গাজীপুর ও আশুলিয়ায় শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ-অগ্নিসংযোগ

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২০

কাগজ ডেস্ক : পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভে গাজীপুর ও ঢাকার আশুলিয়া যেন রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। বেতন-ভাতা ও কারখানা খুলে দেয়ার দাবিতে গাজীপুরে মহাসড়ক অবরোধ করে মিছিল, সমাবেশ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার পর পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অন্যদিকে সাভারের আশুলিয়ায় শ্রমিকদের সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে এবং বন্ধ কারখানা খুলে দেয়ার দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকরা। দেশজুড়ে করোনা পরিস্থিতির সতর্কতার মধ্যেই গতকাল সোমবার এই ২ এলাকা এ ঘটনা ঘটে। নিচে এ সম্পর্কে আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

গাজীপুর : গাজীপুরে মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেলে অগ্নিসংযোগ এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন পোশাক শ্রমিকরা। পরে শিল্প পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। সকালে মহানগরীর ভোগড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জালাল উদ্দিন জানান, সম্প্রতি ভোগড়া এলাকার স্টাইলিস গার্মেন্টস কারখানার কর্তৃপক্ষ এক মাস আগে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত কারখানা লে-অফ ঘোষণা করে বিজ্ঞপ্তি দেয়। লে-অফ করার আগে ৩০ জন শ্রমিকের বেতন এবং ৮০ জন স্টাফের ৬০ শতাংশ বেতন বকেয়া ছিল। দুদিন ধরে ওই কারখানার শ্রমিকরা বন্ধ করে দেয়া কারখানাটি দ্রুত খুলে দেয়া এবং শ্রমিক-স্টাফদের বকেয়া বেতনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তাদের দাবি পূরণ না হওয়ায় সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কারখানার সমানে জড়ো হন। পরে তারা আশপাশে থাকা ভলমন্ট ফ্যাশন, ক্রাউন ফ্যাশন, টেকনো ফাইবার নামের চলমান পোশাক কারখানার শ্রমিকদের কাজ না করার আহ্বান জানান এবং ওই সব কারখানায় ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। একপর্যায়ে তারা ক্রাউন ফ্যাশন কারখানার সামনে মহাসড়কের পাশে পার্কিং করা ৩টি মোটরসাইকেল ও ৮টি বাইসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করেন। প্রথমে তাদের মহাসড়ক ছেড়ে যেতে অনুরোধ জানালেও, তারা সাড়া না দেয়ায় পরে কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এনে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করে শিল্প পুলিশ।

সাভার : আশুলিয়ায় শ্রমিকদের সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত এবং কারখানার চাকরিচ্যুত শ্রমিকদের পুনর্বহালের দাবিতে সাভার ও আশুলিয়ায় বন্ধ কারখানা খুলে দেয়ার দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকরা। সকালে আশুলিয়ার জামগড়া, ইউনিক, নরসিংহপুর ও সাভারের উলাইল এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে।

শ্রমিকরা জানান, সকালে আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকার শারমিন গ্রুপের কারখানার শ্রমিকরা কাজে যোগ দেয়ার পর পর্যাপ্ত সুরক্ষার ব্যবস্থা নেই এমন অভিযোগ তুলে কারখানা থেকে বের হয়ে যান। অন্যদিকে ইউনিক এলাকার আঞ্জুমান অ্যাপারেলস লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরাও কাজে যোগ দেয়ার পর বের হয়ে যান এবং সুরক্ষার ব্যবস্থা না থাকার অভিযোগ তোলেন।

নরসিংহপুর এলাকার হা-মীম গ্রুপের শ্রমিকরা সকালে কারখানায় গিয়ে কাজ করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরে কারখানাটি বন্ধ ঘোষণা করে দেয়া হয়। কারখানাটির মূল ফটকের সামনে আন্তর্জাতিক ক্রয় আদেশ বাতিল, শ্রমিকদের নিরাপত্তা আর স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনা করে কারখানা বন্ধ ঘোষণা করার নোটিস টানিয়ে দেয়া হয়।

অন্যদিকে জামগড়ার নেক্সট কালেকশন নামের একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা সকালে কর্মস্থলে উপস্থিত হয়ে কাজ না করে কারখানা থেকে বের হয়ে বিক্ষোভ করতে চাইলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়। পরে শ্রমিকরা বাড়ি ফিরে যান। এছাড়া আশুলিয়ার সিগমা ফ্যাশনসের ছাঁটাইকৃত শ্রমিকরা সকালে কারখানার মূল ফটকের সামনে জড়ো হয়ে তাদের চাকরি পুনর্বহাল ও কারখানা চালুর এবং সাভারের উলাইল এলাকার কেএল ডিজাইন কারখানার শ্রমিকরা বন্ধ কারখানা খুলে দেয়ার দাবিতে বিক্ষোভ করেন।

একাধিক শ্রমিক অভিযোগ করে বলেন, কারখানা কর্তৃপক্ষ শুধু হাত ধোয়া ও মাস্কের ব্যবস্থা করে দায় এড়ানোর চেষ্টা করছেন। তাদের পর্যাপ্ত সুরক্ষা ও স্বাস্থ্যবিধি না মেনে কাজে যোগ দিতে বললে তারা কারখানা থেকে বের হয়ে বিক্ষোভ করেন।

আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১ এর সহকারী পুলিশ সুপার জানে আলম বলেন, কয়েকটি কারখানার শ্রমিক কাজ না করে বের হয়ে চলে গেছেন। তবে কারখানায় পর্যাপ্ত সুরক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দায়িত্ব মালিকপক্ষের। এসব বিষয়ে আমাদের কাছে কেউ জানালে আমরা খোঁজ নিয়ে সমাধানের ব্যবস্থা গ্রহণ করব। এছাড়া যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কারখানাগুলোর সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে রাখা হয়েছে।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj