চট্টগ্রামে ব্যবসায়ীদের কারসাজি : ১২০ টাকার আদা ৪শ ক্ষুব্ধ ক্রেতারা

সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২০

চট্টগ্রাম অফিস : সপ্তাহখানেক আগের ১২০ টাকা কেজি মূল্যের আদার দাম প্রায় তিন গুণ বেড়েছে। খুচরা বাজার ভেদে আদা এখন ৩৬০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। রমজানের শুরুতেই বাজারে আদার তেজ বাড়ায় বেকায়দায় পড়েছেন ক্রেতারা। পর্যাপ্ত মজুত ও সরবরাহ স্বাভাবিক থাকা সত্ত্বেও এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীর যোগসাজশে আমদানিকারকরা সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে আদার দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে প্রশাসনিক চাপ অব্যাহত রাখা হলেও আদার তেজ যেন কিছুতেই কমছে না। গতকাল রবিবার পাইকারি বাজারে আদা ২৫০-২৭০ টাকা আর খুচরা বাজারে তা ৩৫০-৪০০ টাকায় বিক্রি হয়। অথচ বাজারে আদার প্রচুর মজুত রয়েছে। গত সপ্তাহেও চট্টগ্রাম বন্দরে আদা এসেছে। তাছাড়া লকডাউনের এই সময়ে বিয়েশাদি, সামাজিক আচার-অনুষ্ঠান বন্ধ থাকায় আদার ব্যবহারও কম। আদার অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির নেপথ্যে আমদানিকারকদের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের কারসাজিই মূল কারণ বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট মহল।তবে আদার বাজার নিয়ন্ত্রণে গতকাল রবিবার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা একটা নীতিগত সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পাইকারিতে ১৫০ টাকা কেজি দরে আদা বিক্রি হবে। এ ব্যাপারে চাক্তাই খাতুনগঞ্জ আড়তদার ও সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলম ভোরের কাগজকে বলেন, স্বাভাবিকভাবে আদার কেজি ১১০ বা ১২০ টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়। তবে হঠাৎ করে আদার এমন অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণ বুঝতে পারছি না। বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ১৪০ টাকায় আদার কেজি বিক্রির নির্দেশনা দিয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা গেছে, গত মার্চে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে প্রায় ৩২৬৭ টন আদা চীন থেকে আমদানি করা হয়েছে। ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছে ১ হাজার ৫৯৮ টন। চীনের পাশাপাশি ভারত, মিয়ানমার থেকেও আদা আমদানি করা হয়। আমদানিকৃত আদা চট্টগ্রাম বন্দর থেকে নিয়মিতভাবেই ছাড় হচ্ছে।

এদিকে রমজানের শুরুতে ছোলা, খেজুর, মুড়ি, চিড়া, চিনি, ডাল, তেল, পেঁয়াজসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যও বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দামে। প্রতিটি পণ্যে মানভেদে সর্বনি¤œ ৫ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এসব পণ্যের আমদানি পর্যাপ্ত হলেও পাইকারি ও খুচরা বাজারে বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে।

পণ্যের দাম বাড়ানোকে ব্যবসায়িক কারসাজি এবং পণ্য কিনতে ভোক্তাদের সচেতন হওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনকে কঠোরভাবে নিয়মিত বাজার মনিটরিং রাখার দাবি জানিয়েছে কনজ্যুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ক্যাব।খাতুনগঞ্জের বিভিন্ন পাইকারি আড়ত ঘুরে দেখা গেছে, অস্ট্রেলিয়ার ছোলা প্রতি কেজি ৬৭ টাকা এবং দক্ষিণ আফ্রিকার ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকা। মসুর ডাল (মোটা) ৮০ টাকা ও মসুর ডাল (চিকন) ১১০ টাকা, চিনি ৫৮ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সয়াবিন তেল প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে ৩২০০ টাকায়। ক্যাবের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ‘এই মুহূর্তে দাম বাড়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। কারণ সব পণ্যের আমদানি পর্যাপ্ত রয়েছে। দাম বাড়ানো ব্যবসায়ীদের কারসাজি।

নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি বন্ধ করতে হলে কঠোর নজরদারি ও প্রশাসনের আন্তরিকতা প্রয়োজন। ভোক্তাদেরও সচেতন হতে হবে। চাহিদার বেশি পণ্য যাতে কেউ না কিনে।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj