সারাদেশে পূজামণ্ডপে হামলা : চাঁদপুরে সংঘর্ষে নিহত ৩

আগের সংবাদ

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের টার্গেট কী? প্রথম ম্যাচে মাহমুদউল্লাহ-সাকিবের মাঠে নামা নিয়ে দোটানা

পরের সংবাদ

ফিলিপাইনের কালো আখ চাষে বাণিজ্যিক সম্ভাবনা

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৫, ২০২১ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ১৫, ২০২১ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

মাহফুজ মামুন, চুয়াডাঙ্গা থেকে : বাণিজ্যিকভাবে চুয়াডাঙ্গায় চাষ হচ্ছে ফিলিপাইনের কালো জাতের আখ। বাজারে এ আখের চাহিদা থাকায় কৃষকরা চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। প্রতি বছর আখ চাষ ছড়িয়ে পড়ছে জেলায়। অন্য ফসলের চেয়ে এটি লাভজনক। খরচ বাদে প্রতি বিঘায় লাভ প্রায় দেড় লাখ টাকা। আখ খেতে মিষ্টি, রসালো ও নরম। বাজারে প্রচলিত আখ থেকে ভিন্ন হওয়ায় ক্রেতাদের কাছে এর চাহিদা বেশি। আখ লম্বায় বড় হওয়ায় বাঁশের মাচা দিতে হয়। প্রতি পিস আখ বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা দরে। চুয়াডাঙ্গায় আখের চাহিদা মিটিয়ে অন্য জেলা থেকে ক্রেতারা মাঠ থেকে আখ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার শঙ্করচন্দ্র ইউনিয়নের দিননাথপুর গ্রামের কৃষক হারিছ চৌধুরি ২০১৮ সালে প্রথম ফিলিপাইনের কালো জাতের আখ চাষ করেন। তিনি চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে এ জাতের আখের চারা পান। প্রথমে তিন কাঠা জমিতে পরীক্ষামূলক আখ চাষ করেন। ফলন, আখের মান ভালো, বাজরে চাহিদা ও লাভজনক হওয়ায় পরের বছর সাড়ে চার বিঘা জমিতে চাষ করেন। তিনি আখের চারা তৈরি করে জেলার অন্য কৃষকদের কাছে বিক্রি করেন। অনেক কৃষক এ আখ চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। প্রতি পিস আখের চারা ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে কৃষকরা চারা নিয়ে যাচ্ছেন।
এক বিঘা জমিতে আখ চাষের জন্য ২ হাজার ৫০০ চারা রোপণ করতে হয়। এখান থেকে প্রায় ৯-১০ হাজার পিস আখ পাওয়া যায়। একটি আখ গাছ থেকে ৯-১১টি আখ পাওয়া যায়। আখ চাষ করতে হয় উঁচু জমিতে। জমি ভালোভাবে চাষ দিতে হয় প্রথমে। তারপর লম্বা লম্বা সারি করে চারা রোপণ করতে হয়। নিয়মিত আখ ক্ষেত পরিচর্যা করতে হয়। এতে রোগবালাই তুলনামূলক কম। আখ রোপণের ১০ মাস পর বাজারে বিক্রির উপযুক্ত হয়।
বর্তমানে চুয়াডাঙ্গার চারটি উপজেলায় ১০০ বিঘা জমিতে আখ চাষ হচ্ছে। এটি লাভজনক হওয়ায় কৃষকরা আগ্রাহ দেখাচ্ছেন। গাছ লাগানোর পর একটি আখ লম্বায় ১৫-২০ ফুট হয়। আখ যেন ভেঙে না যায়, সেজন্য বাঁশ, সুতা ও তার দিয়ে মাচা তৈরি করতে হয়। প্রতি পিস আখ বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকায়। ১০০ বিঘা জমি থেকে এ মৌসুমে প্রায় ৯ লাখ পিস আখ উৎপাদন হবে। আখ রসালো হওয়ায় বাজারে চাহিদা ব্যাপক। আখ লম্বায় অনেক বড় ও মোটা হয়।
আখের বাইরের রং কালো হলেও ভেতরে সাদা। আখ পুষ্টিকর খাবার হওয়ায় চাহিদা রয়েছে ক্রেতা-বিক্রেতার কাছে। প্রতি বিঘা জমিতে চাষে প্রায় ১ লাখ টাকা খরচ হয়। খরচ বাদে প্রতি বিঘায় লাভ হয় দেড় লাখ টাকা প্রায়।
আখ ক্ষেতের শ্রমিক আরশেদ বাবু বলেন, হারিছের আখ ক্ষেতে নিয়মিত কাজ করি। আগাছা পরিষ্কার, পাতা কাটা, সার ও কীটনাশক ছিটাই। দিন হাজিরা ৩০০ টাকা পাই।
এ ব্যাপারে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার শঙ্করচন্দ্র ইউনিয়নের দিননাথপুর গ্রামের আখচাষি হারিছ চৌধুরি বলেন, প্রথমে অল্প জমিতে এ জাতের আখ চাষ করি। আখের ফলন ভালো হওয়ায় চাষে আগ্রহ দেখাই। বড় পরিসরে চাষ করার জন্য চারা তৈরি করে সাড়ে ৪ বিঘা জমিতে এ মৌসুমে আখ লাগাই। ৬ লাখ টাকা লাভ হতে পারে। আখ চাষ সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে চারা উৎপাদন করছি।
চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার বুজরুকগড়গড়ি গ্রামের আখচাষি সোহান আলি জানান, দুই বিঘা জমিতে ফিলিপাইনের কালো জাতের আখ চাষ করছি। আখের চারার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে অন্য কৃষকদের কাছে। আখ চাষ লাভজনক। নতুন উদ্যোক্তারা আখ চাষ করে স্বাবলম্বী হতে পারবে।
চুয়াডাঙ্গা রোয়ালমারি গ্রামের কৃষক মফিজ জোয়ার্দ্দার বলেন, ১ বিঘা জমিতে এ বছর আখ চাষ করব। চারা তৈরি করার জন্য ১৩০টি ফিলিপাইনের কালো জাতের আখ কিনে আনলাম দিননাথপুর গ্রাম থেকে। ৫০ টাকা করে প্রতি পিস আখের দাম। অন্য ফসল চাষ লাভজনক না হওয়ায় আখ চাষ করব। ঢাকা সাভারের আখ ক্রেতা জলিল ব্যাপারি বলেন, চুয়াডাঙ্গায় কালো জাতের আখ বাজারে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে চাহিদা রয়েছে অনেক। ৩ হাজার পিস আখ কিনে ট্রাকযোগে সাভারে নিয়ে এলাম। প্রতি পিস আখ ২৫-৩০ টাকা লাভে বিক্রি করতে পারব। কারণ আখগুলো অনেক লম্বা ও মোটা।
এ ব্যাপারে চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা সুফি মো. রফিকুজ্জামান ভোরের কাগজকে বলেন, চুয়াডাঙ্গায় কৃষকরা নতুন ফসল চাষে আগ্রহী। ফিলিপাইনের কালো জাতের আখ চাষ হচ্ছে। আখ চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। উঁচু জমিতে এ জাতের আখ চাষ করলে ফলন ভালো হয়। কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহযোগিতা করা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়