টঙ্গীতে একই দিনে চার শিশুকে ধর্ষণ, কেয়ারটেকার গ্রেপ্তার

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২০

কাগজ ডেস্ক : গাজীপুরের টঙ্গীতে একই বাড়িতে ৪ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে অপর একজন পলাতক রয়েছে। নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে ১০ বছরের এক শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে ধর্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এদিকে বরগুনার বামনা ও সাতক্ষীরার শ্যামনগরে শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে ২ জনকে আটক করেছে পুলিশ। নিচে এ সম্পর্কে আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

গাজীপুর : জেলার টঙ্গীতে একই বাড়িতে ৪ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এদের মধ্যে ৮, ৭ ও ৫ বছর বয়সী ৩টি মেয়ে এবং অন্যটি ৩ বছর বয়সী একটি ছেলে। ওই শিশুদের শারীরিক পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গত রবিবার টঙ্গীর আউচপাড়া মোক্তার বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত বেলায়েত হোসেন বেনুকে (৫০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে বিল্লাল হোসেন (৪৭) নামে আরো এক অভিযুক্ত পলাতক রয়েছে। স্থানীয়দের বরাত দিয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি মো. এমদাদুল হক জানান, অভিযুক্ত বেলায়েত হোসেন বেনু ও বিল্লাল একই বাড়িতে বসবাস করতেন। ভিকটিম শিশুদের বাবা-মা দিনমজুরের কাজে বেশির ভাগ সময় বাড়ির বাইরে থাকেন। রবিবার সন্ধ্যায় ওই ৪ শিশু বাড়ির উঠানে খেলা করছিল। এ সময় বাড়ি নির্জন থাকায় খাবার কিনে দেয়ার কথা বলে একে একে ৪ শিশুটিকে ডেকে এনে নিজ কক্ষে ধর্ষণ করে বেলায়েত ও তার সহযোগী। ঘটনাটি জানাজানি হলে রাতেই কয়েক হাজার টাকার বিনিময়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চালায় অভিযুক্তরা। তবে ঘটনার একদিন পর সোমবার স্থানীয় কয়েকজন যুবক থানায় খবর দিলে পুলিশ প্রধান অভিযুক্ত বেলায়েতকে আটক করে। স্থানীয়রা জানান, বেলায়েত ওই বাসার কেয়ারটেকার হিসেবে নিয়োজিত ছিল। খাবারের লোভ দেখিয়ে শরীর টিপে দেয়ার কথা বলে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই এমন কাজ করছিল সে।

নেত্রকোনা : জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলায় প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বাড়ির পেছনে গিয়ে ১০ বছরের এক শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই সিয়াধার গ্রামে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত মিজানুর রহমানকে (২০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আটককৃত ধর্ষক মিজানুর রহমান সিয়াধার গ্রামের আলীম উদ্দিনের ছেলে। গত রবিবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার মাঘান-সিয়াধার ইউনিয়নের সিয়াধার গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গতকাল সোমবার বিকালে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে ধৃত ধর্ষক মিজানুর রহমানকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মোহনগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে উপজেলার সিয়াধার গ্রামের আলীম উদ্দিনের বখাটে ছেলে মিজানুর রহমানের কুনজর পড়েছিল একই গ্রামের ১০ বছরের ওই শিশুর ওপর। বখাটে মিজান তখন থেকেই মেয়েটিকে রাস্তাঘাটে একা পেলেই নানাভাবে উত্ত্যক্ত করত। রবিবার রাত ১০টার দিকে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে মেয়েটি ঘরের পেছনে যায়। এ সময় সেখানে আগে থেকেই ওঁৎ পেতে থাকা বখাটে মিজানুর গামছা দিয়ে মুখ বেঁধে মেয়েটিকে তুলে নিয়ে যায় পাশের একটি নির্জন স্থানে। পরে সেখানে সে মেয়েটিকে ধর্ষণ করে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। এ সময় মেয়েটির চিৎকারে বাড়ির লোকজন উদ্ধার করে রাতেই মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে দেন। পরে সেখানে শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত ১টার দিকে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।

বামনা (বরগুনা) : উপজেলার আমতলী গ্রামে ৪ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে মো. বেলাল গাজীকে (২৪) আটক করেছে পুলিশ। বেলাল উপজেলার আমতলী গ্রামের সাহেব আলী গাজীর ছেলে। গতকাল সোমবার সকালে ওই শিশুটিকে নিজ ঘরে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় সে। ভুক্তভোগী শিশুটির মা বলেন, সকাল ১০টার দিকে মেয়েকে না পেয়ে খুঁজতে থাকি। এ সময় পাশর্^বর্তী বাড়ির বেলাল গাজীর ঘর থেকে সন্তানের কান্নার আওয়াজ শুনতে পাই। আমি গিয়ে মেয়েকে ডাক দিলে বেলাল তাকে ছেড়ে দেয়। মেয়েটি কাঁদতে কাঁদতে এসে বলে তাকে বেলাল ঘরে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। পরে মেয়েকে বামনা হাসপাতালে ভর্তি করে থানায় অবহিত করি। তিনি আরো বলেন, বেলাল এলাকায় বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িত। কয়েকবার সে তাদের ঘরে চুরি করেছে। এছাড়া বিভিন্ন সময় তার পরিবারকে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিল। এদিকে পুলিশ অভিযোগের সত্যতা পেয়ে বিকাল ৩টার দিকে অভিযুক্ত বেলালকে আটক করে। এ সময় তার কাছে একটি ছুরি ও মাদকদ্রব্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে এলাকাবাসী। এ ঘটনায় বামনা থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্যাতনের শিকার ওই শিশুটির পরিবার।

সাতক্ষীরা : জেলার শ্যামনগর উপজেলায় ৯ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার সময় মারুফ বিল্লাহ (১৯) নামে এক যুবককে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা। গত রবিবার সন্ধ্যায় উপজেলার বুড়িগোয়ালীনি ইউনিয়নের আবাদচন্ডিপুর গ্রামের বনবিবিতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। শিশুকে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তির পর তার মা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। নির্যাতিত শিশুটি বনবিবিতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী।

গ্রামবাসী জানায়, রবিবার সন্ধ্যায় প্রতিবেশী সাইফুল ইসলামের ছেলে মারুফ বিল্লাহ শিশুটিকে ফুসলিয়ে নিজ বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। বিষয়টি বুঝতে পেরে প্রতিবেশীরা মারুফকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। পরে শিশুটিকে শ্যামনগর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj