সরাইলের ঘটনায় পুলিশের তদন্ত শেষ : জানাজায় লোক ঠেকাতে উদ্যোগ নেয়নি কেউ

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২০

কাগজ প্রতিবেদক : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের বেড়তলায় মাওলানা জোবায়ের আহমদ আনসারীর জানাজায় মানুষের ঢল ঠেকাতে পুলিশ ও প্রশাসনের কোনো ধরনের উদ্যোগ ছিল না। পুলিশ ও গোয়েন্দাদের সঙ্গে স্থানীয় ধর্মীয় নেতাদের নিয়মিত যোগাযোগ থাকায় লোক জমায়েতের বিষয়টি তারা জানাজার আগের রাতেই আঁচ করতে পারেন। জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারাও বিষয়টি জ্ঞাত হন। কিন্তু জমায়েত ঠেকাতে কোনো ধরণের নির্দেশনা ও কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় লাখো মানুষের সমাগম ঘটে। এ ঘটনায় গঠিত দুটি তদন্ত কমিটি এমন তথ্য পেয়েছে বলে জানা গেছে।

করোনা ভাইরাসের কারণে পুরো দেশ কার্যত লকডাউনে থাকার মধ্যেই এ ধরনের বড় জমায়েত নিয়ে প্রশ্ন উঠায় পুলিশ ও প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি সময়সীমা বাড়িয়েছে। পুলিশের তদন্ত কমিটি আগামীকাল বুধবার হেডকোয়ার্টার্সে প্রতিবেদনের দাখিলের জন্য কাজ গুছিয়ে এনেছে। তিন সদস্যের তদন্ত দলের প্রধান, চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে তদন্তদল দাফতরিক তথ্য-উপাত্ত, ভার্চুয়াল জগতের নানা খুঁটিনাটিসহ সার্বিক বিষয় খতিয়ে দেখেছেন। তারা সরেজমিন গিয়েও খোঁজখবর করেছেন। তবে জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটির কাজে গতি নেই বলে জানা গেছে।

পুলিশের তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত ডিআইজি মো. ইকবাল হোসেন গতকাল সোমবার ভোরের কাগজকে বলেন, গত ১৮ এপ্রিল শনিবার সকালে জানাজায় লক্ষাধিক লোক সমবেত হওয়ার ঘটনায় পরদিন রবিবার থেকেই তদন্ত শুরু হয়েছে। ২৩ এপ্রিল তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা থাকলেও তার সময় বাড়ানো হয়। তদন্তকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। দু-একদিনের মধ্যে রিপোর্ট দাখিল করা হবে। তিনি আরো জানান, তদন্তকাজে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য মতে, খুব অল্প সময়ের মধ্যে ঘটনাটি ঘটেছে। সকাল সাড়ে ৯টার পর থেকে মানুষ সেখানে জড়ো হয়েছিল। এ ব্যাপারে কার গাফলতি ছিল- রিপোর্ট জমা দেয়ার আগে তা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন ইকবাল হোসেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাওলানা জোবায়ের আহমদ আনসারী ১৭ এপ্রিল সন্ধ্যার আগে জেলা সদরের বিরশা মার্কাজপাড়ার বাড়িতে মারা যাওয়ার পরদিন ট্রাকে করে লাশ নেয়া হয় সরাইলে। মারা যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ এবং প্রশাসনের লোকজন খবর জানতে পারে। কিন্তু লোকসমাগম ঠেকাতে কোনো ধরনের ব্যবস্থাই নেয়নি পুলিশ ও প্রশাসন। আশুগঞ্জ, কসবা, মাধবপুর ও বিজয়নগর সাতবর্গ চেকপোস্ট পুলিশ আটকে দিলে কোন ধরনের যানবাহন সরাইলে যেতে পারতো না। কোনো ধরনের বাধা না পেয়ে বাক্ষ্রণবাড়িয়া জেলা ছাড়াও ঢাকিা, সিলেট, হবিগঞ্জ, ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, কুমিল্লা থেকে হাজার হাজার মানুষ ব্যক্তিগত যানবাহন এবং ট্রাকে করে সেখানে পৌছে জানাজা শেষে ফিরে গেছেন। করোনা পরিস্থিতির মধ্যে আগে থেকে প্রস্তুতি না থাকায় এতো মানুষের জমায়েত ঠেকাতে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন পুরোপুরি ব্যর্থ হয়। জেলা পুলিশ ও প্রশাসন বিষয়টি জ্ঞাত থাকারও পরও স্থানীয়দের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা না দেয়ায় তাদের ব্যর্থতার ব্যাপারেও তদন্ত সংশ্লিষ্টরা তথ্য পেয়েছেন বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে সমালোচনার মুখে লোক জমায়েত ঠেকাতে স্থানীয় প্রশাসনের গাফলতি খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি করা হয় ১৮ এপ্রিল। অতিরিক্ত জেলা মেজিস্ট্রেট মিতু মরিয়মকে ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় ২১ এপ্রিল। ৭ কর্মদিবসে তার প্রতিবেদন দেয়ার কথা থাকলেও তিনি আরো সময় চেয়েছেন।

উল্লেখ্য, ১৮ এপ্রিল সকালে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা জোবায়ের আহমদ আনসারীর জানাজা হয়। পরে সরাইল উপজেলার বেড়তলায় তার প্রতিষ্ঠিত জামিয়া রহমানিয়া বেড়তলা মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে তাকে দাফন করা হয়। এই জানাজার পর সরাইলের আট গ্রামের মানুষকে ঘরবন্দি করা হয়েছে। লোক সমাগত নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার অভিযোগে পুলিশের সরাইল সার্কেল এএসপি, থানার ওসি এবং আরেকজন ইন্সপেক্টরকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। কিন্তু প্রশাসনের সবাই বহাল রয়েছেন।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj