শিক্ষা খাতে প্রণোদনা প্যাকেজ প্রয়োজন

বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২০

করোনার আগ্রাসী কবলে পড়ে বিশে^র অনেক দেশের মতো আমরাও সংকটে নিপতিত হয়েছি। বিশ^ব্যাপী করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের হার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে গৃহবন্দি মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে। বাড়ছে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের স্থবিরতা। চরম মন্দা ও দুর্ভিক্ষের পূর্বাভাস মিলছে। বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে এ বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে স্বল্পমেয়াদি আর্থিক প্রণোদনাসহ বেশকিছু স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় সমাজের প্রায় সব শ্রেণি ও পেশার মানুষ অন্তর্ভুক্ত হলেও শিক্ষা খাত এখনো তার বাইরে রয়ে গেছে। এ খাতটির গুরুত্ব অনস্বীকার্য।

জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সরাসরিভাবে হয় শিক্ষার্থী হিসেবে কিংবা শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী হিসেবে এ খাতে জড়িত। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রায় ৭৫ শতাংশ শিক্ষা অনুরাগীদের অনুদান কিংবা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রাপ্য ফি’র ওপর নির্ভরশীল। এ কথা প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক এমনকি বিশ^বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে বিভিন্ন মাত্রা ও অনুপাতে প্রযোজ্য যদিও বেসরকারি বিশ^বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে এই উক্তি শতভাগ সঠিক।

বেসরকারি বিশ^বিদ্যালয় সম্পর্কে ব্যাপক গালগল্প প্রচলিত থাকলেও এ খাতের একজন হিসেবে আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা হচ্ছে যে তৃতীয় প্রজন্মের প্রায় ৯০ ভাগ বিশ^বিদ্যালয় এখনো ব্রেক-ইভেন পয়েন্টে পৌঁছাতে গলদঘর্ম হচ্ছে। প্রায় দুই মাস ধরে তারা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি পাচ্ছে না যদিও বেসরকারি বিশ^বিদ্যালয়গুলো তাদের অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম তাদের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সহায়তা নিয়ে বিরতিহীন চালিয়ে যাচ্ছে। প্রথমদিকে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ আশাব্যঞ্জক না হলেও এখন দূর-দূরান্তে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের প্রায় শতাংশ এই অনলাইন কার্যক্রমে রয়েছে। বিশ^বিদ্যালয়গুলো আশা করছিল যে অনলাইন পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু হলে শিক্ষার্থীরা তাদের ফি পরিশোধ করবে এবং তা দিয়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন ভাতা পরিশোধ করা হবে।

সাধারণত বেসরকারি বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার আগেই তাদের ফি পরিশোধ করে থাকে। বর্তমানে পরীক্ষা নেয়া সম্ভব নয় বিধায় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফি আদায়ের পথ অবরুদ্ধ। এমতাবস্থায় শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মার্চের বেতন দেয়াই অনেক বিশ^বিদ্যালয়ের পক্ষে কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িতরা আর্থিক সংকটে নিপতিত হবেই। আমি বেসরকারি বিশ^বিদ্যালয়ের কথা বললেও দেশের প্রাথমিক স্কুল, মাদ্রাসা, মাধ্যমিক স্কুল, উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল, কলেজের পাঠদানরত শিক্ষক ও সহায়ক কর্মচারীদের বেতনভাতাদির ব্যাপারে সংকট ঘনীভূত হচ্ছে। করোনা পরিস্থিতি আর কতটা বিস্তৃত ও প্রলম্বিত হবে তা বলা বড্ড কঠিন। সিএনএন খবর থেকে জানা যায় যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিশেষত বিশ^বিদ্যালয়গুলো আগামী জানুয়ারি মাসের আগে কোনো শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করতে পারবে না। বাংলাদেশে এমন পরিস্থিতি যে হবে না, তা হলফ করে বলা যাচ্ছে না। বাংলাদেশে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকলেও আমাদের প্রতিবেশী ভারত মে মাসের প্রথম সপ্তাহ এবং বিশে^র অনেক দেশ মে মাসের অর্ধাংশ পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। আমার ধারণা যে হারে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে তাতে ছুটির মেয়াদ আরো কয়েক মাস বেড়ে যাবে। আশঙ্কা করছি যতই দিন যাবে ততই দেশে বেসরকারি উদ্যোগে পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাপকতর সংকটে নিপতিত হবে। এ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় রেখে এখনই বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিশেষত বেসরকারি বিশ^বিদ্যালয়গুলোর জন্য প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা প্রয়োজন।

আমাদের দেশে একটি প্রবাদ আছে যে, শিশু না কাঁদলে মাও দুধ দেয় না। এটা হাতে হাতে প্রমাণিত হয়েছে। আইনজীবীদের প্রণোদনা প্যাকেজ দাবির কারণেই সরকার সে ব্যাপারে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। আশা করা যাচ্ছে সরকার শিক্ষা খাতের বর্তমান আর্থিক সংকট ও ভবিষ্যতের ঘনায়মান আর্থিক দুরবস্থা বিবেচনা করে অতি শিগগিরই কোনো না কোনো ধরনের আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ নিয়ে হাজির হবে। অন্যথায় এ খাতে ব্যাপক কর্মচ্যুতির সম্ভাবনা রয়েছে।

অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী
মুক্তিযোদ্ধা, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও উপাচার্য, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
আ ব ম খোরশিদ আলম খান

ঘরে বসে তারাবিহ্র নামাজ পড়ুন

ড. এম জি. নিয়োগী

ধান ব্যাংক

মযহারুল ইসলাম বাবলা

করোনার নির্মমতার ভেতর-বাহির

অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী

শিক্ষা খাতে প্রণোদনা প্যাকেজ প্রয়োজন

মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী

করোনা যুদ্ধে জয়ী হওয়া

অধ্যাপক ড. অরূপরতন চৌধুরী

করোনা ভাইরাস এবং আমাদের যতœ

Bhorerkagoj