সারাদেশে পূজামণ্ডপে হামলা : চাঁদপুরে সংঘর্ষে নিহত ৩

আগের সংবাদ

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের টার্গেট কী? প্রথম ম্যাচে মাহমুদউল্লাহ-সাকিবের মাঠে নামা নিয়ে দোটানা

পরের সংবাদ

কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে ঘটনা তদন্তে কমিটি, গ্রেপ্তার ৪১ : ঘটনাস্থলে আ.লীগের সংসদীয় কমিটি

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৫, ২০২১ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ১৫, ২০২১ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

এম ফিরোজ মিয়া, কুমিল্লা থেকে : কুমিল্লা মহানগরীর নানুয়া দীঘির উত্তর পাড়ে রাস্তায় নির্মিত একটি পূজামণ্ডপের ঘটনায় জেলা প্রশাসন তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। গত বুধবার রাতে জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসানের নির্দেশে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সায়েদুল আরেফিনকে প্রধান করে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম তানভীর আহমেদ ও আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকিয়া আফরিনকে সদস্য করে এ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে আগামী তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবারও নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পুলিশের পাশাপাশি ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিজিবির টহল অব্যাহত ছিল।
আওয়ামী লীগের একটি সংসদীয় টিম গতকাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন। কমিটির নেতৃত্বে ছিলেন সংসদের হুইপ ও দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আনোয়ার হোসেন।
কমিটির নেতারা কুমিল্লা সার্কিট হাউসে দলীয় ও হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন সাংবাদিকদের বলেন, দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে একটি গোষ্ঠী ন্যক্কারজনক এ ঘটনা ঘটিয়েছে। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। ডিআইজি মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, এ ঘটনায় এ পর্যন্ত ফয়েজ আহমদ নামের প্রধান এক সন্দেহভাজনসহ ৪১ জনকে আটক করা হয়েছে। দুপুরে সংসদীয় কমিটির নেতারা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করেন। বিকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিদল ও পুলিশের কর্মকর্তাসহ পূজা উদযাপন কমিটির নেতারা ছাড়াও বিভিন্ন মহলের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে প্রেস ব্রিফিং করা হয়।
গতকাল বিকালে কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান ও পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ জানান, হামলার ঘটনায় মোট ৪টি মামলা হয়েছে। ৪১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত দুষ্কৃতকারীকে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। এ সময় ফেসবুকসহ যে কোনো গুজবে কান না দেয়ার জন্য নাগরিকদের তারা আহ্বান জানান।
গত বুধবার সকালে নগরীর নানুয়া দীঘির উত্তর পাড়ে রাস্তার ওপর নির্মিত পূজামণ্ডপে হনুমানের মূর্তির পায়ের উপর কুরআন শরীফের বিষয়টি ৯৯৯-এ পুলিশকে মোবাইল ফোনে কল করে জানানো হয়। খবর পেয়ে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ তাৎক্ষণিক সেখানে গিয়ে কুরআন শরীফটি সরিয়ে আনে। বিষয়টি মুহূর্তের মধ্যে লোকমুখে জানাজানি ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে পড়লে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা সেখানে জড়ো হতে থাকে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা সেখানে যান এবং ক্ষুব্ধ জনতাকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। কিন্তু এতেও পরিস্থিতি অস্বাভাবিক হতে থাকলে পুলিশ টিয়ার শেল ও ফাঁকা গুলি চালায়। এতে আহত হয় পুলিশসহ অন্তত ৩৫ জন। পরে বিক্ষোভ নগরীর কয়েকটি স্থানে ছড়িয়ে পড়ে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়