টাইগ্রেসদের কোচিং স্টাফ পরিবর্তন করবে বিসিবি!

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২০

কাগজ প্রতিবেদক : অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভালো করার প্রত্যয় নিয়েই দেশ ছেড়েছিল সালমা বাহিনী। লক্ষ্য ছিল র‌্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি করে পরের বছর বাছাই পর্ব যেন এড়ানো যায়। কিন্তু কোনো লক্ষ্যই পূরণ হয়নি সালমা-রোমানাদের। বিশ্বকাপে তারা একটি ম্যাচও জিততে পারেনি। তাই বিশ্বকাপের এই হতাশাপূর্ণ পারফরমেন্সের মূল্যায়ন করতে বসার কথা ছিল বিসিবির (বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড) নারী ক্রিকেট শাখার। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে তা সম্ভব হয়নি। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে অচিরেই এ বিষয়ে পর্যালোচনা করা হবে। আর তখন কোচিং স্টাফে পরিবর্তন আনার একটি বড় সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিসিবির উইমেন্স ক্রিকেট কমিটির চেয়ারম্যান শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল। সালমাদের বর্তমান কোচিং স্টাফদের সঙ্গে বিসিবির চুক্তিটা ছিল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত। অবশ্য তাদের সঙ্গে চুক্তি বাড়ানোর একটা সুযোগ ছিল। কিন্তু বিশ্বকাপে ব্যর্থতার কারণে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নারী কোচিং স্টাফদের পারফরমেন্সে মোটেও সন্তুষ্ট নয়। তাই নতুন কোচিং স্টাফ নিয়োগের ব্যাপারে ভাবছে বিসিবি। তবে করোনা পরিস্থিতিতে আটকে আছে পুরো প্রক্রিয়াই। এ বিষয়ে বিসিবির নারী ক্রিকেট শাখার চেয়ারম্যান শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল ক্রিকবাজকে বলেন, ‘সবকিছু স্বাভাবিক হলে আমরা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের হতাশাজনক খেলার কারণ অনুসন্ধান করব। এই বিপর্যয়ের কারণ নিয়ে আমরা আরও আগেই বসতে চেয়েছিলাম কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে তা হয়ে ওঠেনি। এমনিতেই পুরনো কোচিং স্টাফদের সঙ্গে আমাদের চুক্তি ছিল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত। যেহেতু তারা সফলতা পাননি, আমরা চাচ্ছি কোচিং স্টাফ পরিবর্তন করতে। তবে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এই প্রক্রিয়া শুরু করতে পারব না। আশা করি দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি হবে, তাহলে আমরা স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু করতে পারব।’

২০২১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে প্রস্তুতি নেয়া জরুরি। কিন্তু করোনার কারণে কোনো পরিকল্পনাই বাস্তবায়ন করতে পারছে না দেশগুলো। তার ওপর বিশ্বকাপে যেতে হলে বাংলাদেশকে খেলতে হবে বাছাই পর্ব। যেটি শ্রীলঙ্কাতে হওয়ার কথা এই বছরের জুলাইয়ে। আর এ পরিস্থিতিতে পুরুষদের চেয়ে নারী ক্রিকেটেই বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে মনে করেন শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল। তিনি বলেন, ‘পুরুষের ক্রিকেটের চেয়ে আমাদের ক্ষতিটা বেশিই হয়েছে। জুলাইয়ের বাছাইপর্বের জন্য এখন আমাদের প্রস্তুতি নেয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনা কারণে আমরা কিছুই করতে পারছি না।’

এদিকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার আগে নেপালের মাটিতে এসএ গেমসে অংশগ্রহণ করে টাইগ্রেসরা। এসএ গেমসে এবারই প্রথমবারের মতো যুক্ত হয়েছিল নারীদের ক্রিকেট। আর প্রথম আসরেই বাজিমাত করে সালমারা। পুরো আসরে অপরাজিত থেকে ফাইনালে শ্রীলঙ্কা নারী দলকে হারিয়ে স্বর্ণপদক জয় করেছিল তারা। ফলে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সালমা বাহিনীকে নিয়ে সকল ক্রিকেটপ্রেমীর বাড়তি প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু বিশ্বকাপে গিয়ে নিজেদের মেলে ধরতে পারেনি লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

এদিকে কয়েকদিন আগে নারী দলের ম্যানেজার জাভেদ ওমর বেলিমকে নিয়ে কয়েকদিন আগে ধোঁয়াশা তৈরি হয়। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর রটে যায় যে তিনি বিশ্বকাপ চলাকালীন সময়ে নারী দলের তথ্য পাচার করেছেন।

আর এ জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলরের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে বলা হয়েছে তাকে যেন আর কোনো দায়িত্ব না দেয়া হয়। এ নিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেট পাড়ায় ব্যাপক হইচই শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত জাভেদ ওমর নিজেকে এ ব্যাপারে মুখ খুলতে হয়। তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠেছিল তার সবকিছুই তিনি মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেন। অবশ্য বিসিবির পক্ষ থেকেও এই ব্যাপারটি নিশ্চিত করা হয়েছিল যে এগুলো সব বানানো। বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরী মিডিয়ার কাছে জানিয়েছিলেন আইসিসির কাছ থেকে এমন কোনো সতর্ক বার্তা বিসিবির কাছে আসেনি।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj