সারাদেশে পূজামণ্ডপে হামলা : চাঁদপুরে সংঘর্ষে নিহত ৩

আগের সংবাদ

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের টার্গেট কী? প্রথম ম্যাচে মাহমুদউল্লাহ-সাকিবের মাঠে নামা নিয়ে দোটানা

পরের সংবাদ

ফেসবুকে লাইভ করা কে এই ফয়েজ

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৫, ২০২১ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ১৫, ২০২১ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

কাগজ প্রতিবেদক : কুমিল্লা নগরীর একটি পূজামণ্ডপে হনুমানের মূর্তির পায়ের উপর পবিত্র কুরআন শরিফ পাওয়ার অভিযোগ তুলে ফেসবুকে লাইভ করেন এক ব্যক্তি। মুহূর্তের মধ্যে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। একপর্যায়ে ভয়ংকার রূপ ধারণ করে সাম্প্রদায়িক অপশক্তি। সারাদেশের বিভিন্ন জায়গায় ইসলাম ধর্মকে অবমাননার দায়ে পূজামণ্ডপে হামলা ও প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়। ফেসবুকে লাইভ করা ওই ব্যক্তিকে ওই দিন (বুধবার) রাতেই গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় আসামি করা হয়েছে তাকে।
ফেসবুক লাইভ করে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টিকারী ওই ব্যক্তির বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তার নাম ফয়েজ আহমেদ। কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার রঘুরামপুর গ্রামের মৃত আবদুল করিমের ছেলে। তার দুই ছেলে দুই মেয়ে। দীর্ঘদিন সৌদি আরব থাকলেও গত বছর দেশে ফিরে নগরীর কান্দিরপাড়ের খন্দকার হক টাওয়ার শপিং কমপ্লেক্সে ‘মোবাইল সেবা’ নামে একটি দোকান খুলে ব্যবসা শুরু করেন তিনি।
ফয়েজের স্ত্রী জানান, ২০০০ সালে তাদের বিয়ে হয়। এর দুই বছর পর ফয়েজ সৌদি আরব যান। গত বছর দেশে ফিরে একটি দোকান খুলে ব্যবসা শুরু করেন তিনি। ফয়েজের স্ত্রী দাবি করেন, গত বুধবার সকাল ৭টার দিকে নানুয়ার দীঘির পাড়ে হাঁটতে বের হন ফয়েজ। তখনই পূজামণ্ডপের ঘটনাটি ভিডিও করে ফেসবুকে শেয়ার করেন।
ফয়েজের ছোট ভাই মো. মহসিন বলেন, আমরা চার ভাই ও দুই বোন। ফয়েজ আহমেদ মেজো। আমার ভাই কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নন। মূলত আবেগের বশে তিনি ভিডিও করে ফেসবুকে শেয়ার দিয়েছেন। খন্দকার হক টাওয়ার শপিং কমপ্লেক্স দোকান মালিক সমিতির সভাপতি আনিসুর রহমান জানান, সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে প্রথমে মার্কেটের চার তলায় একটি দোকান ভাড়া নেন ফয়েজ। ৪/৫ মাস আগে সেই দোকানটি তিনি কিনে নেন। তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানেন কিনা- এ প্রশ্নের জবাবে আনিস বলেন, শুনেছি ফেসবুকে কী ভিডিও ছাড়ছে, তাই তাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।
চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ওই মণ্ডপ এলাকা পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকদের বলেন, ফেসবুক লাইভের পরই দেশের বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিও দেখলে বোঝা যায়, একটি স্পষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিশেষভাবে ঘটনাস্থল থেকে যে লোক (ফয়েজ) ভিডিও করে ছড়িয়ে দিয়েছে, তাকে আটক করা হয়েছে। সে কোনো দলের কর্মী কিনা তাও যাচাই করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ফয়েজ আহমেদ বুধবার সকালে মণ্ডপ এলাকা থেকে ফেসবুক লাইভ করেন। এরপর রাত ৮টার দিকে নগরীর কান্দিরপাড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়