাই। শিশু সংগঠন ও সম্পাদনা কর্মের বিস্তৃতি এত ব্যাপক ছিল যে, ‘দাদুভাই’ শব্দবন্ধও তার নামের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে যায়। দাদুভাই নামেও তিনি দেশজুড়ে সমধিক পরিচিত হয়ে ওঠেন। তবে তার ছড়ার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ও মৌলিকত্বের কারণে ছড়াশিল্পী রফিকুল হক শিশুসংগঠক সম্পাদক ‘দাদুভাই’ নামের আড়ালে ঢাকা পড়ে যাননি। তিনি ছিলেন জাতছড়াশিল্পী। বাংলা সাহিত্যের হাতে গোনা দু’তিন জন বিশুদ্ধ ছড়াশিল্পীর একজন তিনি।
আধুনিক বাংলা ছড়া-সাহিত্য দুটি প্রধান শাখায় বিভক্ত। একটি সুকুমার রায় প্রবর্তিত হাস্যরস প্রধান অসংলগ্ন ছড়া, অন্যটি বাংলা লোকছড়ার ঐতিহ্য থেকে উৎসারিত সমাজ সচেতনমূলক বক্তব্যধর্মী ছড়া। দ্বিতীয় ধারার অন্যতম প্রধান স্থপতি অন্নদাশঙ্কর রায়। অন্যতম প্রধান স্থপতি বলার কারণ দ্বিতীয় ধারাটি যুগে যুগে অনেক শিল্পীর প্রতিভাচারণায় ঋদ্ধ হয়েছে। প্রবলভাবে এ ধারাটি আধুনিক রূপ লাভ করেছে অন্নদাশঙ্কর রায়ের হাতে।
১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর আমাদের এ বঙ্গে যে ছড়াচর্চা শুরু হয় তাতে সুকুমার রায় ও অন্নদাশঙ্কর রায় দুই ধারারই প্রভাব ছিল লক্ষণীয়। তবে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের ওপর পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর অন্যায়-অত্যাচার, জোর-জুলুম নির্যাতন নিপীড়নের ফলে প্রতিবাদে সোচ্চার হন ছড়াকারেরাও। স্বভাবতই এ সময় অন্নদাশঙ্কর রায়ের সমাজমনস্ক ছড়ার ধারাটি এখানে জনপ্রিয়তা লাভ করে। এ ধারার সার্থক উত্তরাধিকার রফিকুল হক। পঞ্চাশের দশকের মাঝামাঝি সময় থেকেই তিনি আমাদের ছড়া-সাহিত্যের ব্যতিক্রমী ও বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। রাজনৈতিক বিষয়-অনুষঙ্গ ধারণ করেও তিনি ছড়াকে সেøাগান করে তোলেননি। বাংলা ছড়ার লোকজ ঐতিহ্য ও সুর অক্ষুণ্ন রেখে তিনি বক্তব্য প্রকাশ করেছেন শৈল্পিক আঙ্গিকে। কবিত্ব তার ছড়ার প্রধান অলঙ্কার। পরিণত ও পরিমিত কবিত্বের জন্যই সমকালীন হয়েও তার ছড়া পেয়েছে চিরকালীন মর্যাদা। ছয় দশক ধরে তিনি লিখে চলেছেন ছোট-বড় সবার জন্য। শব্দ, ছন্দ, বিষয়বস্তু ও আঙ্গিকের বৈচিত্র্য এবং প্রকাশভঙ্গির আন্তরিকতায় তার ছড়া অনন্য। দু-একটি উদাহরণ দেয়া যাক-
ধা ধিন্ ধিন্ না
না তিন্ তিন্ না
হাসির দিন না
বাঁশির দিন না
না ঢাক না ঢোল
না খোল বীণ না।
…………….

তেরে কেটে দিন
তেরে কেটে দিন
কত আর হীন
কেঁদে কেটে দিন?
[১৯৬৭]
লেখাটির শিরোনাম ১৯৬৭। ১৯৪৭ সালের দেশ বিভাগের মধ্য দিয়ে দেশটা যে একবার মিথ্যে স্বাধীনতা লাভ করেছিল তারই ভয়াবহ চিত্র এখানে অঙ্কিত হয়েছে। একবার মনে করতে হবে, সময়টা তখন কেমন ছিল। ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু কর্তৃক বাঙালির মুক্তির সনদ ছয় দফা ঘোষণা করা হয়েছে। মোনায়েম খানবিরোধী আন্দোলন তখন তুঙ্গে। সেই উত্তাল অগ্নিগর্ভ সময়ে রফিকুল হক লিখেছেন এই ছড়া। অত্যাচারী শাসক বা শোষকচক্রের বিরুদ্ধে এতে বিন্দুমাত্র রাগ ক্ষোভ চিৎকার চেঁচামেচি প্রকাশ পায়নি। উপরন্তু এর শব্দ ও ছন্দ ব্যঞ্জনা গভীর সংবেদন সৃষ্টি করে, অনুভূতিকে নাড়া দেয়। এর মানবিক আবেদন এতই তীব্র যে, মনে হয় লেখাটি এখনো প্রাসঙ্গিক। তার আরেকটি লেখা-

ছেলে ঘুমালো বুড়ো ঘুমালো
ভোলা দ্বীপের চরে,
জেগে থাকা মানুষগুলো
মাতম শুধু করে।

ঘুমো বাছা ঘুমোরে
সাগর দিলো চুমোরে।

খিদে ফুরোলো, জ্বালা জুড়োলো,
কান্না কেন ছি!
বাংলাদেশের মানুষ বুকে
পাষাণ বেঁধেছি।
[গর্কি ’৭০]

১৯৭০ সালে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের গর্কি ইতিহাস স্মরণীয় এক প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এ দুর্যোগে ১০ লাখেরও বেশি লোক প্রাণ হারায়। বনসম্পদ গবাদি পশুসহ জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হয় অবর্ণনীয়। উপকূলবাসীর এমন বিপদেও নির্দয় পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠী পাশে দাঁড়ায়নি। ত্রাণ সাহায্য পাঠানো দূরের কথা, কেউ অকুস্থল পরিদর্শন পর্যন্ত করেনি। রফিকুল হকের এই লেখা ধারণ করে আছে সেই বেদনা। ‘বাংলাদেশের মানুষ বুকে পাষাণ বেঁধেছি’- কী মর্মঘাতী উচ্চারণ! মনে রাখতে হবে, তখন কিন্তু বাংলাদেশ স্বাধীন হয়নি। পাকিস্তান রাষ্ট্র কাঠামোর মধ্য থেকেই রফিকুল হক নির্দিষ্ট করে বলেছেন ‘বাংলাদেশের’ কথা। এ ছড়ার শেষ পঙ্ক্তি দিয়ে এ ভূখণ্ডের মানুষকে তিনি যেন স্বাধীনতার মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ করার প্রয়াস পেয়েছেন। পাকিস্তান নামের শোষণের জিঞ্জির ভেঙে বেরিয়ে আসার সাহস জুগিয়েছেন। এ জন্য তাকে রাজনৈতিক হয়রানিও কম পোহাতে হয়নি। সাদা পোশাকধারী পুলিশের লোক দীর্ঘদিন খুঁজে বেরিয়েছে তাকে। বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। এখনো মাঝে মাঝে জলোচ্ছ¡াস-ঘূর্ণিঝড়-গর্কি হয়, দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে এখনো জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটে। পরিবর্তিত এই প্রেক্ষাপটেও রফিকুল হকের ১৯৭০ সালে লেখা ছড়াটির আবেদন কি বিন্দুমাত্র কমেছে? এখনো দুর্যোগ-দুর্বিপাকের বিরুদ্ধে লড়াই করে বিপর্যয় কাটিয়ে জীবন গড়ার প্রেরণা জোগায় এ ছড়া। প্রকৃত ছড়ার সার্থকতা তো এখানেই। সমকালের কোনো ঘটনাকে অবলম্বন করে লেখা হলেও কালের গণ্ডির মধ্যেই প্রকৃত ছড়ার আবেদন নিঃশেষিত হয় না। এ ক্ষেত্রে একজন রূপদক্ষ শিল্পী রফিকুল হক।
রফিকুল হক অধিকাংশ ছড়ায় সৃষ্টি করেছেন অনুপ্রাস ও ধ্বনিময়তা। তার ছড়ায় বিষয় ভাবনা পরম্পরার বিন্যাস যেমন অভিনব তেমনি চমৎকার। এ শুধু ছোটদের ভোগ্য নয়, বড়দের কাছেও পরম উপভোগ্য। এমনি নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষায় সমৃদ্ধ রফিকুল হকের ছড়া-সাহিত্য। ছড়ার চিরন্তন বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে তিনি ঘটিয়েছেন সার্থক কবিত্বের মেলবন্ধন। ছড়ার পাশাপাশি প্রথম জীবনে বেশ গান লিখেছেন তিনি। এক সময়ের জনপ্রিয় গান ‘নাইয়ারে নায়ের বাদাম তুইলা, কোন দেশে যাও চইলা’- তার লেখা। ছড়া সারাজীবন লিখলেও তার বইয়ের সংখ্যা খুব বেশি নয়। উল্লেখযোগ্য ছড়া গ্রন্থগুলো হলো- ‘পান্তা ভাতে ঘি’, ‘বর্গি এলো দেশে’, ‘নেবুর পাতা করমচা’, ‘ঢামেরিক’, ‘আমপাতা জোড়া জোড়া’, ‘সমকালীন ছড়া’ ইত্যাদি। এছাড়া নাটক ‘বই বই হই চই’ ও রূপকথা ‘প্রাচীন বাংলার রূপকথা’ ও গল্প ‘একাত্তরের বিচ্ছু বশির’ বিশেষভাবে আলোচিত। গানের কোনো পৃথক বই হয়নি।

দুই.
রফিকুল হক ত্রিকালদর্শী মানুষ। ব্রিটিশ পাকিস্তান বাংলাদেশ তিন শাসন আমল প্রত্যক্ষ করার সৌভাগ্য তার হয়েছে। ছয় দশকেরও বেশি সময় নিয়োজিত ছিলেন সাংবাদিকতা পেশায়। কাজেই সব জাতীয় আন্দোলন সংগ্রামের উত্তাপ পেয়েছেন একেবারে কাছ থেকে। সেই অকৃত্রিম অনুভবের নির্যাস থেকে তিনি নির্মাণ করেছেন এক অনুপম ছড়ার ভুবন। দেশ ও সমাজের চলতি সমস্যা, সংকট ও অসঙ্গতি নিয়ে সংবাদপত্রে ছড়া লিখেছেন নিয়মিত। তাই তার এসব ছড়ার অধিকাংশই হয়তো ‘সাংবাদিকতার পদ্য’। তবু বিষয় উপযোগী ছন্দ প্রয়োগ ও শিল্পিত প্রকাশ নৈপুণ্যে সেগুলো পেয়েছে চিরন্তনত্ব। কালের জীবন্ত সাক্ষী এসব ছড়া। ‘সেরা কুট্টুস ১০০’ তার এরকমই একটি ছড়াগ্রন্থ। অনাগত ইতিহাস গবেষকরা তার এসব ছড়া থেকে পাবেন গবেষণার মূল্যবান উপাদান। বাংলাদেশে তিনিই প্রথম বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ছড়া লিখেছেন। সেটা ১৯৭২ সালের কথা। পূর্বদেশ পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠায় সংবাদ প্রতিবেদনের আঙ্গিকে এ ছড়া লেখেন তিনি। পাকিস্তানের কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধু তখনো স্বদেশে ফেরেননি। সেই সময় লিখেছেন ‘ঘরে ফিরে আইসো বন্ধু’। ভারতীয় সাহিত্যশিল্পী বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধুর পরম সুহৃদ অন্নদাশঙ্কর রায়ের ‘যত দিন রবে পদ্মা যমুনা…’ লেখাটির পর রফিকুল হকের ছড়াটিও এক অনবদ্য সৃষ্টি।
রফিকুল হক পরিমাণের চেয়ে মানের দিকে ছিলেন সবসময় মনোযোগী। পুরস্কার সম্মাননা প্রাপ্তি অপ্রাপ্তি কখনো তাকে আন্দোলিত করেনি। কাজ করে গেছেন নিমগ্নচিত্তে। বাংলা একাডেমি পুরস্কার (২০০৯), বাংলাদেশ শিশু একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (২০১৫) তিনি পেয়েছেন অনেক বিলম্বে। এছাড়া আর কোনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি তার ভাগ্যে জোটেনি। কিন্তু পাঠকের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন প্রথম জীবন থেকে। ছড়া লিখে পেয়েছেন বিপুল জনপ্রিয়তা। ছোট-বড় সবার কাছে তার ছড়া যেমন সমান প্রিয়, তেমনি মানুষ হিসেবেও তিনি ছোট-বড় সবার প্রিয়। ছড়ার মতোই তার আরেকটি ভালোবাসার ক্ষেত্র শিশুসংগঠন। জাতীয় শিশু-কিশোর সংগঠন ‘চাঁদের হাট’-এর প্রতিষ্ঠাতা তিনি। শিশু, শিশুসাহিত্য ও সাংবাদিকতা এই তিনের সার্থক সমন্বয় ঘটেছে তার মধ্যে।

তিন.
রফিকুল হক দীর্ঘকাল দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকার ছোটদের পাতা ‘চাঁদের হাট’ সম্পাদনা করেছেন ‘দাদুভাই’ ছদ্মনামে। এ সময় দেশব্যাপী তিনি গড়ে তুলেছিলেন ‘চাঁদের হাট’ শিশু সংগঠন। পূর্বদেশ পত্রিকা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সত্তর দশকের শেষ দিকে ‘কিশোর বাংলা’ সম্পাদনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তখন কিশোর বাংলা পাক্ষিক থেকে সাপ্তাহিকে রূপান্তরিত হয়েছে। মতিঝিলের অবজারভার ভবনে স্থানান্তরিত হয় কিশোর বাংলার কার্যালয়। শিশু সংগঠন চাঁদের হাটেরও মুখপত্র হয়ে ওঠে কিশোর বাংলা।
১৯৭৯ সালের শেষদিকে চট্টগ্রাম শহরে দাদুভাইয়ের সঙ্গে আমার প্রথম দেখা হয়। চাঁদের হাট সংগঠনের কাজে তিনি চট্টগ্রাম গিয়েছিলেন। তার আগে থেকে আমি চাঁদের হাটের খুদে লেখক। ১৯৮২ সালে আমি ঢাকায় চলে এলে দাদুভাইয়ের আরো কাছে যাওয়ার সুযোগ পাই। মতিঝিলের কিশোর বাংলা অফিসে তখন বসত পাক্ষিক সাহিত্য সভা। অবিকল্পভাবে তার মধ্যমণি থাকতেন রফিকুল হক দাদুভাই। পঠিত লেখাগুলোর ওপর মুখ্য আলোচক তিনি। ওখানেই ছিল আমার মূল আকর্ষণ। দাদুভাইয়ের আলোচনা শুনে নিজের ভুলত্রæটি শুধরে নিয়ে সমৃদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করতাম আমি। শুনতাম দাদুভাইয়ের উৎসাহব্যঞ্জক যুক্তিপূর্ণ আলোচনা। যে কোনো সম্ভাবনাময় লেখা ও লেখকের তিনি প্রশংসা করতেন অকপটে, প্রাণখুলে। লেখায় একটা কিছু নতুনত্ব পেলে আলোচনায় তিনি সে দিকটাকেই বড় করে তুলে ধরতেন। কবিত্বসমৃদ্ধ লেখাই বরাবর শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদা পেত তার কাছে। তার কথা, কবিত্ব ছাড়া উৎকৃষ্ট ছড়া হতে পারে না, কবিতা তো নয়ই।
এখন বুঝি, সে বয়সে এমন উৎসাহ প্রেরণাদায়ী দিক-নির্দেশনামূলক আলোচনা আমাদের এগিয়ে দেয়ার জন্য কত প্রয়োজন ছিল। আজ বলতে পারি, আমরা যারা সেই সময়ের লেখক, লেখালেখি করে পরবর্তীকালে কিঞ্চিৎ খ্যাতি-পরিচিতি পেয়েছি, তারা সবাই বেড়ে উঠেছি দাদুভাইয়ের নিবিড় পরিচর্যায়। এ কথা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। আমাদের সৌভাগ্য, কৈশোর তারুণ্যে আমরা কয়েকজন কৃতী সম্পাদক পেয়েছিলাম। তাদের মধ্যে একমাত্র রফিকুল হক দাদুভাই যমের মুখে ছাই দিয়ে এতদিন বেঁচে ছিলেন। ৮৫ বছর বয়সেও তিনি ছিলেন নিরলস সক্রিয়। ঢাকার সভা-সমিতি ছাড়াও দু’পার বাংলার ছড়াকারদের নিয়ে প্রতি বছর নিয়মিত তিনি কিশোরগঞ্জের ছড়া উৎসবে যোগ দিতেন। অনুষ্ঠান মাতিয়ে রাখতেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি দৈনিক যুগান্তরের ফিচার এডিটর পদে কর্মরত ছিলেন।
গত ১০ অক্টোবর থেমে গেল জীবনে সৃজনে মননে চিরসবুজ এই মানুষটির পথ চলা। অসংখ্য গুণগ্রাহীর স্মৃতিতে অমলিন থাকবে দাদুভাইয়ের উদার হাস্যোজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব। ওপারে ভালো থাকুন দাদুভাই। বিদায় সাহিত্য-গুরু।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়