করোনা ভাইরাসের রোগ সৃষ্টির ক্ষমতা কমেছে : ভাইরাসের প্রকৃতি শনাক্তে জরুরি জিনোম সিকোয়েন্স উদঘাটন

শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২০

কাগজ প্রতিবেদক : করোনা মহামারি আসলে কোন দিকে যাচ্ছে তার পুরোপুরি না হলেও অনেকখানি ধারণা পেতে রোগটির পেছনে যে ভাইরাস দায়ী তার জিনোম উদঘাটন প্রয়োজন। এর কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, কোভিড-১৯ বৈশ্বিক মহামারির পেছনে দায়ী যে সার্স-কভ-২ ভাইরাসটি, তার মধ্যে কিছু পরিবর্তন দেখা গেছে। ফলে ইতোমধ্যে তার রোগ সৃষ্টির ক্ষমতা অনেকখানি কমেছে। সম্প্রতি ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের (ঢাবি) জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মুশতাক ইবনে আয়ূবের এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।

প্রসঙ্গত, জিনোম সিকোয়েন্স হচ্ছে যে কোনো জীবের বৈশিষ্ট্য নির্ধারণের ব্লুæ-প্রিন্ট। সার্স-কভ-২ এর জিনোমের আকার হচ্ছে ৩০ হাজার বেস পেয়ারের কাছাকাছি। ইতোমধ্যে এই ভাইরাসটি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পরিবর্তিত হয়েছে, যা এর রোগ সৃষ্টির ক্ষমতাকে প্রভাবিত করছে। ঢাবির এ সহকারী অধ্যাপক তার গবেষণায় দেখিয়েছেন, যেসব দেশে তুলনামূলকভাবে কম সংক্রমণ হয়েছে সেসব দেশে সার্স-কভ-২ ভাইরাসের একটি বিশেষ জিনে পরিবর্তন হয়েছে। তিনি এই পরিবর্তনের ওপর ভিত্তি করে সারা পৃথিবীর সার্স-কভ-২ ভাইরাসগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করেছেন।

তিনি বলছেন, এর ফলে ভাইরাসটিকে গবেষণার আওতায় আনা সহজ হবে। বাংলাদেশে চীন, ইতালি ও যুক্তরাজ্য থেকে সবচেয়ে বেশি কোভিড-১৯ আক্রান্ত ব্যক্তি এসেছেন। সুতরাং ওই সব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশে বিদ্যমান ভাইরাসের মিল থাকা স্বাভাবিক হলেও সত্যিকার চিত্র গবেষণা ছাড়া জানা সম্ভব নয়। ইতালির সব অঞ্চলে ভাইরাসের সংক্রমণ সমান নয়। যুক্তরাজ্যেরও সব জায়গায় মানুষ একই হারে আক্রান্ত হয়নি। এর পেছনে অন্যান্য কারণের সঙ্গে ভাইরাসের জিনের পরিবর্তনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

গবেষণার একটি নির্দেশনায় তিনি বলেছেন, বর্তমান আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অল্প খরচেই ভাইরাসের জিনোম তথ্য উদঘাটন করা সম্ভব। এ কাজটি দেশের বিশেষজ্ঞ বিজ্ঞানীদের সহযোগিতায় অতি শিগগিরই করা দরকার। আর পুরো জিনোম তথ্য না দেখেও কেবল পাঁচটি অবস্থান বিশ্লেষণ করলে সার্স-কভ-২ ভাইরাসটির ধরন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে। এভাবে খরচ আরো কমানো সম্ভব। বাংলাদেশে ভাইরাসটির কোন ধরন বিরাজ করছে তা উদঘাটন করতে পারলে কোভিড-১৯ মহামারির ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি বুঝতে তা অত্যন্ত সহায়ক হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj