করোনা উপসর্গ নিয়ে চার জেলায় ৫ জনের মৃত্যু

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২০

কাগজ ডেস্ক : করোনার উপসর্গ নিয়ে ৪ জেলায় ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পটুয়াখালীতে ইউপি সদস্য, বরগুনায় বৃদ্ধ ও যুবক, লক্ষীপুরে শতবর্ষী বৃদ্ধ এবং ফেনীর দাগনভূঞায় যুবক মারা গেছেন। নিচে এ সম্পর্কে আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো রিপোর্ট-

পটুয়াখালী : জেলার গলাচিপায় জ্বর ও সর্দি-কাশি নিয়ে এক ইউপি সদস্য মারা গেছেন। গতকাল সোমবার ভোরে উপজেলার চরবিশ^াস ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের চর আগস্তী গ্রামের নিজ বাড়িতে তিনি মারা যান। মৃত মো. মোসলেম গাজী (৬৫) নামে ওই ইউপি সদস্য কয়েকদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন।

সিভিল সার্জন ডাক্তার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জানান, মৃতের পরিবার ও তার সংস্পর্শে আসা আশপাশের সবার নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হবে।

গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মনিরুল ইসলাম জানান, জ্বর ও সর্দি-কাশি নিয়ে ভোরে তিনি তার বাড়িতে মারা যান। দুপুরে তার লাশ কোভিড-১৯ প্রটোকল মেনে দাফন করা হয়েছে। তিনি জানান, তাকে চিকিৎসা দিতে সংস্পর্শে আসা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য উপসহকারী মো. শাহিন মিয়াসহ মৃতের পরিবারের সবাইকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। মৃতের বড় ছেলের জ্বর ও সর্দি-কাশি রয়েছে বলেও জানান তিনি।

বরগুনা : পৌর শহরের কেজি স্কুল এলাকায় করোনার উপসর্গ নিয়ে এক বৃদ্ধ (৭৫) এবং এক যুবকের (২৭) মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সোমবার ভোরে পৌর শহরের কেজি স্কুল সড়ক এলাকার আইউব ম্যানশনের বাসিন্দা গোলাম সরোয়ার নান্টুর ছেলে মাইনুর রহমান নিশাত মারা যান।

স্বজনরা জানান, নিশাত কয়েকদিন ধরে জ্বর ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। মধ্যরাতের পর তীব্র শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। কিন্ত কোনো চিকিৎসক সাড়া দেননি। হাসপাতালে নেয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও পাওয়া যায়নি। ভোরে তার মৃত্যু হয়। স্বাস্থ্য বিভাগ তার নমুনা সংগ্রহ করে এবং প্রশাসন বাড়ি লকডাউন করে। ওই যুবকের মৃত্যুর পর তার স্ত্রী পালিয়ে পাথরঘাটার নাচনাপাড়া ইউনিয়নের কাজিরহাট গ্রামে বাবার বাড়িতে চলে যান। স্থানীয়রা ওই বাড়িতে লাল নিশান টানিয়ে দিয়েছেন।

অপরদিকে রবিবার রাতে কেজি স্কুল এলাকার ডাক্তার বাড়ি সড়কে জ্বর ও শ্বাসকষ্টে এক বৃদ্ধ মারা গেছেন। বৃদ্ধের স্বজনরা বিষয়টি গোপন রেখে রাতেই গ্রামের বাড়িতে দাফন করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, মারা যাওয় বৃদ্ধ তার মেয়ের জামাই রিয়াজ খাঁনের বাসায় থাকতেন।

তিনি জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে বাইরে ঘোরাফেরা করতেন। কিন্ত তার মৃত্যুর পর স্বজনরা বিষয়টি গোপন রেখে রাতেই গ্রামের বাড়ি ঢলুয়া ইউনিয়নে দাফন করেছেন।

যোগাযোগ করা হলে বৃদ্ধের মেয়ের জামাই রিয়াজ খান বলেন, তার শ্বশুর আগে থেকেই নানা রোগে আক্রান্ত ছিলেন, করোনার উপসর্গ ছিল না। পরিস্থিতি বিবেচনায় তাকে রাতেই দাফন করা হয়।

বরগুনার সিভিল সার্জন হুমায়ুন শাহীন খান বলেন, মৃত যুবকের নমুনা সংগ্রহ করে বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। তবে বৃদ্ধের বিষয়টি স্বাস্থ্য বিভাগের জানা নেই। খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

দাগনভূঞা (ফেনী) : উপজেলায় করোনা উপসর্গ নিয়ে এক যুবকের (৪৫) মৃত্যু হয়েছে। মৃত যুবক উপজেলা সদরের নামার বাজার এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। তার গ্রামের বাড়ি একই উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের সেকান্তরপুর গ্রামে। তিনি পেশায় চা দোকানি ছিলেন। রবিবার রাতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রুবাইয়েত বিন করিম জানান, মৃত ব্যক্তির কিছু দিন থেকে সর্দি-কাশি ও শ^াসকষ্ট ছিল। তাই করোনা পরীক্ষার জন্য তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার বাড়িসহ পাশের ২টি বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। তার লাশ বিশেষ ব্যবস্থায় দাফন করা হবে।

দাগনভূঞা পৌর মেয়র ওমর ফারুক খান জানান, মৃত ব্যক্তির জ্বর, সর্দি-কাশি, গলা ব্যথাসহ করোনা উপসর্গ নিয়ে কিছু দিন ধরে খুবই অসুস্থ ছিলেন বলে তার পরিবার সূত্রে জানা যায়। তারা বিষয়টি নিয়ে ঢাকা রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও কেউ ফোন ধরেননি।

লক্ষীপুর : জেলায় করোনা উপসর্গ নিয়ে নূর মোহাম্মদ নামে শতবর্ষী এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ১০৫ বছর। গতকাল সোমবার দুপুরে মৃতদেহ থেকে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করেছে।

জানা গেছে, করোনা উপসর্গ নিয়ে সকালে বৃদ্ধ নূর মোহাম্মদ মারা যান। তিনি লক্ষীপুর পৌর এলাকার ১১নং ওয়ার্ডের আটিয়াতলী এলাকার বাসিন্দা। তবে স্বজনদের দাবি, বার্ধক্যজনিত রোগে তার মৃত্যু হয়েছে। মানবকল্যাণ নামের স্থানীয় একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন স্বাস্থ্যবিধি মেনে তার দাফন-কাফন সম্পন্ন করেছে।

লক্ষীপুরের সিভিল সার্জন ডা. আবদুল গাফফার বলেন, করোনা উপসর্গ থাকায় তার মৃতদেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj