সারাদেশে পূজামণ্ডপে হামলা : চাঁদপুরে সংঘর্ষে নিহত ৩

আগের সংবাদ

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের টার্গেট কী? প্রথম ম্যাচে মাহমুদউল্লাহ-সাকিবের মাঠে নামা নিয়ে দোটানা

পরের সংবাদ

এমন শাস্তি হবে, আর কখনো সাহস না পায় : সহিংসতা সৃষ্টিকারীদের প্রধানমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৫, ২০২১ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ১৫, ২০২১ , ১:২৪ পূর্বাহ্ণ

কাগজ প্রতিবেদক : কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ‘ধর্মকে ব্যবহার করে যারা সহিংসতা’ সৃষ্টি করছে তাদের অবশ্যই খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে এবং যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। যেখানে যেখানে যারাই এই ধরনের কোনো ঘটনা ঘটাবে, সঙ্গে সঙ্গে তাদের খুঁজে বের করা হবে। আমরা অতীতেও করেছি এবং ভবিষ্যতে আমরা করতে পারব এবং যথাযথ শাস্তি তাদের দিতে হবে। এমন শাস্তি, যেন ভবিষ্যতে আর কেউ সাহস না পায় সেটাই আমরা চাই। দুর্গাপূজা উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে ঢাকেশ্বরী মন্দিরের পূজামণ্ডপে ভক্তদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় এই হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
কুমিল্লার ঘটনা নিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, খুব ব্যাপকভাবে তদন্ত হচ্ছে। অনেক তথ্য আমরা পাচ্ছি এবং অবশ্যই এ ধরনের ঘটনা যারা ঘটাবে তাদের আমরা খুঁজে বের করবই। এটা আমরা করতে পারব। এখন প্রযুক্তির যুগ এটা বের করা যাবে এবং সে যেই হোক না কেন, যে ধর্মেরই হোক না কেন তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা অবশ্যই নেয়া হবে। আমরা তা করেছি এবং করব।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিষয়ে প্রতিবেশী দেশকেও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধর্মের নামে বিভেদ, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ বিষয়ে- সেটা শুধু আমাদের নিজেদের দেশ না, প্রতিবেশী দেশকেও সজাগ থাকতে হবে, সচেতন থাকতে হবে। প্রতিবেশী দেশ মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের সহযোগিতা করেছে, তাদের কথা আমরা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করি। সেখানেও এমন কিছু যেন না করা হয় যার প্রভাব আমাদের দেশে এসে পড়ে। আমাদের সনাতন সম্প্রদায়ের ওপর আঘাত আসে।

এ ব্যাপারে তাদেরও সচেতন থাকতে হবে, এটা আমার অনুরোধ থাকল। তিনি বলেন, কিছু লোক ধর্মান্ধতায় ভোগে এবং তারা সবসময় সাম্প্রদায়িক দ্ব›দ্ব সৃষ্টি করতে চায়। এটা শুধু আমাদের দেশে না, শুধু মুসলমান হিসেবে না, সব ধর্মেই কিন্তু এই ধর্মান্ধতা আছে। তারা সবসময় একটা গোলমাল, একটা কিছু করার চেষ্টা করে। আমরা যদি সবাই এক হয়ে চলি, নিশ্চয়ই তারা ক্ষতি করতে পারবে না।
বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, বাংলাদেশ একটা অসাম্প্রদায়িক চেতনার দেশ। বাংলাদেশে সব ধর্ম-বর্ণের সবাই একসঙ্গে বসবাস করবে। এবং যার যার ধর্ম সে সে পালন করবে। অর্থাৎ ধর্ম যার যার উৎসব সবার এবং বাংলাদেশে কিন্তু এটা সব সময় ছিল, আছে। উৎসবের সময় প্রত্যেকে এক সঙ্গে সামিল হয়ে আনন্দ উপভোগ করে। তিনি বলেন, আমি চাই আমাদের দেশের মানুষ সুন্দরভাবে জীবনযাপন করবে, সব ধর্মের মানুষই তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ভোগ করবে। সেটাই আমাদের লক্ষ্য।
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, মাঝেমধ্যে কিছু দুষ্ট চক্র কিছু ঘটনা ঘটিয়ে মানুষের ভেতরে এই চেতনা নষ্ট করতে চায়। এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। যখন একটা জিনিস সুন্দরভাবে চলছে সেটাকে নষ্ট করাই তাদের উদ্দেশ্য। বাংলাদেশ যখন উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে সেই সময় এই যাত্রাটাকে ব্যাহত করা আর সেই সঙ্গে সঙ্গে দেশের ভেতরে একটা সমস্যা করার পাঁয়তারা চলছে। যারা জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারে না, বিশ্বাস অর্জন করতে পারে না, রাজনীতি নেই, কোনো আদর্শ নেই, আসলে তারাই এ ধরনের কাজ করে। এটা তাদের এক ধরনের দুর্বলতা।
সনাতন ধর্মালম্বীদের স্বাধীনভাবে ধর্ম পালন করার আহ্বান জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, নিজেদের সংখ্যালঘু মনে করবেন না। এই দেশের নাগরিক হিসেবে সমঅধিকার নিয়ে বসবাস করবেন। সমঅধিকার ভোগ করবেন। সমঅধিকার নিয়ে ধর্ম পালন করবেন, উৎসব করবেন। সেটাই আমরা চাই। এটাই আমাদের বাংলাদেশের আসল নীতি।
ঢাকেশ্বরী মন্দির প্রান্ত থেকে ভিডিও কনফারেন্সে গণভবনের সঙ্গে সংযুক্ত ছিলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান, মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি শৈলেন্দ্র নাথ মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক কিশোর রঞ্জন মণ্ডল, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মিলন কান্তি দত্ত, সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার চ্যাটার্জি, রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন ঢাকার অধ্যক্ষ পূর্ণাত্মানন্দ মহারাজ প্রমুখ।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়