বাংলাদেশে করোনা > যে কারণে বাড়ছে সংক্রমণ ঝুঁকি : ৫১ দিনে নমুনা পরীক্ষা সাড়ে ৫০ হাজার

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২০

কাগজ প্রতিবেদক : করোনা আক্রান্ত শনাক্তের জন্য যে পদ্ধতিতে নমুনা সংগ্রহ করা হয় তা থেকেও দেশজুড়ে ভাইরাসটির সংক্রমণ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, সন্দেহজনক ব্যক্তির কাছ থেকে নমুনা নিয়ে আসার পর সেটি ল্যাবে পাঠানো হয়। এরপর পরীক্ষা করে ফলাফল দিতে কখনো কখনো ৫ দিন পেরিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় যার কাছ থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে সেই ব্যক্তি পরীক্ষার ফলাফল জানার আগেই বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। যদি পরীক্ষায় পজেটিভ ফলাফল আসে তাহলে তাকে সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন করা হয়। কিন্তু তার আগেই তিনি যাদের সঙ্গে ঘুরেছেন তারাও হয়তো আক্রান্ত হয়ে যাচ্ছেন, যা সহজেই বোঝা যাচ্ছে না।

এ রকম পরিস্থিতিতে জনস্বাস্থ্যবিদরা বলেছেন, যাদের নমুনা নেয়া হচ্ছে তাদের আগেভাগেই কোয়ারেন্টাইনে পাঠানোর বিষয়টি শক্তভাবে নিশ্চিত করতে হবে। নতুবা সংক্রমণের হার বেড়েই চলবে। তাদের মতে, কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে রোগী এবং তার সংস্পর্শে আসা লোকজনকে চিহ্নিত করা এবং তাদের বিচ্ছিন্ন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর জবাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, এ থেকে রেহাই পেতে নমুনা পরীক্ষাগারের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ২৫টি ল্যাবে পরীক্ষা হচ্ছে। দিনকয়েকের মধ্যে সেটি ২৮-এ উন্নীত হবে। দরকার হলে পরীক্ষাগার আরো বাড়ানো হবে।

এই আশঙ্কার মধ্যেই ধীরে ধীরে লকডাউন তুলে ফেলার ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর গত রবিবার থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পোশাক কারখানা চালু হয়েছে। এর ফলে সংক্রমণের হার ভবিষ্যতে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা এখনই বলা মুশকিল। এ অবস্থায় গতকাল সোমবার দেশে করোনা শনাক্ত হওয়ার ৫১ দিন পার হয়েছে। এই ৫১ দিনে দেশজুড়ে সাড়ে ৫০ হাজার নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে করোনায় শনাক্ত হয়েছেন প্রায় ৬ হাজার। এর মধ্যে হবিগঞ্জে ৪৮ করোনা রোগীর ২২ জনই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ময়মনসিংহে করোনা আক্রান্ত ১০৮ জনের মধ্যে ৭৮ জন চিকিৎসাকর্মী বলে জানা গেছে।

গতকাল সোমবার নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা বলেন, দেশে কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগী পাওয়ার ৫১তম দিন পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৫০ হাজার ৪০১টি। এই নমুনা থেকে করোনা আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে ৫ হাজার ৯১৩ জন। পরীক্ষাকৃত নমুনার মধ্যে ৯ হাজার ৯৩৬টি আইইডিসিআরের ল্যাবে এবং ৪০ হাজার ৫৬৫টি পরীক্ষা অন্যান্য ল্যাবে করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ ছিল ৪ হাজার ১৯২টি আর পরীক্ষা করা হয়েছে ৩ হাজার ৮১২টি। এর মধ্যে শনাক্ত হয়েছে ৪৯৭ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন আরো ৭ জন। মৃতদের মধ্যে ৬ জন পুরুষ এবং ১ জন নারী। তাদের ৫ জন ঢাকার এবং সিলেট ও রাজশাহীর ১ জন করে। বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৬০ এর ওপরে ৫ জন। ৪১-৫০ এর মধ্যে ১ এবং ১০ বছরের নিচে ১ জন। এ নিয়ে মোট প্রাণহানি হলো ১৫২ জনের।

নাসিমা সুলতানা জানান, দেশের ৬০ জেলা এখন করোনা আক্রান্ত। বাকি থাকা ৪ জেলা হচ্ছে- রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, সাতক্ষীরা ও নাটোর। এছাড়া মোট আক্রান্তের বেশির ভাগই ঢাকা বিভাগে বলে জানান তিনি। ঢাকার ভেতরে সর্বাধিক আক্রান্ত এলাকা হচ্ছে- রাজারবাগ, যাত্রাবাড়ী, লালবাগ, মোহাম্মদপুর, বংশাল, মহাখালী, মিরপুর, মিরপুর-১৪, তেজগাঁও, ওয়ারী, শাহবাগ, কাকরাইল ও উত্তরা।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj